অবৈধ হ্যান্ডসেটের সেবা বন্ধ করবে সরকার

আগের সংবাদ

ভ্যানটিলিটর দিয়ে দেখে মৃত অবস্থায় পরে আছে

পরের সংবাদ

হাওরের মানুষদের শেষ আশ্রয়স্থল প্রধানমন্ত্রীই: পীর মিসবাহ

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২০ , ১০:০৭ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৫, ২০২০ , ১০:১১ অপরাহ্ণ

সুনামগঞ্জ-৪ আসনের (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলের হুইপ অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেছেন, হাওর অধ্যুষিত প্রান্তিক জেলা সুনামগঞ্জের মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উপহার দিচ্ছেন। কিন্তু আমরা দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি যে সবগুলো প্রতিষ্ঠানই দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শান্তিগঞ্জে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা সদরকে বঞ্চিত করে দুই কিলোমিটার আয়তনের মধ্যে এতগুলো প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ রহস্যজনক। জেলা সদরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে সুনামগঞ্জের সব মতপথের মানুষ আজ এক মঞ্চে এসে দাঁড়িয়েছেন। আমরা আমাদের আস্থার জায়গা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি জানাতে এই ট্রাফিক পয়েন্টে আজ সমবেত হয়েছি। হাওরের সমস্ত মানুষের সুবিধার জন্য প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন সুনামগঞ্জ জেলা সদরে স্থাপিত হয়। জেলা সদরের সাথে সকল উপজেলার যোগাযোগ রয়েছে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শন্তিগঞ্জের পরিবর্তে জেলা সদরে স্থাপনের দাবিতে রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে সদর আসনের এমপি মিসবাহ মানববন্ধনের ডাক দিলে স্বতস্ফূর্ত জনগণের অংশগ্রহণে বিশাল জনসভায় পরিণত হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি বলেন, আপনাদের সন্তান ও প্রতিনিধি হিসেবে আমি কখনো রাজপথ ও সংসদে বোবা হয়ে থাকিনি, থাকবো না। গণমানুষের প্রাণের দাবি নিয়ে সংসদে সংশোধনী আনবো। ‘সুনামগঞ্জবাসীর’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। দাবির সাথে একাত্মতা জানাতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ খন্ডখন্ড মিছিল নিয়ে যোগ দেন। এক পর্যায়ে মানবন্ধন জনসমাবেশে রূপ নেয়। প্রতিবাদী মানুষের পদভারে ভরে উঠে গোটা ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে তিনদিকের জনপথ। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় জনস্রোতে।

পীর মিসবাহ আরো বলেন, সুনামগঞ্জের অধিকার বঞ্চিত মানুষেরা আজ বিক্ষুব্ধ, ব্যতীত। তাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমি অতীতে কথা দিয়েছিলাম মানুষের অধিকারের ব্যাপারে জাতীয় সংসদে ও রাজপথে কখনো বোবা নয় সরব থাকবো। এই তাগিদ থেকে আমি জেলাবাসীর পক্ষে আজ রাজপথে দাঁড়িয়েছি। আমরা জানি শান্তিগঞ্জের দুই কিলোমিটারের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমস্ত মেগা প্রকল্প যদি নিয়ে যাওয়া হয় তবে শতবর্ষী এই সুনামগঞ্জ জেলা সদর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যাবে। এতে আমাদের ও প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের মৃত্যু হবে। হাওরের বিস্তীর্ন অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কোন দিন শেষ হবে না।

এমপি পীর মিসবাহর মানববন্ধনে স্বতস্ফূর্ত জনগণের অংশগ্রহণ

তিনি বলেন, মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী আপনার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। আপনি শুধু শান্তিগঞ্জের মন্ত্রী নন। আপনি এই সুনামগঞ্জ তথা বাংলাদেশের মন্ত্রী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে সম্মান দিয়েছেন, আমরাও আপনাকে সম্মান করি। প্রধানমন্ত্রী হাওরের মানুষকে ভালবেসে এই সুনামগঞ্জের উন্নয়নে প্রকল্প দেন, যা কোন মন্ত্রী-এমপির দান-অনুদান নয়, এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার। আপনি সবকিছুই শান্তিগঞ্জে নিতে পারেন না। আপনি আমাদের প্রতি সুবিচার করুন, আমরা আপনাকে সম্মান করবো, স্মরণ রাখব। বঙ্গবন্ধুর মতো প্রধানমন্ত্রীও বলেন, আমার কাছে গোপালগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এক। প্রধানমন্ত্রীর এই দরদ, ভালোবাসা, উপহার নিয়ে কেউ অবিচার করতে পারেন না।

