ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখেই চূড়ান্ত অনুমোদন

আগের সংবাদ

এবার আশুলিয়ায় ক্যাসিনোর সন্ধান গ্রেপ্তার ২১

পরের সংবাদ

প্রাণ বাঁচাতে বায়ুদূষণ রোধ

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২০ , ৮:২০ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৫, ২০২০ , ৮:২০ অপরাহ্ণ

বায়ুদূষণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘হেলথ এফেক্টস ইনস্টিটিউট’ এবং ‘ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স এন্ড ইভালুয়েশন’ সম্প্রতি বায়ুর মানের দিক থেকে এশিয়াকে বিশে^র সবচেয়ে দূষিত অঞ্চল বলে ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থার দেয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে বসবাসকারী শতভাগ মানুষ এমন এক পরিবেশে বাস করছে যেখানকার বাতাসের মান ডবিøউএইচও এয়ার কোয়ালিটি গাইড লাইনে থাকা পিএম ২.৫ স্তরের চেয়ে অধিক। ইউনিসেফ বলছে, বিশ্বে ৩০ কোটি শিশু দূষিত বায়ু অধ্যুষিত এলাকায় বাস করে যার মধ্যে ২২ কোটিই দক্ষিণ এশিয়ায়। আর বায়ুদূষণের কারণে বিশে^ প্রতি বছর শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সি ৬ লাখ শিশুর মৃত্যু ঘটে। ঢাকার অবস্থা পর্যালোচনা করে বিশ^ব্যাংক জানাচ্ছে, পারিপার্শি^ক বায়ুদূষণের কারণে বছরে মারা যায় সাড়ে ৬ হাজার মানুষ এবং আবাসিক দূষণের কারণে বছরে সাড়ে ৪ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘ঢাকার বায়ুদূষণের ৫৮ শতাংশের উৎস মহানগরীর আশপাশের ইটভাটা। এছাড়া রাস্তাঘাটের ধুলা, মোটরগাড়ি ও কারখানার দূষণ মিলে ২৬ শতাংশ’। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাবে ৫ বছর আগেও এই তিন খাতে বায়ুদূষণের মাত্রা ছিল ১৫ শতাংশ। ক্ষতিকর উপাদানের ব্যাপকহারে নিঃসরণ শহরে বসবাসকারী বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। দূষিত বায়ু মানবদেহের ফুসফুসের ক্যানসার থেকে শুরু করে স্ট্রোক, হৃদযন্ত্র ও অ্যাজমাসহ শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক ব্যাধির কারণ হতে পারে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দ্রুত শিল্পায়নের এই অশুভ প্রতিযোগিতায় পড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে, লাগামহীনভাবে বেড়ে চলছে দূষণ।

৪০ বছর ধরে ঢাকা শহরে সুউচ্চ ভবন নির্মাণসহ অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন ও নন-কমপ্লায়েন্স শিল্পকারখানা স্থাপনের ফলে বাতাসে যুক্ত হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক পদার্থ। বিক্ষিপ্ত নগরায়ণের কারণে ৭৫ শতাংশ চাষযোগ্য জমি হারিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া কলকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য, মেয়াদোত্তীর্ণ মোটরযানের অনিয়ন্ত্রিত কালো ধোঁয়া বাতাসে সবচেয়ে বেশি কার্বন মনো অক্সাইডের বিস্তার ঘটায়। এসব উৎস থেকে সৃষ্ট মিথেন, ইথেলিন বাতাসে মিশ্রিত হয়ে প্রাণীদেহে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে। চামড়া শিল্প, রং কারখানা, রাসায়নিক গবেষণাগার, পয়ঃশোধনাগার থেকে উৎপন্ন হাইড্রোজেন সালফাইড জীবজগতের অস্তিত্বের ওপর হুমকিস্বরূপ।

বাতাসকে দূষণমুক্ত রেখে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য জরুরি নির্মাণাধীন ভবন ও রাস্তাঘাট থেকে উৎপন্ন ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ করা। রাস্তায় পানি ছিটিয়ে ধুলাবালি উড়া বন্ধ করতে হবে। নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ট্রাককে রাস্তায় চলাচলের সময় ত্রিপল দিয়ে ঢেকে নিতে হবে। শিল্পকারখানাকে শহর থেকে দূরে স্থাপন, কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণসহ শিল্পবর্জ্যরে নিরাপদ অপসারণ নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাসহ যানবাহনে সিসামুক্ত জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। নিরাপদ দূরত্বে ইটভাটা স্থাপন এবং ভাটায় চিমনি যথাযথ উচ্চতায় ব্যবহারের মাধ্যমে কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে নিশ্চয়তা বিধান অত্যাবশ্যক। জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। অনিয়ন্ত্রিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, রাস্তার পাশে যত্রতত্র ময়লা ফেলা ও উন্মুক্ত ডাস্টবিন স্থাপন বন্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশের বায়ুদূষণ প্রতিরোধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যকর ভ‚মিকা অত্যাবশ্যক। রাজধানীসহ সারাদেশের বায়ুদূষণ রোধে সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী সংস্থাসমূহের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। বাতাসকে দূষণমুক্ত রাখতে জনগণকেও হতে হবে পরিবেশ সচেতন।

মালিবাগ, ঢাকা।
[email protected]

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়