সাগরে গভীর নিম্নচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৪ নম্বর সংকেত

আগের সংবাদ

ফার্মেসিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষুধ, অতঃপর জরিমানা

পরের সংবাদ

জীবনানন্দ দাশের অপ্রকাশিত পত্রাবলি

প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২০ , ৯:৫৩ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০২০ , ৯:৫৬ অপরাহ্ণ

স্বভাবত তিনি অনুচ্চ কণ্ঠ, মৃদুভাষী, আত্মমগ্ন, নির্লিপ্ত, নিঃসঙ্গতা-প্রিয়, নির্জনতাকামী জীবনানন্দ দাশের (১৮৯৯-১৯৫৪) এইরকম একটা ছবি আঁকা হয়ে থাকে। চরিত্রগত এই বৈশিষ্ট্য তাকে স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, পাশাপাশি আবার এক ধরনের রহস্যের জন্মও দিয়েছে। কিন্তু বহিরঙ্গে একটা সৌম্য-শান্ত-কুণ্ঠিত রূপ থাকলেও, ভেতরে ভেতরে খুবই সক্রিয় ছিলেন তার সৃষ্টিকর্মে। তার জীবৎকালে প্রকাশিত হয় ছ’টি কবিতার বই। অগ্রন্থিত ও অপ্রকাশিত থেকে যায় প্রচুর রচনা। মৃত্যুর পরে প্রকাশ পেয়েছে বেশ কয়েকটি কবিতার সংকলন, প্রবন্ধের বই, গল্প ও উপন্যাস। এর বাইরে অনেক রচনাই থেকে গেছে অপ্রকাশিত অবস্থায়। ক্রমশ আবিষ্কৃত হচ্ছে প্রকাশের আলোকে বঞ্চিত সেই লেখাগুলো- তার গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ এবং তার চিঠিপত্র।

দুই.
এ-পর্যন্ত জীবনানন্দের চিঠিপত্রের সামান্য অংশই প্রকাশিত হয়েছে। দীপেনকুমার রায়-সংকলিত ‘জীবনানন্দ দাশের পত্রাবলী (১৯৭৮)-তে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল ২৫টি পত্র। আবদুল মান্নান সৈয়দের উদযোগে প্রকাশিত ‘জীবনানন্দ দাশের পত্রাবলি’ [১৩৮৪]-র পত্র-সংখ্যা ৪৮। একজন গবেষক জানিয়েছেন, “বঙ্গাব্দ ১৪০০ পর্যন্ত জীবনানন্দ-র প্রকাশিত-অপ্রকাশিত পত্রের সংখ্যা ছিল পঁচাশিটির মতো। পরবর্তী দু-তিন বছরে সেই সংখ্যা বর্ধিত হয়ে ইতিমধ্যে একশ’ অতিক্রম করেছে।” এ-কথা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, পঞ্চান্ন বছরের জীবনে তিনি মাত্র একশ চিঠি লিখেছেন। আশার কথা, জীবনানন্দের চিঠিপত্র দিনে দিনে আবিষ্কৃত-সংগৃহীত প্রকাশিত হচ্ছে। স¤প্রতি বুদ্ধদেব বসুকে (১৯০৮১৯৭৪) লেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠির হদিশ মিলেছে। কিন্তু কোনো প্রসঙ্গে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০), অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬), প্রেমেন্দ্র মিত্র (১৯০৪-১৯৮৮), অজিত দত্ত (১৯০৭-১৯৭৯), কিংবা অগ্রজ কোনো কবি, কিংবা কল্লোল-কালি-কলমগোষ্ঠীর কারও সঙ্গে কী তার পত্রালাপ হয়নি? স্ত্রী লাবণ্য দাশকেও (১৯০৯-১৯৭৪)- কী তিনি কখনও চিঠি লেখেননি? বিলুপ্ত-বিনষ্টির আশঙ্কা সত্তে¡ও এ-কথা বলা যায় যে, জীবনানন্দের অজানা চিঠির সন্ধান লাভের সম্ভাবনা যথেষ্টই উজ্জ্বল। কবি সাবিত্রীপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায়কে (১৮৯৪-১৯৬৫) লেখা দুটি চিঠি স¤প্রতি আবিষ্কৃত হওয়ায় আমাদের এই মত আরও দৃঢ় হয়েছে।

