দেশে ৩০ হাজার ২১৩ পুজা মণ্ডপে পুজার আয়োজন

আগের সংবাদ

শহীদ মিনার ভাঙচুর: যুব মহিলা লীগের নেত্রী গ্রেপ্তার

পরের সংবাদ

বাজার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিন

প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২০ , ১০:২৫ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০২০ , ১০:২৫ অপরাহ্ণ

অতি মুনাফালোভী পাইকারি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তাদের জিম্মি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘটনা নতুন নয়। হঠাৎ অস্বাভাবিক দাম বেড়ে অস্থির হয়ে উঠেছে আলু ও পেঁয়াজ বাজার। নিত্যপণ্যের অন্যান্য বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। আলু, পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে শুধু নিম্নবিত্ত নয়, সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের নাভিশ্বাস চরমে উঠেছে। পেঁয়াজের দাম রাতারাতি দিগুণ হওয়ার পর সারাদেশে একযোগে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিদপ্তর। এর পরের দিনই বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যায়। দেশের কোনো কোনো আড়তে দেখা মেলেনি পেঁয়াজের। ক’দিন ধরে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য অভিযান পরিচালনার পর এখন রাজধানীর পাইকারি বাজারে মিলছে না আলু। ব্যবসায়ীরা বলছে, বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে তাই বাড়তি দামে বিক্রি করছে। খুচরা বাজারে আলু এখন ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দাম অবিশ্বাস্য। আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে এখনই নজর দেয়া উচিত। উচ্চবিত্তদের খাদ্য তালিকায় তেমন জরুরি না হলেও নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের সংসারে আলুর কদর অনেক। বিশেষ করে বাজারে অন্য সবজির দাম যখন লাগামছাড়া তখন আলুই ভরসা। এখন সেই আলু কেনারও সামর্থ্য তাদের নেই। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, চলতি উৎপাদন কম হওয়া, করোনাকালে ত্রাণের সঙ্গে আলু ব্যবহার হওয়া এবং উৎপাদন মৌসুমে রপ্তানি বেশি হওয়ায় বাজারে আলুর দাম সর্বকালের রেকর্ড গড়েছে। এই যুক্তি কতটা প্রাসঙ্গিক। গত মঙ্গলবার সরকার ৩০ টাকা কেজি ধরে আলুর দাম নির্ধারণ করে দেয়। বেঁধে দেয়া নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি করছেন না কোনো ব্যবসায়ী। সরকারের এই নির্দেশনা মানেননি ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারা। এভাবে আলু, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হতে থাকলে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে হতদরিদ্র মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়ে। কাজেই নিত্যপণ্যের বাজারের অস্থিরতা দূর করার জন্য সময়মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি ক্ষেত্রেই সিন্ডিকেটের আস্ফালন লক্ষণীয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্য তো বটেই, সেবা খাতেও সিন্ডিকেটের হস্তক্ষেপ প্রকট। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এ চক্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এরা ইচ্ছামতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে অনায়াসে অন্যায্যভাবে বিপুল মুনাফা লুটে নিচ্ছে। আমরা মনে করি, বাজার পরিস্থিতি পাল্টানোর জন্য সবার আগে প্রয়োজন বিক্রেতাদের অসৎ, লোভী ও প্রতারণামূলক মানসিকতার পরিবর্তন। এই পরিবর্তন কবে ঘটবে তার জন্য অপেক্ষা করে নিষ্ক্রিয় বসে থাকলে চলবে না। এর জন্য রাষ্ট্র-সমাজের সচেতন দায়িত্বশীল মহলকে ভ‚মিকা রাখতে হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়