বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, বন্দরে সতর্কতা

আগের সংবাদ

কমিটির সমস্যা সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন নেত্রী

পরের সংবাদ

নোয়াখালীতে ইউপি নির্বাচনের হাওয়া

প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২০ , ১:২৯ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০২০ , ১:৩০ অপরাহ্ণ

দলীয় মনোনয়নের লড়াইয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা

সময় ঘনিয়ে আসছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের। আইন অনুযায়ী ২০২১ সালের মার্চের তৃতীয় সপ্তাহের আগে ইউপি নির্বাচন শুরু করতে হবে, আর শেষ করতে হবে জুনের আগেই। এ নিয়ে ইতোমধ্যে নির্বাচনের উপযোগী ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা চেয়ে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

এখনও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও ইতিমধ্যে নির্বাচন ঘিরে নোয়াখালী সদর উপজেলার ২০নং আন্ডারচর ইউনিয়নে বইছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। চায়ের দোকানে-দোকানে বইছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে বিশ্লেষণ। নড়েচড়ে উঠেছে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অনেকেই আগাম প্রচার প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও চা-চক্রে নিজেদের জানান দিচ্ছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমানতালে চলছে প্রচার-প্রচারণা। শুধু মাঠেই নয়, দলীয় সমর্থন পেতে একই ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থীর পক্ষ থেকে চলছে নানারকম তদবির, রাজনৈতিক কার্যালয় হয়ে উঠেছে সরগরম। দলীয় সমর্থন পাওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে ওই ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

আন্ডারচর ইউনিয়ন পরিষদ সুত্রে জানা গেছে, এই ইউনিয়নে আয়োতন ৪৬.৯৮ বর্গ কিলোমিটার। ইউনিয়নটির জনসংখ্যা ৪০ হাজার ১১০জন। এরমধ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ২৫,৩৩০ জন। ১২০১৬ জন নারী ভোটারের বিপরীতে পুরুষ ভোট ১৩,৩১৪ জন। ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী হায়দার বকসি। তাঁর সাথে প্রতিদ্ধন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী মো. খুরশিদ আলম, বিএনপি থেকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন মোল্লা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মাওলনা জয়নাল আবেদীন।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান আলী হায়দার বকসি আসন্ন নির্বাচনেরও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তাঁর পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ইতিমধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাওলনা আবু বক্কর মো. ছিদ্দিক, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন, নোয়াখালী জেলা অটোরিকশা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও একরামুল করিম চৌধুরী বাজারের প্রতিষ্ঠাতা মো. খুরশিদ আলম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাব উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন মোল্লা, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট নুর আলম জিকু এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. আবদুর রব আগাম প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন।

সম্ভাব্য প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাওলনা আবু বক্কর মো. ছিদ্দিক বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর বৃহত্তর চরমটুয়া ইউনিয়ন থেকে ২০১১ সালে তিনিই আন্ডারচর ইউনিয়ন বিভক্ত করেন। ওই বছর র্নিদলীয়ভাবে নির্বাচন করে তিনি নবগঠিত আন্ডারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এই ইউনিয়নের বড় বড় যেসব উন্নয়ন চোখে পড়বে, স্থানীয় এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে সব উন্নয়ন তিনিই করেছেন বলে দাবি তাঁর। ছিদ্দিক বলেন, দলের একজন পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইতে জনগন এবং দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে চাপ প্রয়োগ করছেন। তাই তিনি দলীয় নেতৃবৃন্দের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। তিনি আশাবাদি আন্ডারচরকে একটি মডেল ইউনিয়নে রুপান্তর করতে দল তাকে এবার মূল্যায়ন করবেন।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, তিনি দুই বারের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান। দলের দুঃসময়ে একজন কর্মী হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সব সময় কাজ করেছেন তিনি। জসিম বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনিয়নের উন্নয়ন ও দল পরিচালনায় অনেকটা ব্যর্থ। তাই আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মী ও জনগন তাকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে সমর্থন দিচ্ছেন। নেতাকর্মী ও জনগণের স্বার্থে তিনি দলের হাইকমান্ডের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। মনোনয়ন পেলে তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধতায় জনগনের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদি।

২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিদ্ধোহী প্রার্থী ও জেলা অটোরিকশা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খুরশিদ আলম বলেন, গেল নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে নেতাকর্মী ও জনগনের গণ সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। কিন্তু পরবর্তী নির্বাচনে মূল্যায়ন করা হবে দলীয় এমন আশ্বাসে তিনি ভোটের আগের দিন নির্বাচনী মাঠ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। ওই নির্বাচনে তাকে ভোটের মাঠে থাকার সুযোগ দিলে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হতেন বলে দাবি করেন। এবারও তিনি দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। গত নির্বাচন পূর্ববর্তী আশ্বাসের বিষয়টি নেতৃবৃন্দ মূল্যায়ন করবেন বলে আশাবাদি খুরশিদ।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন নিয়ে তিনি প্রার্থী হয়েছে। দীর্ঘদিন দলের দায়িত্ব পালন করার সময় দলের কাছে তেমন কিছুই চাননি তিনি। এবার আসন্ন নির্বাচনে দলের কাছে দলীয় মনোনয়ন দাবি করছেন এ নেতা। একজন ত্যাগী কর্মী হিসেবে দল তাকে মূল্যায়ন করবেন বলে আশা করছেন সাহাব উদ্দিন।

দলের প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ যুবলীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে হাইকমান্ডে মনোনয়ন দাবি করবেন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুর রব। তিনি বলেন, তৃণমূল আমার সাথে আছে, দল মনোনয়ন দিলে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন।

এদিকে, বিএনপি এবং তাদের ঐক্য জোটের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন মোল্লা একক প্রার্থী হিসেবে নাম শুনা যাচ্ছে। হারুন মোল্লা বলেন, এখনকার নির্বাচনে তো ভোট হয় না, হয় ভোট ডাকাতি। তার পরও দল মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করবেন।

তবে ইউনিয়ন ঘুরে পাওয়া জনগনের ভাষ্য হলো- দেশে চলমান উপ-নির্বাচনের মতো আসন্ন নির্বাচন চায় না তারা। তারা চান সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচন। যে নির্বাচনে প্রার্থী যেই হোক ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এমন প্রত্যাশা সাধারণ ভোটারদের।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়