অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি

আগের সংবাদ

মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস

পরের সংবাদ

স্মার্টফোন আসক্তি

প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২০ , ৯:৪০ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০২০ , ৯:৪০ অপরাহ্ণ

করোনা মহামারিতে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে সচল থাকে সেজন্য অনলাইন ক্লাসের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। শতভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভার্চুয়াল এই অনলাইন ক্লাসে যুক্ত না হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান পাঠদান করছে অনলাইন মাধ্যমে। যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েই ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে মতবিনিময় করছে প্রশ্নোত্তরের। মোবাইলের স্ক্রিনে বিরতিহীন চোখ রেখেই পাঠ নিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘ ৫-৬ ঘণ্টার রুটিনে ক্লাস চালিয়ে যেতে স্মার্টফোনকে যেন অতি আপনজন করে নিতে হচ্ছে সবার। তবে এত দীর্ঘ সময় অনলাইনে যুক্ত থেকে লেখাপড়া চালিয়ে গেলেও তার অনেক নেতিবাচক প্রভাবও পড়ছে ছেলেমেয়েদের ওপর। পরিবারের কোনোরকম বাধা নিষেধ ছাড়াই দিনের পর দিন অনায়াসে ব্যবহার করতে পারছে স্মার্টফোন আর সেজন্য তাদের মাঝে তৈরি হচ্ছে মোবাইলের প্রতি তীব্র আসক্তি।

এই আসক্তির ফলে নিম্ন-মাধ্যমিক, মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত কিশোর-কিশোরীদের সমস্যা সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয়। কেউ কেউ আবার ঝুঁকছে ভিডিও গেমের প্রতি। এই গেম আসক্তি সাধারণত ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে- প্রথমে কৌতূহল, হয়তো কোনো নতুন ভিডিও গেম একবার খেলে দেখা। দ্বিতীয় পর্যায়ে হলো ‘এনজয়মেন্ট’ বা আনন্দ পাওয়া; তৃতীয় পর্যায়ে ‘হ্যাবিচুয়েশন’ বা অভ্যেস হয়ে যাওয়া। চতুর্থ পর্যায়ে অপব্যবহার, অর্থাৎ মাত্রাতিরিক্ত মিডিয়া ভোগ করা। আর শেষ পর্যায়ে হলো নেশা। তখন গেমাররা তাদের বন্ধুবান্ধব বা অন্যান্য কাজকর্ম অবহেলা করতে শুরু করে, এমনকি স্কুল-কলেজেও যেতে অনীহা প্রকাশ করতে থাকে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলছেন, করোনাকালীন এই সময়ে অনেকটা সময় স্মার্টফোনের স্ক্রিনে চোখ রেখে ক্লাসে অংশগ্রহণ করায় চোখ লাল হওয়া ও চোখ থেকে পানি পড়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এমনকি অতিরিক্ত স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ফলে দৃষ্টিশক্তিও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এছাড়া মাথাব্যথা, চোখ জ্বালা করার মতো সমস্যা তো রয়েছেই। তবুও বর্তমান এই করোনা সিচুয়েশনে সব ধরনের সমস্যা উপেক্ষা করে শিক্ষার চাকা সচল রাখতে অনলাইন ক্লাসের বিকল্প নেই। তবে অনলাইনে অধিক সময় ব্যয় করে পাঠে অংশগ্রহণ যাতে কোনোভাবেই স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে না পারে সে বিষয়ে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। সচেতন হতে হবে অভিভাবকদেরও।

শিক্ষার্থী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়
close