ফের সক্রিয় চাঁদাবাজ চক্র

আগের সংবাদ

দুশ্চিন্তার নাম ‘কিশোর গ্যাং’

পরের সংবাদ

হাইব্রিডদেরই জয়জয়কার

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২০ , ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৯, ২০২০ , ১২:৫৪ অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা শুরু

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি নূর চৌধুরীর আপন ভাতিজা মতিউর রহমান মতি। খুনি পরিবারের এই সন্তানকে জাতির পিতার হাতেগড়া আওয়ামী লীগের সিলেট জেলার উপপ্রচার সম্পাদক করার প্রস্তাব করেছেন জেলার বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। এখানেই শেষ নয়। শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী কারাবন্দি দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তি দাবিতে লন্ডনে সাঈদী মুক্তি পরিষদের অন্যতম নেতা মেজবাহ জামালের ছোটভাই হুমায়ুন ইসলাম কামালের নামও প্রস্তাব করা হয়েছে যুগ্ম সম্পাদক পদে। যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের ভাতিজা আব্বাসউদ্দিনের নাম রয়েছে প্রস্তাবিত কমিটিতে। উপদপ্তর পদে প্রস্তাব করা হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতির ছেলে মজিরউদ্দিনকে। খুনি-যুদ্ধাপরাধী-বিএনপি-জামায়াতের জয়জয়কারে প্রস্তাবিত কমিটি অনুমোদন না দিতে ত্যাগী-বঞ্চিত নেতাকর্মীরা ধরনা দিয়েছেন কেন্দ্রে। হাইব্রিডদের সব তথ্যসহ চিঠি পাঠিয়েছেন। তাদের একমাত্র ভরসা দলীয়প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, প্রস্তাবিত ৬৯ সদস্যবিশিষ্ট সিলেট জেলা কমিটিতে বাদ পড়েছেন বঙ্গবন্ধুর আর্দশের পরীক্ষিত সৈনিকরা। তাদের বদলে ঠাঁই পেয়েছেন পাথরখেকো, বদলি-বাণিজ্য ও হাটবাজারের দালাল, বিতর্কিতরা, আত্মীয় কোটা এবং নিষ্ক্রিয়রা। ৭১ সদস্যবিশিষ্ট সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ কমিটিতেও অনুপ্রবেশকারীদের প্রাধান্য। শুধু সিলেটই নয়, দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও হাইব্রিডদের দাপটে কোণঠাসা ত্যাগীরা। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা উপেক্ষা করেই পকেট কমিটি, হাইব্রিডদের ছড়াছড়ি। তবে দলীয়প্রধানের হুঁশিয়ারি উল্লেখ করে দলের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, যেসব জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে শুধু নিজেদের পছন্দমতো লোক রাখবেন, যারা প্রতিদ্ব›দ্বীদের কমিটি থেকে বাদ দেবেন, বিতর্কিতরা ঠাঁই পাবেন, তাদের কমিটি অনুমোদন হবে না। ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ব্যাপারে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কারো পকেট কমিটি অনুমোদন হবে না। বিতর্কিতদের দলে ঠাঁই দেবেন না। ঘরের ভেতর ঘর, মশারির ভেতর মশারি টানাবেন না।

জানতে চাইলে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, বিতর্কিতদের ব্যাপারে দলীয়প্রধানের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। অনুপ্রবেশকারী, সুনামবিনষ্টকারীদের নাম প্রস্তাবকারী কমিটি অনুমোদন দেয়া হবে না। কমিটি প্রকাশের পরও কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে অবশ্যই বাদ দেয়া হবে।

এদিকে করোনা ভাইরাসে থমকে যাওয়া মাঠের রাজনীতি চাঙ্গা করতে উদ্যোগী ক্ষমতাসীন দল। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মাঠের রাজনীতিতে ফেরাতে ইতোমধ্যে ৮টি সাংগঠনিক কমিটি গঠন হয়েছে। ৩২ সাংগঠনিক জেলার প্রস্তাবিত কমিটি কেন্দ্রের হাতে। এছাড়া সম্মেলন করার ১০ মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে যাচ্ছে দলের ৫টি সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন। গত বছরের নভেম্বরে সম্মেলন হওয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে আজ।

জানা গেছে, শ্রমিক লীগের কমিটিতে কিছু ঝামেলা থাকায় তা সমাধানের জন্য দ্রুত কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে কৃষক লীগ, যুবমহিলা, মৎস্যজীবী লীগ, তাঁতি লীগের কমিটি ঘোষণা যে কোনো সময়। আজ সোমবার এই ৪ সংগঠনের জমাকৃত কমিটি শেষবারের মতো চ‚ড়ান্ত যাচাইবাছাই করে অনুমোদন দিতে পারেন দলীয় সাধারণ সম্পাদক, তারপর পর্যায়ক্রমে ঘোষণা হবে। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে সমস্যা এখনো শেষ হয়নি। তবে এ মাসেই চ‚ড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে। পর্যায়ক্রমে সব সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জানান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সংগঠনে হাইব্রিডদের কপাল পুড়ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চা, জনগণের কাছে ভাবমূর্তি উজ্জ¦ল রাখার জন্য ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন জরুরি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। জানতে চাইলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারন-অর-রশিদ ভোরের কাগজকে বলেন, দলীয়প্রধানের কঠোর নির্দেশনার পরও দলে অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই হওয়া দুঃখজনক। অনুপ্রবেশকারীরা কখনোই দলের জন্য শুভ বয়ে আনে না। বরং দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, জনগণের কাছে দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ঠ করে। কারণ এরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে অনুপ্রবেশ করে। এদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দলের উন্নয়ন চাপা পড়ে যায়। তিনি বলেন, যারা দলে অনুপ্রবেশকারীদের সুযোগ দেন, সেসব নেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

তৃণমূল নেতা ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপদপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী ভোরের কাগজকে বলেন, প্রস্তাবিত সিলেট জেলা কমিটিতে বিএনপি-জামায়াত-হাইব্রিডদের দাপটে কোণঠাসা ত্যাগী ও দুঃসময়ের নেতাকর্মীরা। আমরা কেন্দ্রের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধুকন্যা বিএনপি-জামায়াত নিয়ে প্রস্তাবিত কমিটি অনুমোদন না করে ত্যাগীদের দায়িত্ব দেবেন।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়