শিক্ষায় ফেরার চেষ্টা

আগের সংবাদ

রিফাত হত্যাকাণ্ড: অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির রায় আজ

পরের সংবাদ

সাইবার অপরাধ ও আমাদের সচেতনতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৬, ২০২০ , ১০:৪৩ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৬, ২০২০ , ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

করোনা সংকটেও সাইবার অপরাধ কমেনি। বরং ক্ষেত্রবিশেষে বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে অপরাধ হচ্ছে বেশি। দেশে প্রচলিত সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থা ও প্রচলিত আইন রুখতে পারছে না অপরাধীদের। তথ্যপ্রযুক্তি অপরাধ শনাক্তে দুর্বল জেনে অপরাধী চক্র দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বিষয়টি নিঃসন্দেহে আতঙ্কের। করোনা এই সময়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগেই বেশি মামলা হচ্ছে। এছাড়া মন্ত্রী, এমপি বা সরকারি দলের নেতাদের নিয়ে মিথ্যা সংবাদ ও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, চিকিৎসা নিয়ে সমালোচনা করা, ত্রাণ চুরির মিথ্যা খবর পরিবেশন করা, ধর্মের অবমাননা, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কট‚ক্তি প্রভৃতি কারণে মামলা হচ্ছে। ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস ও লিংক শেয়ারের পাশাপাশি অপরাধীরা করোনা নিয়ে গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও তৎপরতা রয়েছে। সাইবার অপরাধ ট্রাইব্যুনালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৩ সাল থেকে গত ৩১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২৪টি মামলার রায় ঘোষণা করেছে সাইবার ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় ২৯টি মামলায় আসামির সাজা হয়েছে। প্রযুক্তির এই যুগে কম্পিউটার, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন ছাড়া জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব। প্রযুক্তি জনমুখী হয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে মানুষকে। এটা যেমন সত্য এবং যুগের বাস্তবতা, তেমনি এর অপব্যবহারও হয়ে উঠছে মানুষের যন্ত্রণার অন্যতম কারণ। স্কুল-কলেজ পড়–য়া অল্পবয়সী মেয়েরাই এসব প্রতারণার শিকার হচ্ছে বেশি। শুধু যে নারী নিগ্রহের লক্ষ্যেই সাইবার অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে তা নয়, আর্থিক ক্ষেত্রেও সাইবার অপরাধীরা ভয়ঙ্কর অপরাধ করে চলেছে। মোবাইল ফোনে ভুয়া মেসেজ দিয়ে নম্বর হ্যাক করে ব্যাংক একাউন্ট থেকে অর্থ লোপাট করার মতো ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এছাড়া আরেকটি বড় অপরাধ প্রবণতা হলোÑ ইন্টারনেটে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো। আমরা প্রায়ই সংবাদ মাধ্যমে ইন্টারনেট কেন্দ্রিক প্রতারণা ও অপরাধের খবর পাচ্ছি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টরাই বলছেন, এ সংক্রান্ত অপরাধের মাত্রা আরো বেশি, অনেক অপরাধের খবরই সংবাদ মাধ্যমে আসে না। মানসম্মানের ভয়ে অনেকে এরকম অপরাধের শিকার হয়েও থানা পুলিশ কিংবা অন্য কোনো সংস্থার কাছে অভিযোগ করছেন না। ফলে অনেক ঘটনাই বিচারের আওতায় আসছে না আর যেগুলো আসছে, সেগুলোরও অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের শনাক্ত করা যায় না। এক্ষেত্রে আমাদের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। মনে রাখতে হবে, সাইবার অপরাধ যেমন বাড়ছে তেমনি তা দমনেও অপরাধ তদন্ত বাহিনীকে প্রশক্ষিত হওয়া দরকার। প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন হচ্ছে এবং অপরাধীরা সে প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে অপরাধ করে চলেছে। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে যারা মাঠপর্যায়ে অপরাধ তদন্তে কাজ করছেন তাদেরও এ ব্যাপারে দক্ষতা বাড়াতে হবে। দেশের নিরাপত্তা এবং সুনাম রক্ষার স্বার্থে, সাইবার অপরাধী শনাক্ত এবং দমনে প্রযুক্তিপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গড়ে তোলার বিকল্প থাকতে পারে না। সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে বলে আশা করি।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়