ধুনটে আ.লীগ মনোনিত প্রার্থী হারেজ চেয়ারম্যান নির্বাচিত

আগের সংবাদ

জাবির আবাসিক হলে ইয়াবার আড্ডা, আটক ২

পরের সংবাদ

ভয়ঙ্কর কিশোর গ্যাং

প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২০ , ৯:১১ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০২০ , ১০:২৫ অপরাহ্ণ

দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলছে কিশোর গ্যাং কালচার। রাস্তাঘাট, পাড়া, মহল্লা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কিশোর গ্যাং নামে উঠতি বয়সি তরুণরা। দাপটের সঙ্গে চাঁদাবাজি, ভ‚মি দখলদারিত্ব, হুমকি, মারামারি, অপহরণ, ভাড়াটিয়া খুনি ও পথে-ঘাটে মেয়েদের উত্ত্যক্তসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের লাগাম যেন থামছে না। ভয়ঙ্কর কিশোর গ্যাং এখন রীতিমতো ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীতেও পরিণত হয়েছে। পকেটে নগদ টাকা, হাতে অস্ত্র ও মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে বুনো উল্লাসের সঙ্গে হত্যার মতো ঘটনা ঘটাতেও কুণ্ঠাবোধ করছে না। অতি সম্প্রতি এমনই একটি অপকৃষ্ট ঘটনা ঘটেছে বগুড়া জেলায়। বগুড়ায় গত মঙ্গলবার নিজ ভাগ্নেকে লাঞ্ছিত হতে দেখে প্রতিবাদ করতে যাওয়ায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয় রশিদুল ইসলাম নামের এক যুবক। এছাড়া কিছুদিন আগেই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দুই কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষে খুন হয় এক গার্মেন্টস শ্রমিক, সাভারে কিশোর গ্যাং সদস্য মিজানের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত করায় মাদক আস্তানায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ও খুন করা হয় স্কুলছাত্রী নীলা রায়কে এবং কামরাঙ্গীরচরে ব্যক্তিগত শত্রæতার জেরে ১৫-১৬ জন কিশোর গ্যাং সদস্যের হাতে নির্মমভাবে খুন হয় সজীব নামের ১৭ বছর বয়সি এক তরুণ।

২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে উত্তরায় ডিসকো বয়েজ ও নাইট স্টার গ্রুপের অন্তর্দ্বদ্বে ট্রাস্ট স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসে কিশোর গ্যাং। অন্যদিকে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরেও বেরিয়ে আসে কিশোর গ্যাং কালচার এবং তাদের সংঘবদ্ধ অপরাধের ভয়ঙ্কর চিত্র। পুলিশের ক্রাইম অ্যানালাইসিস বিভাগের তথ্যমতে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই কয়েক বছরে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সন্ধান মিলেছে অন্তত ৫০টি এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরেও তা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে।

কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার মূল কারণ নেপথ্যে থাকা এলাকার নেতা কিংবা প্রভাবশালী বড় ভাইদের রাজনৈতিক ছত্রছায়া। ব্যক্তিগত স্বার্থে টাকার বিনিময়ে নেপথ্যে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কিশোর গ্যাংদের দিয়ে বিভিন্ন অসামাজিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ড করায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা এদের হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করে থাকে। ফলে একদিকে যেমন নেতা ও প্রভাবশালী বড় ভাইদের স্বার্থ হাসিল হচ্ছে অপরদিকে কিশোর গ্যাং সদস্যদেরও নিজ নিজ এলাকায় আলাদা একটা প্রভাব বিস্তার লাভ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরদের মধ্যে হিরোইজম ভাব বেশি কাজ করে। যখন তারা দেখে যারা অপরাধ করছে, তারা সমাজে বেশ লাভবান তখন কিশোররা সেটিই অনুসরণ করে থাকে। তাছাড়া আমাদের সমাজে নানা অসঙ্গতিও রয়েছে বটে। দেশীয় সংস্কৃতিকে দূরে ঠেলে বিদেশি সংস্কৃতিকে ধারণ করে কিশোররা নিজেদের জীবনে তার চর্চা করছে। অনলাইনভিত্তিক সস্তা জনপ্রিয় মাধ্যম টিকটক ও লাইকির মাধ্যমেও অপু ভাইয়ের মতো কিশোর গ্যাংও গড়ে উঠছে।

কিশোর গ্যাং দিন দিন একটি জাতীয় সমস্যার দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং কালচার যেভাবে বাড়তে শুরু করেছে, এখনই মোক্ষম সময় এর লাগাম টেনে ধরার। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এদিকে খুব একটা নজর দিতে পারে না। যদিও ইতোমধ্যে প্রশাসন এ ব্যাপারে কিছুটা তৎপর হয়েছে কিন্তু সে তৎপরতা আরো জোরালো করতে হবে। অত্যন্ত দুঃখজনক মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় কিশোর গ্যাংয়ের কিছু সদস্য গ্রেপ্তার হলেও কোনো বিচার না করে দুই-চার দিনের মাথায় প্রভাবশালী নেতাদের সহায়তায় ছাড়া পেয়ে যায়। আর বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই তারা পূর্বের চেয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে, বেড়ে যায় অপরাধপ্রবণতা। তাই কিশোর গ্যাং রোধে সর্বপ্রথম আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করার বিকল্প নেই। সর্বোপরি পরিবারকে সচেতন থাকতে হবে। তাদের সন্তান কীভাবে বেড়ে উঠছে, কাদের সঙ্গে মিশছে, চলাফেরা করছেÑ তা খতিয়ে দেখতে হবে। আমরা চাই, গ্যাং কালচারের এই ভয়ঙ্কর অপরাধ থেকে বাঁচতে এবং নতুন প্রজন্মকে বাঁচাতে।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়