বোয়ালখালীতে ৩০০ একর জমি উদ্ধার

আগের সংবাদ

সুদানের স্কুলে বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

পরের সংবাদ

যুবতী রাধের নিবন্ধন সরলপুর ব্যান্ডের নামেই

প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২০ , ৮:৪৭ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০২০ , ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ

আইপিডিসি’র উদ্যোগে বের হওয়া ‘সর্বত মঙ্গল রাধে’ শিরোনামের গানটি নিয়ে উঠেছে কপিরাইট ভঙ্গের অভিযোগ। সংগীতশিল্পী পার্থ বড়ুয়ার সংগীতায়োজনে এ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। গানটি প্রকাশের পরপরই তোপের মুখে পড়েন চঞ্চল-শাওন-পার্থ বড়ুয়া। ব্যান্ড ‘সরলপুর’ দাবি করে নিজেদের রচিত, সুর করা ও তৈরি হিসেবে গানটি তারা ২০১৮ সালের ৪ জুন মাসে কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন নেয়। ব্যান্ডটির বক্তব্যটি, ‘আমরা সাধক-সাধিকার কীর্তন গানগুলোর মধ্য থেকে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য, শব্দ চয়ন ও ভাবধারা সংগ্রহ করে থাকি।

এর প্রেক্ষিতে আমরা ৩০ পারসেন্ট সংগ্রহ বলে উল্লেখ করেছি। আমরা ওই সাধক-সাধিকাদেরকে সবসময় শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে থাকি বলেই অনুষ্ঠানে তাদের কথা এর আগে উল্লেখ করেছি। সাধকের গানের সাথে আমাদের ‘যুবতী রাধে’ গানের কোনো অংশের সাথে কোথাও হুবহু কোনো মিল নেই এবং এই ৩০ পারসেন্টে আমরা কোনো হুবহু লাইন সংগ্রহ করিনি। আমরা শুধুমাত্র ভাবধারা, শব্দ চয়ন ও তথ্য সংগ্রহ করিয়াছি যাহা গান রচনার ক্ষেত্রে সকলকেই অনুশীলন করতে হয়।

‘সরলপুর’ ব্যান্ডের সংগীত পরিবেশন।

বিতর্ক ওঠার পর এ বিষয়ে আজ কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, আমরা বিচার বিশ্লেষণ করেই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সরলপুর ব্যান্ডকে ‘যুবতী রাধে’ গানটির রেজিস্ট্রেশন দিয়েছি। কপিরাইট বিষয়টি জটিল, তবে এটি বুঝতে পারলে খুব সহজ। যারা কপিরাইট সম্পর্কিত সৃষ্টিশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের উচিত এই আইন সম্পর্কে জানা ও বোঝা। যারা রিমেক করেন বা অন্যের গান কভার করেন তারা একটু কষ্ট করে কপিরাইট অফিসে যোগাযোগ করলেই কিন্তু গানের মালিকানা বা কী পরিচয় সেগুলো জানতে পারেন। তখন আর এসব বিতর্ক তৈরি হয় না।’

এছাড়া চঞ্চল ও শাওন যে গানটি সম্প্রতি গেয়েছেন সেটি ‘সরলপুর’ ব্যান্ডের নামে রেজিস্ট্রেশন করা দাবি করে এই কপিরাইট কর্মকর্তা বলেন, ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল সুমি মির্জা নামে একজন শিল্পী আপত্তি তুলেন যে এই গানটি মৈমনসিংহ গীতিকার ‘যুবতী রাধে’ গানের নকল। যেহেতু একটি অভিযোগ আসে তাই তখন আমরা বেশ কয়েকটি শোনানি করেছি এই গানের জন্য। তখন সরলপুর ব্যান্ড আমাদের ২০১২ সালের একটি রেফারেন্স দেয় যেখানে দেখা যায়, চ্যানেল নাইনে একটি অনুষ্ঠানে তারা গানটি গাওয়ার সময় বলছে যে, এই গানের ৩০ পারসেন্ট তাদের সংগ্রহ আর ৭০ পারসেন্ট তাদের রিমেক করা।

অনেকে এই রিমেক ৩০ ভাগকে নিয়েই গানটিকে লোকজ গান হিসেবে দাবি করছে। এমন প্রসঙ্গে কপিরাইট রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি যে মৈমনসিংহ গীতিকার ‘যুবতী রাধে’ গানটিতে মোট ৪২টি বাক্য বা লাইন রয়েছে। ওই গানের শেষের তিনটি লাইনের ভাবের সঙ্গে সরলপুর ব্যান্ডের গানটির মিল আছে। কিন্তু হুবহু বাক্যের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। যার ফলে এটি যে মৈমনসিংহ গীতিকার ওই গান তা সঠিক নয়। এ কারণে আমরা ‘যুবতী রাধে’ গানটির রেজিস্ট্রেশন সরলপুর ব্যান্ডের নামেই বহাল রেখেছি।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়