দুই সিটির বর্জ্য বাণিজ্য

আগের সংবাদ

কোন্দলের বেড়াজালে জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি

পরের সংবাদ

দুই দশকেও খোঁজ মেলেনি ২ ডজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর

প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২০ , ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০২০ , ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ

হালনাগাদ হয়নি তালিকা
জিসান দুবাইয়ে মুক্ত হয়ে হাওয়া

প্রায় ২ দশক আগে সরকার রাজধানীর শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। এদের মধ্যে ৮ জনকে ধরিয়ে দিতে ১ লাখ টাকা এবং ১৫ জনকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেয়া হয়। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে ১ জন বন্দুকযুদ্ধে নিহত ও ১ জন গণপিটুনিতে মারা গেছে। গ্রেপ্তারের পর ৮ জন বাংলাদেশের কারাগারে রয়েছে। এছাড়া ১৩ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিস জারি রয়েছে। এদের মধ্যে ১ জন জিসান দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে বলে চাউর হলেও ইন্টারপোল ডেস্ক থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। অন্য ১২ জনকে ধরতে রেড নোটিস ঝুললেও আটকের ব্যাপারে নেই কোনো তৎপরতা। যদিও পলাতক অবস্থায় এদের অনেকে নানাভাবে তৎপর বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ রয়েছে। তবে ২ দশকে অপরাধ জগতে অনেক নতুন মুখ গজিয়ে দাপিয়ে বেড়ালেও হালনাগাদ হয়নি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) মহিউল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান দুবাই আদালতের মাধ্যমে মুক্ত হওয়ার পর আর কোনো আপডেট তথ্য নেই। অন্যকোনো অপরাধীর ব্যাপারেও সন্তোষজনক কোনো খবর নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ইন্টারপোল ওয়ারেন্টধারীদের কারো তথ্য পেলে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রকে জানায়। পরবর্তী সবকিছু হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। রেডওয়ারেন্টধারী অনেকের ব্যাপারে ইন্টারপোল থেকে নেগেটিভ তথ্য আসছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা জানান, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্টারপোল ডেস্ক এনসিবি-ঢাকা ইন্টারপোলের সহায়তায় নোটিস জারি করে। খুঁজে পাওয়া গেলে ইন্টারপোলের সহায়তায় তাদের সংশ্লিষ্ট দেশে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়। তারপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা দপ্তর থেকে চাহিদা পাওয়া গেলে নোটিস জারি করা হয় এবং সে অনুযায়ী তালিকা আপডেট করা হয়। বর্তমানে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্ব^র বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীর নামের তালিকা প্রকাশ করে। এরা হচ্ছেন- ত্রিমতি সুব্রত বাইন, খোরশেদ আলম রাসু, মোল্লা মাসুদ, আব্বাস ওরফে কিলার আব্বাস, আরমান, হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, কালা জাহাঙ্গীর, আব্দুল জব্বার মুন্না, শামীম আহম্মেদ ওরফে আগা শামীম, জাফর আহম্মেদ মানিক ওরফে মানিক, খন্দকার তানভীরুল ইসলাম জয়, সোহেল রানা চৌধুরী ওরফে ফ্রিডম সোহেল, খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন, ইমাম হোসেন, প্রকাশ কুমার বিশ্বাস, গোলাম রসুল সাগর ওরফে টোকাই সাগর, মশিউর রহমান কচি, কামরুল হাসান হান্নান ওরফে পিচ্চি হান্নান, সানজিদুল ইসলাম ইমন, জিসান আহমেদ ওরফে মন্টি, মশিউর রহমান কচি, কামাল পাশা এবং আলাউদ্দিন। এদের মধ্যে পিচ্চি হান্নান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। গণপিটুনিতে নিহত হন আরেক সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন।

