রায়হান হত্যা: পুলিশ কনস্টেবল ৫ দিনের রিমান্ডে

আগের সংবাদ

মুজিবনগরকে দৃষ্টিনন্দন করতে ৫৪০ কোটি টাকার প্রকল্প

পরের সংবাদ

দাফনের আগে নবজাতকের নড়েচড়ে উঠার দায় স্বীকার ঢামেকের

প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২০ , ৪:০৮ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০২০ , ৪:৩৪ অপরাহ্ণ

ঢাকা মেডিকেলে নবজাতককে মৃত ঘোষণার পর দাফন করার সময় নড়েচড়ে উঠার ঘটনায় ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তবে চিকিৎসকসহ সবারই চেষ্টায় কোনো ঘাটতি ছিল না বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে এই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে ঢাকা মেডিকেলের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

পরিচালক বলেন, শাহিনুর বেগম নামে ওই রোগীকে যখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তখনই তার অবস্থা ভালো ছিল না। ধিরে ধিরে তা আরও খারাপের দিকে চলে যায়। এরপর চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেয় ও তার বাচ্চা প্রসবের চেষ্টা চালায়। বাচ্চাটি ২৬ সপ্তাহের অপরিণত বয়সে ভূমিষ্ঠ হয়। মায়ের গর্ভে ২৮ সপ্তাহ পার হলে বেঁচে থাকার মত পরিপূর্ণ বয়স পায়। তবে এই বাচ্চাটি স্বাভাবিক অবস্থায় জীবিত থাকার আগের বয়সেই ভূমিষ্ঠ হয়েছে।

তিনি বলেন, ভূমিষ্ঠ হবার পর চিকিৎসক, নার্স নিয়ম অনুযায়ি পর্যবেক্ষণ করেছে। তবে নবজাতকটির নাইন অফ লাইফ পায়নি। ঘণ্টাখানেক অবজারভেশনেও রাখা হয় নবজাতকটিকে। এরপরই মৃত ঘোষণা করে স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়। এরপরও ৪/৫ ঘণ্টা নবজাতকটি তাদের কাছেই ছিল। পরে দাফনের জন্য নিয়ে গেলে সেখানে নড়েচড়ে উঠলে আবার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বিষয়টি জানার পর দ্রুত এনআইসিইউ ম্যানেজ করে সেখানে রাখা হয় তাকে।

পরিচালক বলেন, ঘটনার পরপরই বিষয়টি তদন্তের জন্য ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিলো। সেই কমিটিই আজ তাদের তদন্ত প্রতিবেদন ও কিছু সুপারিশ করেছেন। তদন্তে উঠে এসেছে জন্মের পর নবজাতকটির কোনো সাইন অফ লাইফ ছিলো না। এটি একটি রেয়ার (বিরল) ঘটনা। তবে চিকিৎসকদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিলো না। মা ও মেয়ে দুজনকেই বাঁচানোর চেষ্টা ছিলো তাদের।
আনফরচুনেটলি এমনটি হয়েছে। তবে এখানে চিকিৎসকদের ব্যর্থতা রয়েছে।

যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে। এই ঘটনায় আদালতে রিটও হয়েছে। সেখান থেকে আরও যদি তদন্ত করার বিষয় আসে তাহলে সেটিও করা হবে।

পরিচালক বলেন, বিশ্বে অনেক দেশেই এমন ঘটনা হয়েছে। এটি একটি ইনম্যাচিউরড বেবি ছিলো। অনেক ক্ষেত্রেই ইনম্যাচিউরড বেবি, সাপে কাটা রোগী, বিদ্যুৎপৃষ্টের রোগীর ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা ঘটে। যারা পরে অনেক সময় ডেভোলপ করে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের অনেকগুলো প্যারামিটার আছে যেগুলো দিয়ে আমরা বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হবার পর পরীক্ষা নিরীক্ষা করি। তার সবই করা হয়েছিলো। তবুও তারা নবজাতকটির কোনো সাইন অফ লাইফ পায়নি। ওইসময়ে যে চিকিৎসক ও নার্সরা কাজ করেছে তারা হয়তো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়নি।

তিনি বলেন,  তারা আরো কিছু চেষ্টা করতে পারতো। হয়তো তা করেনি বা বুঝতে পারেনি। এই ঘটনায় কারো নেগলেসি, দায়িত্বহীনতা তদন্তে পাওয়া যায়নি। তারা কয়েক দফায় প্রচেষ্টা করেছিল। তবে তাদের শতভাগ ছিল না, তার মানে তাদের ব্যর্থতা ছিল। তবে ইচ্ছাকৃত নেগলেসি ছিল না। প্রতিবেদনে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ট্রেনিং প্রোগ্রামের বিষয়েও রিকমেন্ড করা হয়েছে। আমরাই এই ঘটনার পুরো দায় নিচ্ছি, আমরা মিস করেছি, এটি আমাদের ব্যর্থতা, যার যেখনে দায়বদ্ধতা আছে সেটা ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তদন্ত কমিটি ও হাসপাতালটির নবজাতক বিভাগের প্রধান ডা: মনীষা ব্যানার্জী বলেন, শিশুটি এখন অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে ও সেলাইন চলছে। আগের চাইতে ভাল আছে। আজ তাকে মুখে খাবার খাওয়ানো শুরু করব। শিশুটি বেঁচে গেলেও মিরাকেল হবে বলে আমরা আশাবাদি। তবে এখনও ইনফেকশনের চান্স রয়েছে। শিশুটি এখনও শঙ্কটাপন্নই বলা যায়।

তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে আমাদের মনে হয়েছে এটি অনিচ্ছাকৃত ভুলের মধ্যে পড়েছে। তবে আমাদের এখানে “নিউনেটাল লিক” ও “নিউনেটাল প্রেশেন্ট মনিটর” নেই। এগুলো থাকলে এরকম ঘটনা ঘটনার আর কোনো সুযোগ থাকবেনা।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়