তৃণমূলে বাড়ছে কোন্দল

আগের সংবাদ

বিদেশ গমনেচ্ছুক সবাইকে নিতে হবে ই-পাসপোর্ট

পরের সংবাদ

দুই বর্ষের অনুষ্ঠান সমন্বয়ের ভাবনা

সুবর্ণজয়ন্তীতেও পালন করা হবে মুজিববর্ষের কর্মসূচি

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২০ , ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৫, ২০২০ , ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ

যুগপৎভাবে সমন্বয়ের মাধ্যমে পালন করা হবে বাঙালির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ‘মুজিববর্ষে’র বাকি অনুষ্ঠান এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান। ইতিহাসে অনন্য অসাধারণ দুই বর্ষের কর্মসূচির সমন্বয় করে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে বাঙালির অর্জন, সাফল্য ও বঙ্গবন্ধুকে দেশে-বিদেশে উপস্থাপন করার জন্য শিগগিরই একটি কমিটি করতে যাচ্ছে সরকার।

অন্যদিকে মুজিববর্ষের সমাপনী অনুষ্ঠান ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান একইদিনে হবে নাকি আলাদা আলাদা দিনে উদযাপন করা হবে এ ব্যাপারেও চিন্তা-ভাবনা চলছে। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ২৭ অক্টোবর বৈঠকে বসছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। বৈঠকে মুজিববর্ষের সমাপনী অনুষ্ঠানের কর্মসূচি ঠিক করা হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিটি। ঐতিহাসিক দুই বর্ষের একটির সমাপ্তি এবং অন্যটির উদ্বোধন একইদিনে করা যায় কিনা- এসব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ওই বৈঠকে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বব্যাপী মহামারি কোভিড-১৯ এর কারণে শুরুতে হোঁচট খেয়েছে বাঙালির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষের বছরজুড়ে বর্ণাঢ্য কর্মসূচিগুলো। ঝমকালো আয়োজনে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হলেও দেশে করোনা ভাইরাস রোগী শনাক্তের পর বাতিল করা হয় প্যারেটগ্রাউন্ডের বর্ণিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হওয়া উদ্বোধনী কর্মসূচির মতোই গত ৯ মাসে দেশি-বিদেশি কর্মসূচিগুলো ছিল অনলাইনভিত্তিক। ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে যথাযথভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। এ কারণে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করে দেয়া হবে মুজিববর্ষের কর্মসূচিও।

জানা গেছে, মুজিববর্ষের বাকি কর্মসূচিগুলো ডিজিটাল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যেসব বিশিষ্ট নাগরিকের বাংলাদেশে আসার কথা ছিল করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে তাদের আসাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আগামী দিনের অনুষ্ঠানগুলোতে ডিজিটাল মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হতে পারে। দেশের বাইরের অনুষ্ঠানগুলোও অনলাইন পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মুজিববর্ষের কিছু অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্যভাবে পালন করা সম্ভব হবে। কারণ ততদিনে হয়তো করোনা পরিস্থিতি পেরিয়ে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে পৃথিবী।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কালের পরিক্রমায় বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ শব্দগুলো সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান ও মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান সমন্বয় করা তাই সহজ হবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জাতির উদ্দেশে সর্বশেষ ভাষণে সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান ও মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান প্রয়োজনে যুগপৎভাবে পালন করার কথা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে শিগগিরই কমিটি করতে যাচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এদিকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আহ্বানে সংসদের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৮ নভেম্বর। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ১ নম্বর দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতির আহ্বানে অনুষ্ঠিতব্য এ অধিবেশনে মহামারি করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও সুস্থ এমপিদের সংসদে উপস্থিত থাকার উৎসাহ দেয়া হবে। এছাড়া মুজিববর্ষে জাতীয় সংসদের ১০টি কর্মসূচির মধ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলমান। এছাড়া আগামী নভেম্বরে মুজিববর্ষের ওয়েবসাইট উদ্বোধন, স্মারক ডাকটিকেট উন্মোচন, ৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস উদ্যাপন, মাসব্যাপী আলোকচিত্র ও প্রামাণ্য দলিল প্রদর্শনী, ‘সংসদে বঙ্গবন্ধু’ বই প্রকাশনা, শিশুমেলার মতো কর্মসূচি পালন করা হবে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বঙ্গবন্ধুর জীবন, কর্ম ও আদর্শের রাজনীতি তুলে ধরার জন্য বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর অনুষ্ঠানের পাশাপালি বিশে^র কয়েকটি দেশে বঙ্গবন্ধুর ওপর মিডিয়া কনফারেন্স করা হবে। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন এবং বিশ্ব ভারতীসহ বিদেশি আরো পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার স্থাপন। ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজে বঙ্গবন্ধু সেন্টার, লন্ডনে মাদাম তুসো মিউজিয়ামে ও জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর নামে একাধিক পুরস্কার প্রবর্তন করা হবে। বঙ্গবন্ধুর নির্বাচিত ভাষণ ইংরেজি ছাড়াও আরো ১২টি- হিন্দি, উর্দু, ফরাসি, জার্মান, চাইনিজ, আরবি, ফার্সি, স্প্যানিশ, রুশ, ইতালিয়ান, কোরিয়ান ও জাপানি ভাষায় অনুবাদ করা হবে। বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক ১০০ প্রকাশনা হবে।

জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আবদুল মোমেন ভোরের কাগজকে বলেন, মুজিববর্ষের কার্যক্রম থেমে নেই। দেশে নানা অনুষ্ঠান চলছে। দেশের বাইরের প্রোগ্রামগুলোও চলছে। করোনার কারণে জমায়েতটা শুধু বন্ধ আছে। আমরা এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে জুম অ্যাপ ব্যবহার করে কর্মসূচিগুলো চালিয়ে যাচ্ছি। বিদেশেও একইভাবে অনুরূপ কর্মসূচি চলছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সঙ্গে মুজিববর্ষের কর্মসূচির সমন্বয় করা হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে এখনই এ ব্যাপারে বলার সময় আসেনি বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়
close