ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এমডির পদত্যাগ

আগের সংবাদ

স্মার্টফোন আসক্তি

পরের সংবাদ

অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি

প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২০ , ৯:৩৪ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০২০ , ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

কোভিড-১৯-এর কারণে পুরো পৃথিবী নিথর নিস্তব্ধ। মানবজীবন শঙ্কা, হতাশা আর মৃত্যুভয়ে জর্জরিত। ক্ষুদ্র একটা জীবাণুর কাছে অসহায় পুরো বিশ্ব। কোনো প্রতিষেধক ছাড়াই প্রায় আট মাস অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক সব কাজকর্ম চলছে মন্থরগতিতে। থমকে গেছে পুরো পৃথিবী। খাদ্য সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, যাতায়াত সমস্যা, থমকে গেছে চিকিৎসাসেবা, অর্থনীতির নীতির নিম্নগামী। একটি জাতির মেরুদণ্ড হচ্ছে শিক্ষা। জাতি গঠনের মূল হাতিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু সেই শিক্ষা কার্যক্রম সারা পৃথিবীতে থেমে গেছে করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাবের কারণে। কখন এই পৃথিবী আবার স্বাভাবিক হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই করুণ পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে সামনে চলা ছাড়া আর কোনো উপায় আপাতত হাতে নেই।

এ বছর জেএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যদিও এটা নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক চলছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন পরীক্ষা না নিয়ে অটোপাস শিক্ষার্থীদের মনোবলকে ভেঙে দিচ্ছে। সিলেবাস সীমিত করে হলেও সময় কমিয়ে দিয়ে পরীক্ষা নেয়া যেত। কিন্তু সরকার শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা চিন্তা করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পড়াশোনা সচল রাখার জন্য অনলাইনভিত্তিক ক্লাসে জোর দেয়ার জন্য মত দেয়। শহরের কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ অনলাইন ক্লাসের দিকে গুরুত্ব দেয়। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান অনলাইনের মাধ্যমে পরীক্ষাও নিচ্ছে। বর্তমান কোভিড-১৯ কালে অনলাইন ক্লাসের যৌক্তিকতা থাকলেও আসলে বাস্তবতা পুরোটাই ভিন্ন। এই যে অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, এটা নিঃসন্দেহে শিক্ষার্থীদের সেশনজট থেকে রক্ষা করার জন্যই নেয়া হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের যেন পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ রাখা যায় তার কথা চিন্তা করে। প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকে সংসদ টিভির মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস নেয়া হচ্ছে। এটা খুব সুন্দর এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উপকারী। কিন্তু এখানেও কিছুটা সমস্যা থেকে যায়। যেমন- অনেকের বাসায় টিভি নেই, তাই যাদের বাসায় টিভি নেই তারা অনলাইন ক্লাসের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর একটি সমস্যা হলো, শিক্ষার্থীরা যখন স্যারের সামনে বসে ক্লাসরুমে ক্লাস করেন, তখন কোনো কিছু না বুঝলে দাঁড়িয়ে স্যারকে প্রশ্ন করার সুযোগ পায়। কিন্তু অনলাইন ক্লাসে সেই সুযোগ পাচ্ছে না যার কারণে তাদের মনে অনলাইন ক্লাস নিয়ে হতাশা তৈরি হয়।

নতুন আঙ্গিকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা কিছুটা প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। বাংলাদেশে বর্তমানে ৬৪ হাজারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। আরো ১৭ হাজারের মতো মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৫০০ এর মতো কলেজ ও সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এত বিরাটসংখ্যক শিক্ষাগোষ্ঠীকে একই প্লাটফরমে নিয়ে এসে ক্লাস নেয়া অনেক কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল ব্যাপার।

বাংলাদেশে সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অনলাইন ক্লাসের কার্যকারিতা নিয়ে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক উভয় ধরনের মত রয়েছে। আমাদের দেশে এখনো নগরায়ণ পুরোপুরিভাবে হয়নি। দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ৫০-৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী গ্রামের নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। এই ৫০-৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় গ্রামে অবস্থান করছে। তাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছে যাদের কাছে ক্লাস করার মতো ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস নেই এবং ডিভাইস কিনে ক্লাস করার মতো সামর্থ্যও নেই। ইন্টারনেট প্যাকেজের দাম ক্রয় ক্ষমতার বাইরে থাকায় নেট কিনে ক্লাস প্রায় অসম্ভব। এক্ষেত্রে সিম অপারেটরগুলো অনেক সময় আশার বাণী শোনালেও কাজের বেলায় নেই। আবার শহরে যারা বসবাস করে তারা অনেকটা এগিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়ে।

তাই তারা অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা পাবে নিশ্চিতভাবে। কিন্তু যারা শহরে বসবাস করছে তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। এবং গ্রামের শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। এটা শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য হবে। আমরা চাই না শিক্ষাক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য হোক। অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার সমতা নিশ্চিত করতে চাইলে কিছু বিষয় ভাবা যেতে পারে। যেমন- শিক্ষকরা যে ক্লাসগুলো নেন সেগুলো রেকর্ড করে অনলাইনে শেয়ার করা। যেন শিক্ষার্থীরা তাদের সুযোগ ও সময় করে দেখে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারে। আর একটা কাজ করা যায়, শিক্ষকরা যে ক্লাস নেন, সে ক্লাসের গুরুত্বপূর্ণ নোট যেন পিডিএফ আকারে শিক্ষার্থীদের কাছে দেন। যেহেতু আপাতত অনলাইন ক্লাসের বিকল্প নেই সেহেতু এই কাজগুলো করলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে বলে মনে করি।

বাস্তবতা হচ্ছে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম কোনো মূল পাঠ্যক্রম নয়। এটা মূলত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার একটা উপায়। শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনা বাইরে গিয়ে অলস সময় না কাটায়। করোনার প্রকোপ কেটে যাবে একদিন। পৃথিবী আবার নিশ্বাস ফিরে পাবে। করোনামুক্ত আকাশে স্বস্তির নিশ্বাস নিতে চাই। আমরা চাই পৃথিবী আবার তার আপন বৈচিত্র্যে ফিরে আসুক। শিক্ষার্থীরা ছুটে চলুক নিজেদের স্বপ্ন পূরণের জন্য দুর্বার গতিতে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবার ফিরে পাক তার চিরচেনা রূপ।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া।
[email protected]

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়
close