দূরত্ব কমাতে হবে

আগের সংবাদ

কালীগঞ্জ ইউপি উপ-নির্বাচনে অলির বিজয়

পরের সংবাদ

করোনা ইস্যুতে খেলাপিরা যেন ছাড় না পায়

প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২০ , ৯:৩০ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০২০ , ৯:৩১ অপরাহ্ণ

ব্যাংকিং খাতে কি শৃঙ্খলা ফিরবে না? ব্যাংক পরিচালনায় অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অনিয়ম-দুর্নীতি, মন্দঋণ বৃদ্ধি সব মিলিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে ব্যাংকিং খাতে। এর মধ্যে করোনা ভাইরাসের হানায় যেন এ খাত তছনছ হয়ে গেছে। কোভিড ১৯-এর প্রভাবে আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ায় ব্যাংকের কমিশনও তলানিতে ঠেকেছে। এদিকে ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে একটানা ঋণ আদায় বন্ধ রয়েছে। বেশিরভাগ মেয়াদি ঋণের গ্রাহকই এ সুযোগে ঋণ পরিশোধ করছেন না। ফলে আর্থিক খাতে দিন দিন ঝুঁকি বেড়ে চলছে। যা দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত। জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকেই ঋণখেলাপি নীতিমালায় ছাড় দেয়া হচ্ছে। প্রথমে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত, পরে সময় বাড়িয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়। ছাড় দেয়া সময়ের মধ্যে ছোট-বড় প্রায় সব ধরনের ঋণগ্রহীতাই ঋণ পরিশোধ করছেন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন দেখা গেছে, নিয়মনীতি না মেনে ঋণ দেয়ায় খেলাপি ঋণ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে দেশের আর্থিক খাতে। গত জুন শেষে আরো সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। এতে ঋণখেলাপিদের কাছে আটকে আছে মোট আড়াই লাখ কোটি টাকা। এ সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলার সংখ্যাও আড়াই লাখের বেশি। করোনার মধ্যেই ব্যাংকিং খাতের সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে ‘ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট’ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে দেখা গেছে, দেশে কার্যত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে ৫ ব্যাংকের কাছেই রয়েছে মোট খেলাপি ঋণের ৪৫.৮ শতাংশ। বাকি ৫৫ ব্যাংকে খেলাপির পরিমাণ ৫৪.২ শতাংশ। অন্যদিকে ১০ ব্যাংকের কাছেই খেলাপি ঋণ রয়েছে ৬৩.৩ শতাংশ। বাকি ৫০ ব্যাংকে খেলাপির হার ৩৬.৭ শতাংশ। এমন অবস্থা চলতে থাকলে কেবল আমানতকারী বা ব্যবসায়ীরাই ব্যাংকবিমুখ হবেন না, উৎপাদন, বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখনই সরকারকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শক্ত হাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। পর্যবেক্ষক মহলের মতে, অনিয়ন্ত্রিত খেলাপি ঋণ ও খেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার কারণেই মূলত ব্যাংকিং খাতে এমন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খাতটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কবলে পড়েছে। পরিচালনা পর্ষদের স্বেচ্ছাচারিতা, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অনিয়ম-দুর্নীতি তার ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাবই ব্যাংকিং খাতকে এই নাজুক অবস্থায় ফেলেছে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনার বড় চ্যালেঞ্জ এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা সরকারের সামনে। শক্ত হাতে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এজন্য গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন, ব্যাংকগুলোর ওপর তদারকি ও নজরদারি বাড়ানো, প্রয়োজনে আইনি সংস্কার সবকিছুই করতে হবে।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়