তিন.
জীবনানন্দের চিঠির প্রকৃতি বিচার করলে দেখা যায়, এর অনেকগুলোই পারিবারিক পরিমণ্ডলে স্বজন-পরিজনকে লেখা ঘরোয়া প্রসঙ্গের চিঠি। এর বাইরে কোনো কোনো চিঠি প্রয়োজনের, কখনও নিছক সৌজন্যসূচক। আবার পাশাপাশি এমন চিঠিও আছে যাতে শিল্প-ভাবনা কিংবা সাহিত্য-সংক্রান্ত মত প্রকাশ পেয়েছে। এ-সব চিঠিতে খুঁজে পাওয়া যায় অন্তরঙ্গ জীবনানন্দকে। কৌতুক-রঙ্গ কিংবা আড্ডার মৌতাত কিংবা একান্ত ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ;- এ-সব বিষয় আপাতদৃষ্টিতে জীবনানন্দের স্বভাববিরুদ্ধ মনে হলেও এর পরিচয়ও মিলবে তার পত্রগুচ্ছে। বুদ্ধদেব বসু একবার জীবনানন্দ সম্পর্কে বলতে গিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, “জীবনানন্দ স্বভাবে একটি দুরতিক্রম্য দূরত্ব ছিলো”- এই মনোভাবেরই অনুষঙ্গী ছিল তার পত্রাবলি,- “চিঠিপত্রেও তার সেই রকম স্বভাব সংকোচ।” অপরপক্ষে সঞ্জয় ভট্টাচার্য (১৯০৯-১৯৬৯) উল্লেখ করেছেন, “চিঠিতে অনেক বেশি অন্তরঙ্গ কবি ছিলেন তিনি”। তবে অন্য ক্ষেত্রে যাই হোক, অন্তত চিঠিপত্রের প্রেক্ষাপটে সঞ্জয় ভট্টাচার্যের মন্তব্যই অধিক গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়।

চার.
এখানে সাবিত্রীপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায়কে লেখা জীবনানন্দ দাশের দুটি অপ্রকাশিত চিঠি সংকলিত হলো। সাবিত্রীপ্রসন্ন একালে প্রায়-বিস্মৃত একটি নাম হলেও, একসময় সাহিত্যক্ষেত্রে তার বেশ প্রতিপত্তি-পরিচিতি প্রতিষ্ঠা ছিল। মূলত কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তার জীবন রাজনীতি-সাহিত্য-সাংবাদিকতা-শিক্ষকতা নানা ধারায় প্রবাহিত। নিবেদিতপ্রাণ দেশকর্মী হিসেবে ব্রিটিশবিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। এই সূত্রে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস (১৮৭০-১৯২৫) ও নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু (১৮৯৭-১৯৪৫)-এর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে আসেন। সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণের এক পর্যায়ে কারাদণ্ডও ভোগ করেন। পেশাগত জীবনে কখনও সাংবাদিকতা, কখনও বীমা কোম্পানির প্রচার সচিব, আবার কখনও বা জাতীয় মহাবিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কাজ করেছেন। সাময়িকপত্র-সম্পাদনায় বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন। ‘উপাসনা’ (মাসিক), ‘বিজলী’ (সাপ্তাহিক), ‘স্বায়ত্তশাসন’ (পাক্ষিক), ‘অভ্যুদয়’ (মাসিক) তার সম্পাদিত পত্র-পত্রিকা।

