সিনহা হত্যা মামলা নিয়ে যা বললেন র‌্যাবের ডিজি

আগের সংবাদ

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে প্রধান করে ভ্যাকসিন টাস্কফোর্স গঠন

পরের সংবাদ

গলায় ফাঁস নিয়ে দুই বোনের আত্মহত্যা

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২০ , ১০:০৫ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০২০ , ১০:০৫ অপরাহ্ণ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গলায় ফাঁস নিয়ে রুমা আক্তার (২৬) ও মুক্তা (১৬) নামে দুই চাচাতো বোন আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে তারা নিজ নিজ ঘরে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস নিলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। সন্ধ্যায় পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়। একটি ‘ধর্ষণ’ মামলার ঘটনায় পারিবারিক কলহের জের ধরে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের মেয়ে মুক্তাকে শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে তার নিজের ঘরে বাঁশের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন পরিবারের লোকজন। এ সময় তাৎক্ষণিক তাকে নিচে নামিয়ে মৃত দেখতে পান তারা।

এ ঘটনার এক ঘণ্টা না পেরোতেই মুক্তার আপন চাচাতো বোন রুমা নিজের ঘরে একইভাবে আত্মহত্যা করেন। এর আগে রুমা গোসল করে ঘরে প্রবেশ করলে তার বাবা মুনতাজ আলী গোসল করতে যান। গোসল শেষে বেলা ১২টা ৫০ মিনিটে তিনি গলায় ফাঁস নেয়া মেয়েকে ঘরের ভেতর ঝুলতে দেখেন। রুমা দুই সন্তানের জননী ছিলেন।

এ ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক স্থানীয় ক্যাম্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে। বিকেলে দৌলতপুর-ভেড়ামারা সার্কেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ মো. আল বেরুনী, দৌলতপুর থানার ওসি জহুরুল আলম, ওসি (তদন্ত) শাহাদাৎ হোসেন ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তারা দুই বোন আত্মহত্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। সন্ধ্যার দিকে পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়।

এদিকে দুই বোনের একইভাবে আত্মহননের ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় আশেপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এলাকাবাসী বলছেন, জুম্মার দিনকে বেছে নিয়ে তারা হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল তার সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে নিজেদের মধ্যে ধর্ষণ সংক্রান্ত একটি মামলার সূত্র ধরে পারিবারিক বিরোধে তারা আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।

দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, কয়েক মাস আগে মুক্তার সহযোগিতায় তার ফুফাতো বোন বৈশাখী প্রেমিকের হাত ধরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন বৈশাখীর পিতা। সেই মামলায় আসামি ছিল মুক্তা। মামলার পর সে তার চাচাতো বোন রুমার শ্বশুর বাড়ি পাশের মিরপুরে পালিয়ে ছিল। বাবার বাড়িতে এসে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কলহ দেখা দেয়। পারিবারিক কলহের জের ধরে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়
close