গাড়িটি ১৫ বছরের ট্যাক্স ফাঁকি

আগের সংবাদ

কী হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে?

পরের সংবাদ

করোনায় বাল্যবিয়ে

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৮, ২০২০ , ৯:১৪ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০২০ , ৯:১৪ অপরাহ্ণ

করোনা মহামারি বিশ্বব্যাপী বহু পরিবারকে দারিদ্র্যের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ফলে মেয়েদের মা-বাবারা মনে করছেন, মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেয়া ছাড়া এই মুহূর্তে তাদের আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। জীবিকা নির্বাহের উৎস সংকুচিত হয়ে যাওয়ায়, পরিবারের ওপর থেকে চাপ কমাতে অনেক বাবা-মা তাদের মেয়েদের অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। তাছাড়া অনেক পরিবারই করোনার কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শহর থেকে গ্রামে ফিরে গেছে। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের অভিভাবক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মেয়েদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আবার করোনাকালে অনেক প্রবাসী অবিবাহিত যুবক দেশে ফিরে এসেছেন। মা-বাবাও তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে এ রকম যুবকদের নিকট বিয়ে দিতে নিরাপদ বোধ করছেন। যার ফলে বাল্যবিয়ে দেয়ার প্রবণতা বেড়েই চলছে।

আগের তুলনায় এখন বাল্যবিয়ে রোধের হার কেন কমে যাচ্ছে সেটার কারণ হিসেবে, স্কুল বন্ধ থাকা ও করোনার কারণে বিভিন্ন সংস্থা পুরোদমে কাজ করতে না পারাকেও বিবেচনা করা যেতে পারে। বাল্যবিয়ের ফলে একজন কিশোরীকে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ১৮ বছরের আগে বিয়ে হলে দেখা যায় পারিবারিক ও সামাজিক চাপে বিয়ের ১ বছরের মধ্যেই বেশিরভাগ কিশোরী মেয়ে গর্ভধারণ করে ও সন্তান জন্ম দেয়। একটি মেয়ের শরীর ২০ বছর বয়সের আগে গর্ভধারণ ও সন্তান জন্ম দানের জন্য উপযুক্ত হয় না। তাই ২০ বছর বয়সের আগে গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদান একটি কিশোরী মায়ের ও তার সন্তানের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কিশোরী মেয়েদের সহজাত উচ্ছ্বাস, বৃদ্ধি এবং গতিশীলতাকে থামিয়ে দেয়। লেখাপড়া শেষ না করেই বিবাহিত কিশোর-কিশোরীরা স্কুল-কলেজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। বাল্যবিয়ের কারণে দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণসমূহের সুযোগ গ্রহণ করা সম্ভব হয় না এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের অভাব তৈরি হয়, যার ফলে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিবন্ধকতাসমূহ সমাধানে দক্ষতার অভাব থেকেই যায় এবং কোনো বিষয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি গঠিত হয় না। পরিবারের আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য অল্প বয়সেই পেশাগত জীবনে প্রবেশ করতে হয়। উচ্চশিক্ষা এবং দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে অল্প আয়ের পেশায় নিয়োজিত হতে হয়, যা অধিকাংশ সময়ই শারীরিক পরিশ্রমের কাজ হয়ে থাকে। প্রচলিত শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকার কারণে পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত জ্ঞানের অভাব থেকে যায়, যার ফলে অধিক সন্তান গ্রহণের প্রবণতা তৈরি হয়। কৈশোরকালে গর্ভধারণের ফলে মেয়েরা অপুষ্টিতে ভোগে এবং গর্ভকালীন সময়ে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়। অপ্রাপ্ত বয়সে সন্তান প্রসবের কারণে মা ও শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। স্বাস্থ্য পরিচর্যায় ব্যয় বেড়ে যায়, যা পরিবারের জন্য একটি বোঝা হয়ে দেখা দেয়। অধিক সন্তান ধারণের ফলে সময়ের পূর্বেই নারীরা বার্ধক্যে উপনীত হয়। অল্প বয়সে বিয়ের ফলে পুরুষদের মধ্যে একাধিক বিয়ের প্রবণতা তৈরি হয়। এগুলোর মতো বাল্যবিয়ের আরো নানা রকম ক্ষতিকর দিক থাকতে পারে।

এখন সময় এসেছে বাল্যবিয়ে রোধ করে জাতিকে ধ্বংসের দিকে অগ্রসর হওয়া থেকে রক্ষা করার। বাল্যবিয়ের কারণে শুধু ভুক্তভোগীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, সমগ্র জাতি বিভিন্নভাবে বিশেষ করে বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বাংলাদেশের বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন রয়েছে, রয়েছে বাল্যবিয়ে সম্পর্কে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার নানা ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি। তার পরেও বাল্যবিয়ে কেন রোধ করা যায় না তা আসলেই ভাবনার বিষয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো নিলে বাল্যবিয়ে রোধ করা সম্ভব : মেয়েদের শিক্ষা পদ্ধতি এমন হওয়া প্রয়োজন, যেন শিক্ষা শেষে চাকরির নিশ্চয়তা থাকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়ার একটা বড় কারণ বাল্যবিয়ে। এ ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। মেয়েরা যেন শিক্ষা, চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার না হয়, সেটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এনজিওগুলো পৃথকভাবে কাজ করে। সরকার ও এনজিও সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। দরিদ্র মানুষরা যেন সহজে আইনি প্রতিকার পায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তার সঙ্গে সঙ্গে বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে জনমত জোরদার করতে হবে। বাল্যবিয়ে রোধে সরকারি এবং সামাজিকভাবে আরো বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রশাসনের নজরদারি এবং ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার মাধ্যমেই সমাজ থেকে এই ব্যাধি দূর করা সম্ভব।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়