ভারত-চীন নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক, বিষয় জানায়নি কমিটি

আগের সংবাদ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এমডির পদত্যাগ

পরের সংবাদ

বাড়তি টাকা গলার কাঁটা, বিপাকে পেনশনভোগীরা

প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২০ , ৮:৫২ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০২০ , ৯:১২ অপরাহ্ণ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের অন্যান্য কাজের সঙ্গে এখান থেকে পেনশনের টাকা তোলেন সরকারি বিভিন্ন পেশার অবসরপ্রাপ্তরা। সম্প্রতি পেনশনভোগী এখানকার সিনিয়র সিটিজেনদের অনেকেই পেয়েছেন বাড়তি টাকা। যার মাথাপিছু অঙ্ক হাজার থেকে লাখের ঘরে। কিন্তু এই বাড়তি টাকাই এখন তাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দপ্তর সংশ্লিষ্টদের অনিয়মে বাড়তি টাকা পেয়ে বিপাকে পড়েছেন পেনশনভোগীরা।

দৌলতপুর উপজেলার বাগোয়ান এলাকার দিদার হোসেনের নামে ১৩ হাজার ৫৯৭ টাকা অতিরিক্ত উঠলে তার পরিবারকে অফিস থেকে হুমকি দেয়া হয় দ্রুত টাকা ফেরত না দিলে পেনশন বন্ধ করে দেয়ার। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দিদার হোসেনের ছেলে রায়হান গণমাধ্যমকে জানান, এ রকম অনেকেই অতিরিক্ত টাকা পেয়েছেন। পরে অফিসের নির্দেশনায় এই টাকা স্থানীয় সোনালী ব্যাংকে জমা দিতে গেলে সেখান থেকে জানানো হয় খুলনায় গিয়ে জমা দেয়ার কথা।

একই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার বড়গাংদিয়া চকঘোগা এলাকার মোবারক হোসেনের সঙ্গে। তিনি বাড়তি পেয়েছেন ২৮ হাজার ২৬৪ টাকা। আব্দুল মজিদ পেয়েছেন প্রাপ্যের চেয়ে ১৩ হাজার টাকা বেশি। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কামালপুর গ্রামের আরেক ব্যক্তি পেয়েছেন বাড়তি ৫৯ হাজার টাকা। এ রকম অভিযোগ অন্তত ৭০ থেকে ৮০ জনের।

উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। যদিও তিনি পরবর্তীতে বিষয়টির দায় দিতে চেষ্টা করেন সফটওয়্যারকে। ঘটনা জানা নেই কিন্তু ইতোমধ্যে বাড়তি টাকা প্রাপ্তদের টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশনা কীভাবে দেয়া হলো, জানতে চাইলে সেটিও তার অজানা বলে জানান এই হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা।

অফিস স্টাফ মাসুদ আরিফ জুয়েল কর্মকর্তার উপস্থিতিতে স্বীকার করেন মাত্র কয়েকটিতে ভুল হয়েছে। এর আগে দায়িত্বে থাকা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম এ বিষয়ে বাদবাকি নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। তবে বর্তমানে মেহেরপুরের গাংনীতে কর্মরত আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি কিছুই জানেন না এ প্রসঙ্গে। দুই পক্ষের এমন ঠেলাঠেলিতে ঘটনা আরো রহস্যময় হয়ে উঠেছে।

দৌলতপুর উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে ২০১৬ সাল থেকে কর্মরত রয়েছেন মাসুদ আরিফ জুয়েল। তাকে ঘুষ না দিয়ে পেনশনভোগীরা কোনো কাজই করিয়ে নিতে পারেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার অতিরিক্ত টাকা আসা ব্যক্তিদের পেনশন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে ২০১৫ সালের পর থেকে। পেনশনভোগীদের কাউকে বলা হয়েছে অফিসে এসে জুয়েলের হাতেই টাকা জমা দেয়ার কথা।

এদিকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের বেশি টাকা উত্তোলন, জমা দেয়া না দেয়ার বিভ্রান্তির এসব ঘটনা ঘটে গেলেও অফিসের কর্তা ব্যক্তিদের না জানা ও তথ্য গোপনের অপচেষ্টা সন্দেহের তৈরি করেছে ভুক্তভোগীদের মনে। এটি অভিনব কায়দায় শুভঙ্করের ফাঁকির চেষ্টা কিনা, এমন প্রশ্নই তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, অফিসের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে অনেকেই টাকা ফেরত দিয়েছেন সরকারি কোষাগারে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই বাড়তি টাকাই এখন তাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দপ্তর সংশ্লিষ্টদের অনিয়মে বাড়তি টাকা পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সাংবাদিকদের জানান, এসব বাড়তি টাকা কীভাবে গেল নিশ্চয় সেই বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সফটওয়্যারে ভুল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়