ত্রিকোণ হৃদয়ের ‘মেঘনা’

আগের সংবাদ

দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও ভোতা অস্ত্রের আঘাতে মৃত্যুর প্রমাণ

পরের সংবাদ

শুদ্ধি অভিযান কোন পথে

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২০ , ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০২০ , ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ

জোরদার করার তাগিদ সচেতন মহলের

ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে অপসারণের মধ্য দিয়ে দলে এবং সরকারে যে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় দুর্নীতি ও ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্টতায় খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, মিজান, শামীম, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, শফিকুল আলম ফিরোজ, সেলিম প্রধানকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছিল দেশের সর্বস্তরের মানুষ। কিন্তু দেশের অন্য অনেক বিষয়ের মতোই ঢাকঢোল পিটিয়ে শুরু হওয়া এই শুদ্ধি অভিযানের উত্তাপ অনেকটাই নিষ্প্রভ। যদিও সরকারের নীতিনির্ধারকরা বারবার দাবি করেছেন, অভিযান অব্যাহত আছে এবং থাকবে। তবে দেশ কাঁপানো ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মধ্য দিয়ে গত বছর জুয়া, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সাঁড়াশি অভিযান এখন ঝিমিয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনমনে আশা জাগানিয়া এই অভিযান মৌসুমি অভিযান না হয়ে রাষ্ট্রের নৈর্ব্যক্তিক দায়িত্ব হওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সরকারের জনপ্রিয়তাও বাড়বে।

মূলত, শোভন ও রাব্বানীকে পদ থেকে অপসারণ করা হলেও গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হয় গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে আটকের মধ্য দিয়ে। এরপর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মঈনুল হক, রূপন, এনামুলসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। করোনাকালে স্বাস্থ্য খাতে ভয়ংকর জালিয়াতির কারণে গ্রেপ্তার হন রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. সাহেদ, জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ। তবে এখন অভিযান আদৌ চলছে কিনা, জনমনে সেই প্রশ্ন উঠেছে। এ ব্যাপারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ভোরের কাগজকে বলেন, শুদ্ধি অভিযান থমকে যাবে, এটি প্রত্যাশিত ছিল। এর পেছনে রাঘব-বোয়াল জড়িত। পুলিশ, প্রশাসন, রাজনীতিবিদদের একাংশের নাকের ডগায় দুর্নীতি হয়েছে, হচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানকে মানুষ স্বাগত জানিয়েছিল। এখনো রাঘব-বোয়ালদের ধরা সম্ভব। এ জন্য শীর্ষ পর্যায়ের সদিচ্ছা প্রয়োজন। কিন্তু যাদের ওপর এই ভার ন্যস্ত তাদের কেউ কেউ এর সঙ্গে জড়িত। কারো কারো আবার দক্ষতার অভাব রয়েছে।

অবশ্য দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে, সেটি অব্যাহত আছে জানিয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, অনিয়মের আবর্তে থাকা সব খাতেই অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়, দলীয় পরিচয় দিয়ে অনিয়ম ঢাকা যাবে না। অনেকে বলছেন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান থেমে গেছে। এ কথা মোটেও সত্য নয়। সরকারের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দলের ভেতরেও অপকর্ম করে রেহাই পাবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমন অভিযান দেশে হঠাৎ করেই শুরু হয়, আবার হঠাৎই থেমে যায়। দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতারাই তাদের বাঁচিয়ে দেয়। এ জন্য এমন অভিযান খুব বেশি দিন টিকে থাকতে পারে না। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. শান্তনু মজুমদার ভোরের কাগজকে বলেন, বর্তমানে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সবকিছুই অনেকটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে। এটি স্বাভাবিক। কারণ এখন মহামারি নিয়ন্ত্রণই প্রধান কাজ। তবে আমাদের দেশে দুর্নীতি যখন খুব বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায়, তখন অভিযান শুরু হয়। অথচ শুদ্ধি অভিযান মৌসুমি বিষয় নয়। এটি রাষ্ট্রের চলমান দায়িত্ব। রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান এক্ষেত্রে নৈর্ব্যক্তিকভাবে কাজ করে না। এটি বড় সমস্যা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ভোরের কাগজকে বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলমান প্রক্রিয়া। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। যখন যার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ পাওয়া যায়, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হয়। কাউকেই ছাড় দেয়া হয় না।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়
close