এনআইডি সংশোধনে দুর্ভোগের শেষ কোথায়?

আগের সংবাদ

হাইব্রিডদেরই জয়জয়কার

পরের সংবাদ

ফের সক্রিয় চাঁদাবাজ চক্র

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২০ , ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৯, ২০২০ , ১২:৫৮ অপরাহ্ণ

সড়কের একাধিক পয়েন্টে চাঁদা না দিলে চাকা ঘুরে না

সারাদেশের সড়ক-মহাসড়কে পরিবহন সেক্টরে ফের সক্রিয় উঠেছে চাঁদাবাজরা। তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। চাঁদা না দিলে গাড়ি থামিয়ে রাখা হয়। মাঝ রাস্তায় যাত্রীদের নিয়ে বিড়ম্বনা এড়াতে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা লাইনম্যানদের হাতে নির্ধারিত চাঁদার টাকা তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন শ্রমিকরা। শুধু সড়ক-মহাসড়কেই নয়, রাজধানীর পরিবহনেও আবার চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। বাস টার্মিনালগুলোতে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কাছে পরিবহন শ্রমিকরা অসহায় হয়ে পড়েছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা। তারা বলছেন, কোথাও চাঁদাবাজি নেই। পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়, এমন লোকজনই কোথাও কোথাও চাঁদাবাজির মাধ্যমে এই সেক্টরকে কলুষিত করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মে মাসে পুলিশ প্রশাসন সড়ক-মহাসড়কে পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধের ঘোষণা দেয়। পুলিশের এই উদ্যোগকে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারাও সমর্থন জানান। এরপর পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। বেশ কিছু চাঁদাবাজকে তখন পুলিশ গ্রেপ্তারও করে। মালিক-শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে বহিষ্কারও করা হয়। এরপর চাঁদাবাজি অনেকটাই কমে আসে।

কিন্তু সম্প্রতি আবার চাঁদাবাজরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে পরিবহন চালক ও তাদের সহযোগীরা অভিযোগ করেছেন। উত্তরবঙ্গের সড়ক-মহাসড়কে অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন রুটের বাসচালকরা জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে রংপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসকে সড়ক-মহাসড়কে কয়েক দফায় ১ হাজার টাকা থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হচ্ছে। ঢাকায় টার্মিনালে এক দফা চাঁদা পরিশোধ করে বাস ছাড়ার পর সিরাজগঞ্জ থেকে দিনাজপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে চালককে চাঁদা পরিশোধ করতে হয়। সিরাজগঞ্জের পর বগুড়া ও রংপুর মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চাঁদা আদায়কারীরাও সক্রিয়। রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের নামেও চাঁদা উঠছে। ঢাকা-মাওয়া সড়ক ব্যবহারকারী বাসচালকরা জানান, মাওয়া ও ফরিদপুরে তাদের চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে বাস ফেরিতে উঠতে দেয়া হয় না।

রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান বাস টার্মিনালে বেশ কয়েক মাস চাঁদাবাজদের দেখা মেলেনি। কিন্তু সম্প্রতি সব ধরনের পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় চাঁদাবাজরা আবার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। সায়েদাবাদ বাসটার্মিনাল থেকে চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন রুটের বাস ছেড়ে যায়। চাঁদাবাজরা বাস ছাড়ার আগে এসে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা না দিলে বাস ছাড়তে দেয়া হয় না। বাসচালকদের অভিযোগ, করোনার কারণে এমনিতেই বাসের যাত্রী কম। সিট পূর্ণ না হওয়ায় আগের মতো আয় নেই। তারপরও চাঁদা ছাড়া বাস চালানো সম্ভব হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক নেতা জানান, কয়েক মাস চাঁদাবাজি বন্ধ ছিল। এখন চাঁদাবাজরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠার পর সাংগঠনিকভাবে কয়েকজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালেও চাঁদাবাজরা এখন সক্রিয়া। রাজধানীতে চলাচলরত বাস ও মিনিবাস থেকে এখন চাঁদা তোলা হচ্ছে। একাধিক বাসচালক জানান, চাঁদা না দিলে কন্ট্রাকটর ও হেলপারকে মারধর করা হচ্ছে। পুরনো চাঁদাবাজদের সঙ্গে নতুন নতুন চাঁদাবাজদের চেহারা দেখা যাচ্ছে।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, রাজধানীতে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৫ হাজার গণপরিবহন চলাচল করছে। এসব বাস থেকে মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা চাঁদা তোলা হয়। সব টার্মিনালেই এখন চাঁদাবাজরা সক্রিয় রয়েছে। সমিতির কাছেও নালিশ দিয়ে লাভ হচ্ছে না। বাস টার্মিনালগুলো সিটি করপোরেশনের অধীনে। কিন্তু সিটি করপোরেশনও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। টার্মিনাল এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারাও চাঁদাবাজির বিষয়ে অবগত। কিন্তু তারাও নীরব।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এবং ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ ভোরের কাগজকে বলেন, পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি আমাদের কাম্য না। এখন রাস্তাঘাটে কোনো চাঁদাবাজি হচ্ছে না। কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেয়া হবেও না। চাঁদাবাজি বন্ধে আমাদের টিম কাজ করছে। তবে পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়, এমন কিছু লোক চাঁদাবাজির চেষ্টা করছে। তারা কেউ আমাদের সংগঠনের লোক না। যদি আমাদের কারো বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে গত ২৯ মে আইজিপির সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে আইজিপি চাঁদাবাজি বন্ধে অভিযান চালানোর কথা বলেন। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে চাঁদাবাজি বন্ধের সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এরপর গত ১ জুন থেকে অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে প্রায় দেড় শতাধিক চাঁদাবাজকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে চাঁদাবাজি অনেকটাই বন্ধ হয়। কিন্তু সম্প্রতি আবার চাঁদাবাজরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়