মঙ্গলবার ব্যাংক বন্ধ থাকবে ৫৪ উপজেলায়

আগের সংবাদ

প্রাথমিকের নিয়োগে আবেদনের যোগ্যতা স্নাতক

পরের সংবাদ

দশম শ্রেণীর কোঠা না পেরুলেও দন্ত চিকিৎসক শ্বশুর-জামাতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২০ , ৭:৩৩ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৯, ২০২০ , ৭:৩৩ অপরাহ্ণ

দশম শ্রেণীর কোঠা না পেরুলেও শ্বশুর-জামাতা বিশেষজ্ঞ দন্ত চিকিৎসক পরিচয়ে কাজ করে যাচ্ছিলেন বেশ অনেকদিন ধরেই। ব্যবস্থাপত্রও (প্রেসক্রিপশন) ব্যবহার করছিলেন অন্য আরেক চিকিৎসকের। দাতের এক্স-রে করার জন্য খিলগাঁওয়ের এক মার্কেটে হোসাইনি এক্স-রে নামে একটি প্রতিষ্ঠানও ছিল তাদের। তবে র‌্যাবের অভিযানের পরেই বেরিয়ে আসতে থাকে তাদের আসল পরিচয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চগড় ডেন্টাল কেয়ার নামে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করাসহ শ্বশুর মো. নুর হোসেন ও জামাতা মো. জাহিদুল ইসলামকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর খিলগাঁও তিলপাপাড়া এলাকায় ভূয়া ডেন্টাল কেয়ারের অভিযান শেষে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ এর সহায়তায় সোমবার দুপুরে ভূয়া ওই ডেন্টাল কেয়ারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বেশ কয়েকজন রোগীরও দেখা মিলে। পরে শ্বশুর ও জামাতাকে দন্ত চিকিৎসা বিষয়ে পড়াশোনা ও পঞ্চগড় ডেন্টাল কেয়ার নামে প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদনের প্রমাণ পত্র দেখাতে বলা হলে তারা ব্যর্থ হন। পরে ব্যপক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শ্বশুর নূর হোসেন তৃতীয় আর জামাতা জাহিদুল ইসলাম পড়েছেন দশম শ্রেণি পর্যন্ত।

জিজ্ঞাসাবাদে ভুয়া চিকিৎসক নূর হোসেন ওষুধের নামও ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারছিলেন না। জামাতা জাহিদুল আগে পাথর কোম্পানিতে চাকরি করতেন, সেটা ছেড়ে শ্বশুরের সঙ্গে ডেন্টাল ক্লিনিকে ভুয়া চিকিৎসা দেয়া শুরু করেন। জিহান কবির নামের এক চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে স্বাক্ষর করে চিকিৎসাপত্র দিয়ে আসছিলেন তারা। জামাই জাহিদুল ওষুধের নাম লিখতেন আর শ্বশুর নূর হোসেন শুধু স্বাক্ষর করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া চিকিৎসা দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, নূর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। তিনি আগে চিকিৎসকদের অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন।

মাঝে মাঝে তিনি চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে চিকিৎসাপত্রও দিতেন! বছরখানেক আগে তিনি নিজেই বেশি লাভের আশায় এই ‘পঞ্চগড় ডেন্টাল কেয়ার’ নামক প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। জামাই-শ্বশুর মিলে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। দাতের এক্স-রে করার জন্য খিলগাঁওয়ের এক মার্কেটে হোসাইনি এক্স-রে নামে একটি প্রতিষ্ঠানও ছিল তাদের। রোগীদে দাতের এক্স-রে করাতে সেখানেই পাঠাতেন। এমন পরিপ্রেক্ষিতেই শ্বশুর নুর হোসেনকে দুবছরের ও জামাতা জাহিদুল ইসলামকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়াসহ প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়
close