পুলিশের তথ্যমতে, ১৯৯৭ সালে মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ২০০৯ সালের জুনে কাশিমপুর কারাগার-২ থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরই ওই সময় জেলগেটের সামনেই তাকে আবার গ্রেপ্তার করে গাজীপুর জয়দেবপুর থানা পুলিশ। ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্ব^র কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে গোপনে ভারতে পাড়ি জমায় বিকাশ। তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতা জরিফ, আগারগাঁওয়ে জোড়া খুনসহ ৫টি হত্যা মামলাসহ ১৬টি মামলা রয়েছে। বিকাশের ভাই শীর্ষ সন্ত্রাসী প্রকাশ দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সপরিবারে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বসবাস করছে। প্রকাশের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের কালিহাতী এলাকায়। আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীরুল ইসলাম জয় ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন। কলকাতা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর তানভীর মুক্তি জেল থেকে পান। থাকেন কলকাতার বনগাঁও এলাকায়। জয়ের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। সানজিদুল ইসলাম ইমন রয়েছে কানাডায়। সেখানে তিনি মোবাইলের ব্যবসা করেন। ২০০৮ সালের ১১ অক্টোবর কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় সুব্রত বাইন। পরে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে নেপালে পালায়। সুব্রত বাইনের গ্রামের বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়ায়। ঢাকায় মগবাজারে থাকতেন তিনি। পুরস্কার ঘোষিত আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী আমিন রসুল সাগর ওরফে টোকাই সাগর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। টোকাই সাগর সন্দ্বীপ থানার বাউরিয়া গ্রামের আবুবকর সিদ্দিকের ছেলে। জাফর আহমেদ ওরফে মানিক ও ইমাম হোসেন কলকাতায় অবস্থান করছে দীর্ঘদিন ধরে। মানিক রাজধানীর উত্তর শাহাজানপুরের বাসিন্দা। ইমাম হোসেন ঢাকার মহাখালীর বাসিন্দা। আব্দুল জব্বার মুন্না অবস্থান করছেন জার্মানিতে। মিরপুর এলাকার আরেক সন্ত্রাসী শাহাদাত হোসেনের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ভারত ও ফ্রান্সে তার অবস্থানের খবর রয়েছে।

২০০৪ সালের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকা থেকে ফ্রিডম সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাগারে থাকা ফ্রিডম সোহেল ফেনীর দাগনভুঁইয়া এলাকার বাসিন্দা। হারিস আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। তিনি বৃহত্তর মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকার আন্ডার ওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন। সুইডেন আসলাম আছেন জেলে। ২০০৩ সালে ৩ জুন মোহাম্মদপুর থানার একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করার পর পিচ্চি হেলালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পিচ্ছি হেলাল মতলব উত্তর থানার বাসিন্দা। ২০০৪ সালে ফ্রিডম রাসুকে ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রমনা এলাকার মনসুরের ছেলে।

২০০৫ সালের ৩ জুন ধানমন্ডি এলাকা থেকে আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। আরমান বড় মগবাজার এলাকার বাসিন্দা। শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলার আব্বাস কারাবন্দি আছেন। তার বিরুদ্ধে ৬টি হত্যাসহ ১০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কিলার আব্বাস ঢাকার কাফরুল এলাকায় থাকতেন। অন্য শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটনকে ঢাকা মহানগর পুলিশ ২০০৪ সালে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। টিটন হাজারীবাগ এলাকার বাসিন্দা। একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি এডভোকেট বাবর এলাহী হত্যা মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়।

২০০৪ সালের ২৬ জুন আশুলিয়ার বেরন গ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হান্নান নিহত হন। ২০০৩ সালের মার্চে হাতিরঝিল এলাকায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যার পর পালাতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত হয় সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন। শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা জাহাঙ্গীর জীবিত না মৃত এ প্রশ্নের সদুত্তর নেই কারো কাছে। তার গ্রামের বাড়ি বগুড়ার ধুনট থানায়। পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী জব্বার মুন্না ভারতে পালিয়ে আছেন। কামরুল হাসান হান্নান জার্মানি ও জাফর আহম্মেদ মানিক ওরফে মানিক ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থান করছে। জব্বার মুন্নার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায়। ঢাকার রমনা থানার বাসিন্দা মোল্লা মাসুদ কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হয়ে কলকতায় আছেন। শীর্ষ সন্ত্রাসী আমিন রসুল সাগর ওরফে টোকাই সাগর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। শামীম আহমেদ কানাডায় আছেন। শামীম রাজধানীর কোতোয়ালি থানাধীন ড. শামসুদ্দিনের ছেলে। শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীর পলাতক আসামি জিসান আহমেদ ওরফে মন্টিকে গত বছরের ২ অক্টোবর রাতে দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আদালতের মাধ্যমে তিনি খালাস পেয়ে বিদেশে বহাল তবিয়তে আছেন। শীর্ষ সন্ত্রাসী কামাল পাশাকে তার বাবা মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কৌশলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার পর তিনি কারাগারে আছেন।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়
close