বাংলা কবিতার ইতিহাসে সাবিত্রীপ্রসন্ন ‘রবীন্দ্রানুসারী কবি হিসেবে চিহ্নিত। নয়টি কাব্যগ্রন্থ এবং অগ্রন্থিত কবিতার অনুসরণে তার কাব্যসাধনার তিনটি ধারা নির্দেশ করা যায় : ক. বাংলার গ্রামীণ জীবনের রূপায়ণ, খ. প্রেমজ রোমান্টিক উপলব্ধির প্রকাশ, গ. স্বদেশপ্রীতি ও সমাজচেতনার স্বাক্ষর। প্রথম পর্যায়ের শিল্পচেতনা প্রকাশিত হয়েছে মূলত ‘পল্লীব্যথা’ (১৯২০) কাব্যগ্রন্থকে অবলম্বন করে। প্রেমচেতনার উপজীব্য ‘মধুমালতী’ (১৯২৪), ‘মনোমুকুর’ (১৯৩৬) ও ‘অনুরাধা’ (১৯৪৪) এই কাব্যত্রয়ী। উদ্দীপনা ও স্বদেশ-উপলব্ধির পরিচয় আছে ‘রক্তরেখা’ (১৯২৪), ‘আহিতাগ্নি’ (১৯৩২) ও ‘জ্বলন্ত তলোয়ার’ (১৯৫০) গ্রন্থে। এর মধ্যে ‘রক্তরেখা’ প্রকাশের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সরকার বইটি বাজেয়াপ্ত করেন। স্বদেশানুরাগের আরও পরিচয় মিলবে তার সম্পাদিত ‘বন্দনা’ (১৯৪৭) ও ‘আমার দেশ’ (১৯৬৩) শীর্ষক সংকলনের ভেতরেও। তার নগরচেতনা ও সমাজ-বাস্তবতাবোধের আর এক দৃষ্টান্ত ‘মডার্ন কবিতা’ (১৯৪১)। তার গদ্যরচনার একদিকে রয়েছে জীবনীগ্রন্থ ‘খ্রীস্টানুসরণ’ (১৯৩২), ‘মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র’ (১৯৩২) এবং ‘সুভাষ ও নেতাজী সুভাষচন্দ্র’ (১৯৪৬), অপরদিকে আছে প্রবন্ধ-আলোচনা। ‘কাব্য-সাহিত্যের ধারা’ (১৯৬০) তার একমাত্র প্রবন্ধ-গ্রন্থ। কয়েকটি শিশুতোষ গ্রন্থেরও তিনি রচয়িতা। তার অগ্রন্থিত-অপ্রকাশিত রচনার সংখ্যাও কম নয়। তিনি ছিলেন বন্ধু-বৎসল ও মজলিশ-প্রিয় মানুষ। মূলত কাব্যচর্চা ও সাময়িকপত্র-সম্পাদনার সূত্রে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গেও তার একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পাঁচ.
জীবনানন্দ সাবিত্রীপ্রসন্নকে প্রথম চিঠিটি লিখেছিলেন তার প্রথম কবিতার বই ‘ঝরাপালক’ সম্পর্কে অভিমত চেয়ে। জীবনানন্দ যে একেবারে নিস্পৃহ-নির্লিপ্ত-লাজুক প্রচারকুণ্ঠ ছিলেন না, তার পরিচয় বহন করে এই চিঠি। অগ্রজ কবির কাছে বই পাঠিয়ে তিনি ‘তৃপ্তি বোধ’ করেন এবং মতামত পেলে ‘আনন্দিত’ হবেন বলে জানান। দ্বিতীয় চিঠিটি তারই অনুষঙ্গী। অভিমত পেয়ে যে কেবল ‘আনন্দিত’ই হয়েছেন তা নয়, হয়তো অনুক‚ল মন্তব্যের কারণে সাবিত্রীপ্রসন্নের প্রতি কিছুটা কৃতজ্ঞও। “আপনার সাক্ষাৎ পরিচয় লাভ করতে পারলে খুবই আহলাদিত হ’তাম”, “দেখা হোলো না- বড়ই পরিতাপের বিষয়”, কিংবা “আপনার মত কবিকে বন্ধু হিসেবে পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি”, “আপনার পত্রের আশায় থাকব”- এইসব উক্তি থেকে জীবনানন্দের বিনয় ও সৌজন্য একদিকে যেমন প্রকাশিত, অপরদিকে পূর্বসূরির প্রতি শ্রদ্ধা ও অনুরাগও প্রতিফলিত হয়েছে।

