পাকিস্তানকালের সরকারি দলিলপত্র উন্মুক্ত করা প্রয়োজন

আগের সংবাদ

শ্যুটিংয়ে আঘাত পেলেন আমির খান

পরের সংবাদ

পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ভূমিকা চাই

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২০ , ১০:০৭ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৯, ২০২০ , ১০:০৭ অপরাহ্ণ

পরিবহন খাতের চাঁদাবাজির বিষয়টি একেবারে ওপেন সিক্রেট। দীর্ঘদিন ধরে এ খাতে শত শত কোটি টাকার চাঁদা আদায় করছে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো, যা নিয়ে বিভিন্ন সময় ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। মাঝে কিছুদিন অভিযানের মুখে বন্ধ থাকলে আবারো সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজির খবর পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল ভোরের কাগজে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত প্রধান প্রতিবেদনে সড়ক-মহাসড়কসহ রাজধানীতে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যের চিত্র উঠে আসছে। রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী পরিবহনগুলোকে প্রতিদিন টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে পয়েন্টে ১০০ থেকে ৫০০ করে চাঁদা দিতে হচ্ছে পরিবহনগুলো পরিচালনাকারী কর্মচারীদের। অনেক সময় মালিককেও এ চাঁদা দেয়ার বিষয়টি তারা জানাতে পারেন না। রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে দক্ষিণাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের ৪৫টি রুটে প্রতিদিন সহস্রাধিক বাস যাত্রী নিয়ে টার্মিনাল ছাড়ে। এছাড়া কাছাকাছি কয়েকটি রুট মিলিয়ে এ টার্মিনাল থেকে ৬০টি রুটে বাস চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যেকটি রুটে প্রত্যেক বাসকে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা শুধু সায়েদাবাদেই চাঁদা দিতে হয়। ঢাকার অন্যান্য প্রবেশ-নির্গমন মুখের টার্মিনালগুলোতেও একই অবস্থা। এ টাকার মধ্যে রয়েছে মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি ও পুলিশের ভাগ। এছাড়া জিপি (ব্যানার), কলার, টার্মিনালের মাস্তান, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন ভাগে এ টাকা তোলা হয়। এরপর পথে পথে চাঁদা। অন্যদিকে চেকপোস্টগুলোতে পুলিশ বেপরোয়া। হাইওয়ে চেকপোস্ট ছাড়াও রাজধানীর প্রবেশ-নির্গমন পথের কিছু পয়েন্টে পুলিশের চাঁদাবাজির কোনো রাখ-ঢাক থাকে না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মোটরসাইকেলের বা গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স থাকলেও নানা খোঁড়া অজুহাতে টাকা আদায় করছে পুলিশ। ট্রাকগুলো থেকে নেয়া হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা। পরিবহন খাতে তিন পদ্ধতিতে চাঁদা তোলা হয়। এগুলো হচ্ছে ১. দৈনিক মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা, ২. বাস-মিনিবাস নির্দিষ্ট পথে নামানোর জন্য মালিক সমিতির চাঁদা এবং ৩. রাজধানী ও এর আশপাশে কোম্পানির অধীনে বাস চালাতে দৈনিক ওয়েবিল বা গেট পাস (জিপি) চাঁদা। পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি দমনে নানা সময়ে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও কার্যকর কিছু হয়নি। সর্বশেষ গত মে মাসে পুলিশ প্রশাসন সড়ক-মহাসড়কে পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধের ঘোষণা দেয়। পুলিশের এই উদ্যোগকে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারাও সমর্থন জানান। এরপর পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। বেশ কিছু চাঁদাবাজকে তখন পুলিশ গ্রেপ্তারও করে। এছাড়া চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশের সম্পৃক্ততা নতুন নয়। এমন অভিযোগে পুলিশ সদস্যও ক্লোজড হয়েছিল। এরপরও থেমে নেই পুলিশের চাঁদাবাজি। নানা কৌশলে চলছে পুলিশের চাঁদাবাজি, পুলিশের চাঁদাবাজি রুখতে কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজরদারি দরকার। পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ঘটে মূলত রাজনৈতিক শক্তি ও পুলিশি শক্তির জোরে। তাই পরিবহন চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও সদিচ্ছা ও দৃঢ়তা প্রয়োজন।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়