জাতিকে ধ্বংস করতেই অটো পাসের সিদ্ধান্ত

আগের সংবাদ

রাজধানীতে ভিড় বেড়েছে মণ্ডপে

পরের সংবাদ

প্রত্যক্ষদর্শীকে এসআই আকবরের হুমকি

সত্য বললে বুকে গুলি করব, পিঠ দিয়ে বের হবে

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০২০ , ৫:৪২ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০২০ , ৫:৪৫ অপরাহ্ণ

সিলেটে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান আহমেদ হত্যার পর থেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে অভিযুক্ত এসআই আকবর। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই বন্দরবাজার ফাঁড়ির আশেপাশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের। জানা যায়, প্রত্যক্ষদর্শী দুই পুলিশ সদস্যকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বলেছিলেন বরখাস্ত হওয়া এসআই আকবর হোসেন ভূঞা। সত্য কথা বললে ‘বুকে গুলি করব, পিঠ দিয়ে বের হবে’ বলে হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।

ঘটনার দিন (১০ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত ফাঁড়িতে সেন্ট্রি পোস্টে কর্তব্যরত তিনজন কনস্টেবল শামীম মিয়া, সাইদুর রহমান ও দেলোয়ার হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এর মধ্যে সাইদুর ও দেলোয়ারকে আকবর মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বলেছিলেন বলে তাঁরা জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্র জানায়, তিন কনস্টেবলের জবানবন্দির পরদিনই বরখাস্ত কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। টিটুর রিমান্ড শেষে তিন প্রত্যক্ষদর্শী কনস্টেবলের জবানবন্দিতে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে তদন্ত চলছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপকমিশনার বি এম আশরাফ উল্যাহ জানিয়েছেন, বরখাস্ত আকবর ছাড়া ছয়জনকে মহানগর পুলিশ লাইনসে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। নির্যাতনের প্রত্যক্ষদর্শী তিন কনস্টেবল সম্পর্কে তিনি বলেন, এ তিনজন বর্তমানে ফাঁড়িতেই কর্তব্যরত আছেন। ১৯ অক্টোবর সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁরা রায়হানকে নির্যাতন করার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার রাতে তিনজন ফাঁড়ির সেন্ট্রি পোস্টে কর্তব্যরত ছিলেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, ১০ অক্টোবর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় রায়হানকে। ঘটনা আড়াল করতে ফাঁড়ির ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার চিত্র গায়েব করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তবে ফাঁড়ির পাশে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সিসি ক্যামেরার চিত্রে রায়হানকে ফাঁড়িতে নিয়ে আসা ও ভোরবেলা হাসপাতালে ভর্তি করতে নিয়ে যাওয়ার চিত্র ধরা পড়ে। এই চিত্র নিয়ে নগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবরসহ নির্যাতনে সাত পুলিশ জড়িত থাকার প্রমাণ পায়। ১২ অক্টোবর আকবরসহ চারজনকে বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে আকবরকে পাওয়া যাচ্ছে না। বাকি তিনজন বরখাস্তের মধ্যে কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে ২০ অক্টোবর গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পিবিআই। ২১ অক্টোবর ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরার চিত্র নষ্ট করা ও আকবরকে পালাতে সহায়তা করার দায়ে ‘টুইআইসি’ পদে থাকা এসআই হাসান উদ্দিনকে বরখাস্ত করা হয়।

গত ১১ অক্টোবর ভোরে সিলেট নগরীর আখালিয়ার এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে এনে নির্যাতন করা হয়। পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নী বাদী হয়ে ১২ অক্টোবর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। রায়হান হত্যাকাণ্ডে বন্দর বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর, হাসান উদ্দিনসহ পাঁচ জনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক আকবর হোসেন ভুঁইয়া এখনো পলাতক।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়