সাবিত্রীপ্রসন্নের সঙ্গে জীবনানন্দের কোনো অন্তরঙ্গ সম্পর্ক রচিত হয়েছিল কী না, বা পত্র-যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ ছিল কী না, সে ইতিহাস আমাদের অজানা। তবে আরো পরে, জীবনানন্দের মৃত্যুতে সাবিত্রীপ্রসন্ন ‘তরুণের স্বপ্ন’ (৭ বর্ষ ৭ সংখ্যা; পৃ. ৪৯৫-৯৬) পত্রিকায় ‘অমিতাভ’ ছদ্মনামে ‘কবি জীবনানন্দ দাশ’ শীর্ষক সাহিত্য-সংবাদ-নিবন্ধ রচনা করেন।

জীবনানন্দ দাশের চিঠি দুটি পরম যত্নে রক্ষা করেন সাবিত্রীপ্রসন্নের পুত্র দীপ্তিপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায়। তার আন্তরিক সৌজন্য ও সহযোগিতার ফলেই চিঠি দুটি প্রকাশিত হতে পারলো। দীপ্তিপ্রসন্নকে আমার শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। এ প্রসঙ্গে প্রাবন্ধিক-গবেষক অধ্যাপক আবদুল মোহিতের সহায়তার কথাও স্মরণ করি। এই অপ্রকাশিত পত্র প্রকাশের ভেতর দিয়ে জীবনানন্দ দাশের প্রতি জন্মশতবর্ষের শ্রদ্ধা নিবেদন করি।

পত্র : এক
সাবিত্রীপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায়কে
২৩ শে অগ্রহায়ণ (১৩৩৪)
৬৬ Harrison Road
Calcutta
শ্রদ্ধাস্পদেষু,
কিছুদিন হইল একটি কবিতার বই প্রকাশিত করিয়াছি। সুপ্রতিষ্ঠিত কবি ও সাহিত্যিকদের মধ্যে আপনি একজন। আমার প্রকাশিত এই বইখানা আপনার নিকট পাঠাইতে তৃপ্তি বোধ করিতেছি। এই বই সম্বন্ধে আপনার মতামত আমাকে জানাইলে আনন্দিত হইব।
আশা করি কুশলে আছেন। আপনি আমার সশ্রদ্ধ নমস্কার গ্রহণ করুন।
ভবদীয় শ্রী-জীবনানন্দ দাশ
পত্র : দুই
সাবিত্রীপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায়কে
৩রা পৌষ (১৩৩৪)
৬৬ Harrison Road
Calcutta

শ্রদ্ধাস্পদেষু,
কিছুদিন হোলো আপনার চিঠি পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হ’য়েছি। অনেককাল থেকে আপনার কবিতা [পড়ে] তৃপ্তি পেয়ে এসেছি। আমার বই আপনাকে [পাঠিয়ে] খানিকটা কৃতজ্ঞতা জানাবার সুযোগ পেলাম। আপনার সাক্ষাৎ পরিচয় লাভ ক’রতে পারলে খুবই আহলাদিত হ’তাম। আমি কিছুকাল ধরে ঈরঃু ঈড়ষষবমব এ অধ্যাপনা ক’রছি। আপনি কলকাতায় ছিলেন জানতে পারলাম। দেখা হোলো নাÑ বড়ই পরিতাপের বিষয়। ভবিষ্যতে আলাপপরিচয়ের আশায় রইলাম। আপনি মুর্শিদাবাদে কি ক’রছেন? আপনার মত কবিকে বন্ধু হিসেবে পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে ক’রছি। মাঝে মাঝে খবর জানালে আনন্দিত হব। আপনার পত্রের আশায় থাকব। আশা করি ভালো আছেন। আপনি আমার প্রীতিনমস্কার গ্রহণ করুন। ইতি।
ভবদীয় শ্রী জীবনানন্দ দাশ

