ক্রিকেটে জুয়া

আগের সংবাদ

প্রেমে বাধা দেয়ায় কুপিয়ে কৃষক হত্যা

পরের সংবাদ

কারাগারে হোক কারিগরি শিক্ষা

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৮, ২০২০ , ৮:৫৯ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০২০ , ৮:৫৯ অপরাহ্ণ

কারাগার আধুনিক সভ্যতায় বন্দিদের সংশোধন ও সুপ্রশিক্ষিত করে সভ্য সমাজের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন কারণে মানুষ অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে। আইন অনুসারে শাস্তি প্রদানের পাশাপাশি তাকে সংশোধন করে গড়ে তোলার দায়িত্ব বাংলাদেশ কারা বিভাগের। ‘রাখিব নিরাপদ দেখাব আলোর পথ’ এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে দেশের কারাগারসমূহে আগত বিপথগামী লোকদের সঠিক প্রেষণা প্রদানের মাধ্যমে তাদের কৃত ভুল বুঝতে সহায়তা করা ও সংশোধন করা এবং বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সঠিক প্রশিক্ষণ প্রদান করে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে কারা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বন্দিদের নিরাপদ আটক নিশ্চিত করা, কারাগারের কঠোর নিরাপত্তা ও বন্দিদের মাঝে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, বন্দিদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা, যথাযথভাবে তাদের বাসস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা এবং আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিশ্চিত করা এবং একজন সুনাগরিক হিসেবে সমাজে পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা।

বর্তমানে কারাগারে আটক বন্দিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিরূপণ করত তাদের আগ্রহ অনুসারে বিভিন্ন ট্রেডে নিয়োজিত করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের বিভিন্ন ট্রেডে নিয়োজিত করে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদান করত দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা হয়। যাতে করে বন্দি সাজা ভোগের পর মুক্ত জীবনে ফিরে গিয়ে নানা রকম বিভিন্ন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে। বন্দিদের চরিত্র সংশোধনের জন্য নানাবিধ প্রেষণামূলক প্রশিক্ষণ ক্লাস চালু রয়েছে, যেমন টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি, রেডিও, ফ্যান, চার্জার লাইট মেরামত, গবাদিপশু পালন, কাগজের প্যাকেট তৈরি, বেকারি, গার্মেন্টস, মৎস্য চাষ ইত্যাদি। কারা কর্তৃপক্ষের মূলমন্ত্র ‘রাখিব নিরাপদ দেখাব আলোর পথ’ বাস্তবায়নের জন্য একজন বন্দি সাজা ভোগের পর মুক্ত জীবনে ফিরে গিয়ে নানা রকম বিভিন্ন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করতে হলে ভোকেশনাল পর্যায়ে একাডেমিক শিক্ষাক্রম চালু করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এক্ষেত্রে ৫৫টি জেলা কারাগারে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত জেএসসি (ভোকেশনাল), নবম ও দশম শ্রেণিতে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে এইচএসসি (ভোকেশনাল) চালু করার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া ১৩টি কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যাচেলর অব ভোকেশনাল (ই.ঠড়প)/স্নাতক (ভোকেশনাল) কোর্স চালু করার প্রয়োজন রয়েছে। একজন অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করার পর জেএসসি (ভোকেশনাল) কোর্সে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। একইভাবে অষ্টম শ্রেণি পাসকৃত সাজাপ্রাপ্ত বন্দি এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে, এসএসসি পাসকৃত বন্দি এইচএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে ও এসএইচসি পাসকৃত বন্দি ব্যাচেলর অব ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করবে।

কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির জন্য একাডেমিক কার্যক্রমে পড়াচলাকাীন সময় সাজাপ্রাপ্ত কারা বন্দিকে জেএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে ৭৫০ টাকা, এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে ১ হাজার টাকা, এইচএসসি (ভোকেশনাল) ১ হাজার ২৫০ টাকা ও ব্যাচেলর অব ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমে ১ হাজার ৫০০ টাকা হারে মাসিক বৃত্তি প্রদান করতে হবে। এছাড়া ব্যাচেলর অব ভোকেশনাল কোর্সটি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চালু করতে হবে। সবশেষে বলা যায় প্রতিটি কারাগারে বৃত্তিমূলক শিক্ষায় একাডেমিক কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে প্রতিটি সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে সত্যিকারের আলোর পথ দেখানো সম্ভব হবে।

ট্রেড ইন্সট্রাক্টর, ডোনাভান মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পটুয়াখালী।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়