শীতকালে মারা যেতে পারে লাখ লাখ মানুষ

আগের সংবাদ

জাতিকে ধ্বংস করতেই অটো পাসের সিদ্ধান্ত

পরের সংবাদ

অভিযোগ শ্রমিক নেতাদের

রাষ্ট্রায়ত্ব পাট বস্ত্র সুতা কলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০২০ , ৫:১২ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০২০ , ৫:১২ অপরাহ্ণ

রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলো বন্ধের পেছনে যেসব অভিযোগ দেখানো হয়েছে, তার বেশিরভাগই ভুল তথ্য ও ধারণার ওপর করা হয়েছে মন্তব্য করে অবিলম্বে বন্ধ পাটকল চালু করার দাবি জানিয়েছে ‘পাট সুতা ও বস্ত্রকল শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং’এ এ দাবি জানানো হয়।

বন্ধকৃত রাষ্ট্রায়ত্ব পাটশিল্পের বিরাজমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিষদের আহবায়ক প্রবীণ শ্রমিক নেতা সহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও পাট পণ্যের চাহিদা রয়েছে এবং এই চাহিদা উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঠিক তখনই সরকার রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলো বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলো বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ দেখানো হয়েছে, তার বেশিরভাগই ভুল তথ্য ও ধারণার ওপর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পাট শুধু সম্পদ নয়, বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতির অংশ। পাট ও পাট শিল্প ধ্বংস হওয়ার অর্থ- বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম উপাদানকে ধ্বংস করে দেয়া। ভুল নীতি ও দুর্নীতি পরিহার করে যদি সঠিক নীতি, পদ্ধতি ও কর্মপন্থা ঠিক করতে পারলে দেশের পাটগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব। ২০১০ সালে প্রবর্তিত মোড়ক আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন হলে, দেশের ভেতরেই পাটপণ্যের বিপুল চাহিদা সৃষ্টি হবে। রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলোতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি শত বছরের পুরানো। পুরানো যন্ত্রপাতির পরিবর্তে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতির সংযোজন করে, শ্রমিকদের কারিগরি দক্ষতা বাড়িয়ে রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল চালু করতে হবে। নতুন টেকনোলজি ব্যবহারের ফলে গড় উৎপাদন ৬০ ভাগ বেড়ে যাবে।

সংগ্রাম পরিষদ’র আহবায়ক সহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পর পাট শিল্পের মাধ্যমেই ‘সোনালি আঁশ’র দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে পরিচিতি পেয়েছিল। পাট শিল্প শুধু অর্থনীতিই নয়, এটি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। এ রকম একটি শিল্প আমাদের চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যাবে, তা হতে দেওয়া যায় না। পাট চাষ, প্রক্রিয়াকরণ, পাট ও পাট জাতীয় বিভিন্ন উপকরণ তৈরি ও বাণিজ্যের সাথে প্রায় ৪ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল বন্ধ ঘোষণা করায় স্থায়ী, বদলি ও ক্যাজুয়াল সবমিলিয়ে প্রায় ৫১ হাজার পাটকল শ্রমিক বেকার হয়ে গেছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল, পিপিপি বা লিজ নয়, আধুনিকায়ন করে রাষ্ট্রীয় পাটকল চালু করতে হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন পাট-সুতা ও বস্ত্রকল শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক কামরুল আহসান, আসলাম খান, শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মছিউদদ্দৌলা, হাফিজ জুট মিল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী, আমিন জুট মিলস শ্রমিক-কর্মচারি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা, আমিন পাটকল শ্রমিক-কর্মচারি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম, এশিয়াটিক কটন মিলস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি মো. আলীসহ বিভিন্ন পাটকলের শ্রমিক-কর্মচারি নেতৃবৃন্দ। পরিষদের পক্ষ থেকে যেসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছে- রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল কর-পিপিপি বা লিজ নয়, আধুনিকায়নের মাধ্যমে করে রাষ্টায়ত্ব ও পুনঃ অধিগ্রহণকৃত পাট, সুতা, বস্ত্রকল চালু কর, এক হাজার ২০০ কোটি টাকা বিনিযোগ করে আধুনিকায়ন করার মাধ্যমে দেশীয় পাটশিল্প ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা কর, ব্যক্তি মালিকানা নির্বিশেষে জুট ও টেক্সটাইল শিল্প সেক্টরের শ্রমিকদেও ন্যূনতম মজুরি ঘোষনা ও বাস্তবায়ন করতে হবে, সুনির্দিষ্ট পদে একটানা তিন মাস কর্মরত শ্রমিকদের শ্রম আইনের ধারা ৪(৮) অনুযায়ি স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে গণ্য করে সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে ও পাটখাত ধংস, দুর্নীতি লুটপাটের সাথে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়