পত্র-পরিচিতি
পত্র : এক
১. জীবনানন্দ দাশ ‘২৩শে অগ্রহায়ণ’-চিহ্নিত এই পত্রের তারিখে সালের উল্লেখ করেননি।
পত্র-প্রাপক সাবিত্রীপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায় চিঠির পাশে জবাব-দানের তারিখ লিখে রেখেছেনÑ ১২.১২.২৭। এ-থেকে স্পষ্টই ধারণা করা যায়, চিঠিতে অনুল্লিখিত সালটি হবে- ১৩৩৪।
২. ‘একটি কবিতার বই প্রকাশিত করিয়াছি’- জীবনানন্দের প্রথম কবিতার বই ‘ঝরা পালক’। “সম্পূর্ণ নিজের ব্যয়ে মুদ্রিত হলেও, প্রকাশক হিসাবে শ্রীসুধীরচন্দ্র সরকার এর (১৮৯২-১৯৬৮) নাম ঘোষিত হয়” [প্রভাতকুমার দাস, জীবনানন্দ দাশ। কলকাতা, ফাল্গুন ১৪০৫; পৃ. ২২]। বইটির প্রকাশকাল ১৩৩৪। ১৯২৫ থেকে ১৯২৭-এর মধ্যে রচিত ৩৫টি কবিতা নিয়ে প্রকাশিত এই বইটি উৎসর্গিত হয় জীবনানন্দের পিতুব্য-কন্যা শোভনা-কে।
৩. ‘এই বই সম্বন্ধে আপনার মতামত আমাকে জানাইলে আনন্দিত হইব’- সাবিত্রীপ্রসন্ন চিঠিতেই এই বইটি (‘ঝরা পালক’) সম্পর্কে তার অভিমত জানিয়েছিলেন। পত্রপত্রিকায় হয়তো তিনি এই বই নিয়ে আলোচনা করেননি।

পত্র : দুই
১. এই চিঠিতেও পূর্বের মতো অসম্পূর্ণ তারিখ, সালের উল্লেখ নেই। প্রথম চিঠির দশ দিন পর এই চিঠি লেখা হয়। এই চিঠিরও সাল হবে- ১৩৩৪।
২. ‘আমার বই’-‘ঝরা পালক’, পূর্বোক্ত।
৩. ‘কিছুকাল ধরে City College এ অধ্যাপনা করছি’- জীবনানন্দ ১৯২২-২৮ পর্যন্ত কলকাতার সিটি কলেজে ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা করেন। “জীবনানন্দ সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজের দ্বারা স্থাপিত ও ব্রাহ্ম এডুকেশ সোসাইটি পরিচালিত প্রাচীন সিটি কলেজে অধ্যাপনার চাকরি পেয়েছিলেন ব্রাহ্ম আত্মীয়দের সহযোগিতায়” [প্রভাতকুমার দাস, ‘জীবনানন্দ দাশ’, পূর্বোক্ত; পৃ. ২৭]। কলেজের আর্থিক সংকটের কারণে জীবনানন্দসহ এগারোজন অধ্যাপককে কর্মচ্যুত করা হয় ১৯২৮-এর মাঝামাঝি। এরপর “প্রায় দেড় বছর বেকার জীবন কাটিয়ে তিনি সদ্য প্রতিষ্ঠিত বাগেরহাট প্রফুল্লচন্দ্র কলেজে যোগ দেন” ১৯২৯-এর শেষদিকে [প্রভাতকুমার দাস, পূর্বোক্ত; পৃ. ২৯]।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়
close