মোদি আমলে বিচার বিভাগেও হিন্দুত্ববাদিতা!

আগের সংবাদ

বাবলি

পরের সংবাদ

বাসাবাড়ির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রয়োজন

প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২০ , ৭:৫৭ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০২০ , ৭:৫৭ অপরাহ্ণ

সিটি করপোরেশন আইনে বলা হয়েছে, করপোরেশন নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার পাত্র বা অন্য কোনো আধারের ব্যবস্থা করবে। যেখানে অনুরূপ ময়লা ফেলার পাত্র বা আধারের ব্যবস্থা করা হবে, করপোরেশন সাধারণ নোটিস দিয়ে পাশর্^বর্তী বাড়িঘর ও জায়গা-জমির দখলদারদের তাদের ময়লা বা আবর্জনা উক্ত পাত্র বা আধারে ফেলার জন্য নির্দেশ দিতে পারবে। এই আইন অনুযায়ী, করপোরেশন নির্ধারিত স্থান থেকে ময়লা সংগ্রহ করে ভাগাড়ে নিয়ে যাবে। আর নাগরিকরা তাদের বাসা-বাড়ির বর্জ্য করপোরেশনের নির্ধারিত বিনে পৌঁছে দেবে। কিন্তু দেখা গেছে, বর্তমানে বাসাবাড়ির বর্জ্য কোনো নাগরিকই সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেয় না। এই সুযোগে ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করে করপোরেশনের নির্ধারিত বিনে পৌঁছে দিচ্ছে। এজন্য প্রতিটি বাসা বা হোল্ডিং থেকে ১০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। রাজধানীতে বাসাবাড়ি ও রেস্তোরাঁর বর্জ্য সংগ্রহ নিয়ে গড়ে উঠেছে অর্থ লুটপাটের বিশেষ চক্র। নগরবাসীকে জিম্মি করে বছরে অন্তত ৪৫০ কোটি টাকার ময়লা-বাণিজ্য করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় কাউন্সিলরের লোকজন। এদের ওপর দুই সিটি করপোরেশনের কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের বিল মাসে ১০০ টাকার বেশি আদায় করা যাবে না বলে প্রাথমিক বর্জ্য সেবা সংগ্রহকারীদের (পিসিএসপি) নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। মেয়রের এই নির্দেশনা কোথাও কার্যকর হয়েছে কিনা আমাদের জানা নেই। গতকাল ভোরের কাগজের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনও প্রতিবছর গৃহকরের ৩ শতাংশ নেয় পরিচ্ছন্নতা বাবদ। অথচ তারা বাসাবাড়ি থেকে সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহ না করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের লুটপাটের সুযোগ করে দিচ্ছে। বাসাবাড়ি বা রেস্তোরাঁ থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য মাসে বা বছরে কত টাকা আদায় করা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য কারো কাছে নেই। তবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে রাজধানীর ময়লা-বাণিজ্যের একটি ধারণা পাওয়া গেছে। দুই সিটি করপোরেশনের হিসাবে হোল্ডিং রয়েছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৮৫৫টি। অধিকাংশ হোল্ডিংয়ে ৬ থেকে ১২টি করে ফ্ল্যাট বা বাসা রয়েছে। একটি হোল্ডিংয়ে গড়ে ৬টি ফ্ল্যাট বা বাসা রয়েছে। আর প্রতিটি ফ্ল্যাট থেকে গড়ে ১৫০ টাকা করে আদায় করা হয়। এই হিসাবে বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ বাবদ মাসে প্রায় ৩৬ কোটি টাকার বাণিজ্য হচ্ছে; বছরে যা প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা। বিশাল এই বাণিজ্যের খবর দুই মেয়র কি অবগত নয়? নগরবাসীকে এই চাঁদাবাজি থেকে রেহাই দেয়া কি তাদের দায়িত্ব নয়? বাসাবাড়ির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা দরকার নয় কি। এমন নানা প্রশ্ন সচেতন মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে। উদাহারণ হিসেবে আমরা বলতে পারি, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নিজস্ব কর্মীর মাধ্যমে বাসাবাড়ি থেকে সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহ করে। সিটি করপোরেশনই বর্জ্য সংগ্রহকারীদের বেতন দেয়। এই খরচ গৃহকরের মধ্যেই যুক্ত থাকে। নগরবাসীকে আলাদা কোনো টাকা দিতে হয় না। ফলে বর্জ্য সংগ্রহ নিয়ে কোনো বাণিজ্য নেই। চট্টগ্রাম, রাজশাহীর মতো রাজধানী ঢাকা কি মডেল হতে পারে না?

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়
close