কাকা-ফুফুই ডাকব আঙ্কেল-আন্টি নয়

আগের সংবাদ

গাড়িটি ১৫ বছরের ট্যাক্স ফাঁকি

পরের সংবাদ

প্রজন্ম বাঁচবে কীভাবে?

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৮, ২০২০ , ৯:০৭ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০২০ , ৯:০৭ অপরাহ্ণ

এখন যে কোনো কিছুই ফেসবুকের মাধ্যমে সহজেই ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। আমরা যা-ই খুঁজি সব এখন ফেসবুকে পেয়ে যাচ্ছি। একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্লাটফর্ম হিসেবে আমরা সবাই এই ফেসবুক ব্যবহার করি। অনেকে ব্যবসায়িক আলাপও সারেন এর মাধ্যমে। কিন্তু এখন সেই জায়গাটা স্বল্প সময়ে দখল করছে পর্নো বা অশ্লীল ভিডিওতে। কাজের চেয়ে এসবে মগ্ন হয়ে পড়ছে তরুণ-তরুণী থেকে সব বয়সি। দেশে প্রায় ৯ কোটি ইন্টারনেট গ্রাহক ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ইমো বা হোয়াটসঅ্যাপে সহজেই পেয়ে যাচ্ছে যে কোনো ভিডিও। ছোট-বড়, যুব-বৃদ্ধ সবার হাতেই এখন স্মার্টফোন। সেই ফোনেই অনায়াসে এখন অশ্লীল ভিডিও, গল্প, ছবি সব পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে সমাজের সব শ্রেণির মানুষই অশ্লীল বা পর্নোতে আসক্ত হয়ে উঠছেন। বাড়ছে ধর্ষণের মতো ঘটনা। ইন্টারনেট মানুষের জীবনকে সহজ করে দিলেও এর অপব্যবহার সমাজকে ভাঙনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ভেতরে ভেতরে গড়ে উঠছে অসুস্থ প্রজন্ম।

সম্প্রতি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে ফেসবুকে ভিডিও ছেড়ে দেয় বখাটেরা। ভিডিওটি শহর-নগর-বন্দর সর্বত্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ভিডিওটি ছোট-বড় সবার মোবাইলে মোবাইলে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর আরো কয়েকটি ভিডিও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই যেমন জামালপুরের ডিসির ভিডিও। যা পুরো দেশেই আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এ রকম বেশকিছু ভিডিও এখন ফেসবুকে সহজেই পাওয়া যাবে।
আমাদের দেশে পর্নোগ্রাফি আইন-২০১২ রয়েছে, যার মাধ্যমে এই কাজে লিপ্ত ব্যক্তির সাত বছরের জেল ও ২ লাখ টাকা জরিমানার বিধান আছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮তে ১ কোটি টাকা জরিমানা ও ১৪ বছরের জেলের বিধান থাকলেও এই আইনের প্রয়োগ খুব একটা দেখা যায় না। এখন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে প্রবেশ করলেই অশ্লীল ছবির ছড়াছড়ি। যার যেমন ইচ্ছা ছবি আপলোড দিচ্ছে এসব যোগাযোগ মাধ্যমে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে নেই কোনো সোচ্চার এবং ব্যবস্থা। যদিও যারা অশ্লীল ভিডিও করে এবং এর প্রসার ও প্রচার ঘটায় সবার বিরুদ্ধে একই শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু আমরা এর কিছুই দেখছি না বর্তমানে।

আমাদের দেশে প্রাপ্ত বয়স্ক এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক সবাই ফেসবুক ব্যবহার করছে। তরুণ-তরুণীরা আবার ইনস্টাগ্রামও ব্যবহার করে। এসব মাধ্যমে আপনি চাইলেই অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিতে পারেন আবার এসব দেখতেও পারেন। সার্চবক্সে আপনি যা-ই সার্চ দেবেন তা-ই পাবেন। মূলত এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পরিচালিত হয় অন্যদেশ থেকে। এবং এখানে সারা বিশ্বের মানুষ যুক্ত থাকে। তাই এখানে অশ্লীলতা বন্ধ করা বেশ কঠিন। যদিও প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানটি চাইলে এসব অশ্লীলতা বন্ধ করতে পারে। এছাড়া আমাদের তরুণ-তরুণীদের এদিক থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজন নৈতিকতা এবং ধর্মীয় নীতি অনুসরণ করা। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের গাইড করা। তবেই আগামী প্রজন্ম এই অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকবে। নয়তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীলতার যে ছড়াছড়ি তাতে এই ভয়ঙ্কর ব্যাধি থেকে বাঁচা বেশ কঠিন।

খুলশী-১, চট্টগ্রাম ৪২০২।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়