অকার্যকর বেশিরভাগ থানার নারী ও শিশু সহায়তা কেন্দ্র

আগের সংবাদ

নাট্যদলগুলো দ্বিধা আর শঙ্কায়

পরের সংবাদ

সহসা কাটছে না মামলা জট

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০২০ , ১০:১০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০২০ , ১০:১০ পূর্বাহ্ণ

ভার্চুয়াল ও অ্যাকচুয়াল পদ্ধতিতে কোর্ট
বিচারকদের কর্মঘণ্টা পূর্ণভাবে ব্যবহারের মনিটরিং

দেশের আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৩৮ লাখ। বছরে বছরে বেড়েই চলেছে এ মামলা জট। জট নিরসনের বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও তা কোনো কাজে আসছে না। সাম্প্রতিক সময়ে মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ৫ মাস স্বাভাবিকভাবে আদালতের কার্যক্রম না চলায় মামলার জট আরো বেড়েছে। বিচারাধীন মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে না হওয়ায় বিচারাধীন মামলা জটতালিকায় যুক্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম না চলায় সৃষ্ট মামলা জট থেকে উত্তরণে বেশকিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিলেও বাস্তবে তা কাজে আসছে না। সংশ্লিষ্টরা মনে করেণ করোনাকালে অল্পসংখ্যক কোর্ট দিয়ে মামলার জট কমানো সম্ভব নয়।

সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালে গত ১১ মে থেকে সীমিত পরিসরে ভার্চুয়াল কোর্টে বিচারকাজ শুরু হয়। এ সময়ে শুনানির অপেক্ষায় পড়েছিল লাখ লাখ মামলা। অথচ বিচারকাজ না চললেও কারোনাকালীন সময়ে নতুন মামলা হয়েছে প্রায় স্বাভাবিক সময়ের মতোই। এতে করে ভোগান্তিতে পড়ে বিচারপ্রার্থীরা।

গত জুলাই পর্যন্ত দেশের আদালতগুলোয় প্রায় ৩৮ লাখ মামলা বিচারাধীন ছিল। অথচ গত ডিসেম্বরেই এ সংখ্যা ছিল ৩৭ লাখের কাছাকাছি। ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে ২৩ হাজার ৬১৭টি মামলা এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮টি মামলা। দেশের বিচারিক আদালতসহ মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭২৮টি। করোনাকালে গত ৫ মাসে দেশের সব বিচারিক আদালতে লাখ লাখ মামলা ফাইল করা হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে এর তুলনায় খুবই কম। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল আদালতেও একই অবস্থা। এতে করে মামলা জট বেড়েই চলেছে। ভোগান্তি বেড়েছে বিচারপ্রার্থীদের।

অন্যদিকে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম না চলায় সৃষ্ট মামলা জট থেকে উত্তরণে বেশকিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এর মধ্যে রয়েছে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সুপ্রিমকোর্টের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল, ভার্চুয়াল ও অ্যাকচুয়াল উভয় কোর্ট চালু ও বিচারিক আদালতে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়াতে বিচারকদের কর্মঘণ্টা পূর্ণভাবে ব্যবহারের মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা।
আদালতে মামলার জটের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন স্বাস্থ্যবিধিঅনুসরণ করে নিয়মিত আদালত চালুর পক্ষে মত দিয়েছেন।

তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির কবে অবসান হয় বলা যাচ্ছে না। তাই মামলা জট পরিহারে নিয়মিত আদালত চালু করা জরুরি। বিচারপ্রার্থী মানুষ অনেক ভোগান্তিতে রয়েছেন।

করোনার কারণে দেশের আদালতে সৃষ্ট মামলার জট নিরসনে কোনো উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিনউদ্দিন ভোরের কাগজকে বলেন, করোনার কারনে ৫ মাস সুপ্রিম কোর্ট বন্ধ থাকলেও এখন আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চে বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া হাইকোর্টেও ডেথ রেফারেন্সের মামলাও শুনানি শুরু হয়েছে যা করোনার কারণে বন্ধ ছিল। করোনা পরিস্থিতির স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আদালতের কার্যক্রম নিয়মিত হলে মামলার জট নিরসনেও উদ্যোগ নেয়া হবে।

এদিকে আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক বলেন, করোনাকালের ছুটিতে নিঃসন্দেহে দেশের সব আদালতে বিচারকাজ বিঘ্নিত হয়েছে। এর সমাধানে কাজ চলছে। আসলে আমরা তো আগেই (চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত) ৩৬ লাখেরও বেশি মামলা জটে ছিলাম। এখন আরো বেড়েছে। বিচারাধীন এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো, আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিচারকদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়