পীর মিসবাহ বলেন, যেহেতু হবিগঞ্জ, চাঁদপুরের বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধন করে জেলা সদরে স্থাপন করা হচ্ছে, তাই আমি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলাম আমাদের বিশ্ববিদ্যায়টিও যোগাযোগ সুবিধা দিক থেকে এগিয়ে থাকা সদরে স্থাপিত হবে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতি ও মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীকে লিখিত আবেদন করেছিলাম জেলা সদরে যেনো বিশ্ববিদ্যালয় হয়। কিন্তু মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জানান, পরিকল্পনামন্ত্রী শান্তিগঞ্জে প্রতিষ্ঠার লিখিত আবেদনই দেননি, কোন মৌজায় হবে তাও নির্ধারণ করে দেন। সেদিন ব্যথিত হৃদয়ে সংসদ থেকে আমাকে বের হয়ে আসতে হয়েছিলো। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য শিক্ষামন্ত্রী আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন।

পীর মিসবাহ বলেন, আমি সুনামগঞ্জে পরিকল্পনা মন্ত্রীকে দেয়া স্টেডিয়ামের সংবর্ধনা সভায়ও সদরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুরোধ করেছিলাম। সংসদেও অনেক বলেছি। ৮ তারিখ সংসদে বিল পাশের জন্য উত্থাপন হলে শান্তিগঞ্জ নয়, জেলা সদরে প্রতিষ্ঠার সংশোধনী দেবো। একই সঙ্গে আমাদের শেষ ভরসার স্থল জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো সুনামগঞ্জের গনমানুষের প্রাণের দাবি গ্রহণ করে আমার সংশোধনীটি গ্রহণ করতে। আমার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী মানুষের প্রাণের দাবি রাখবেন। আমার প্রতি তার অগাধ স্নেহ রয়েছে।

তিনি বলেন, মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী আপনি একজন সৎ ও সজ্জন মানুষ। এই যে সরকারে এতগুলো প্রতিষ্ঠান শান্তিগঞ্জের দুই কিলোমিটারের মধ্যে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আপনাকে যারা মৌজা উল্লেখ করে দেয়, কোন মৌজায় কোন প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হবে- সেইসব মৌজায় নতুন করে ক্রয়সূত্রে কারা ভূমির মালিক হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখলে অনেককিছুই আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

পীর মিসবাহ বলেন, টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট, বস্ত্র সচিব থাকতে ফণীভূষণ চৌধুরী ছাতকে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। কাজও অগ্রসর হয়। তিনি ক্যান্সারে মারা যান। এটা একদিন বিশ্ববিদ্যালয় হবে। সেটিও আজ শান্তিগঞ্জে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটা কী ন্যায় সঙ্গত? বিআরটিএ অফিস কাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যুব মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, দুটি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র মুজিব কেল্লা- সবগুলো প্রতিষ্ঠানই জেলা সদরকে বঞ্চিত করে হয় শান্তিগঞ্জ, না হয় শান্তিগঞ্জের পাশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যে কারণে আমরা বসে থাকতে পারি না। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া মেডিকেল কলেজ ও নামে জেলা সদরে হলেও শান্তিগঞ্জের দুই কিলোমিটারেরর মধ্যে রয়েছে। জেলার মন্ত্রী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সব উপহার শান্তিগঞ্জে নিলে জনগণ মানবে না। যারা বিভ্রান্তি ছড়ান আন্দোলন হলে বিশ্বব

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়