ধর্ষণের বিচার ৭ দিনেই শেষ, আসামির যাবজ্জীবন

আগের সংবাদ

খুলনায় পাটকল শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ১৫

পরের সংবাদ

কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে সিরামিকস খাতে

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২০ , ১২:৫৮ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৯, ২০২০ , ২:২৭ অপরাহ্ণ

করোনাপরবর্তী অর্থনীতি

সিরামিকস খাতে বিদেশি আমদানি নির্ভরতা কমাচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। উন্নত মানের টাইলস তৈরির পাশাপাশি বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে এ খাতে। বাড়ছে কর্মসংস্থানের পরিমাণ। করোনা-পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ভ‚মিকা রাখবে দেশের সিরামিকস খাত। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এক সময় শখের বশে সিরামিক পণ্য ব্যবহার করতেন দেশের মানুষ। তখন সেগুলোর দাম ছিল চড়া। ফলে উচ্চবিত্তরা ছাড়া এগুলো কেউ ব্যবহার করতে পারত না। ওই সময় হাতেগোনা কিছু কোম্পানি সেগুলো সাপ্লাই দিত। তবে গত এক দশকে দেশে সিরামিক পণ্যের বাজারে বড় পরিবর্তন এসেছে।

এ দেশেই গড়ে উঠেছে প্রায় ৭০টি ফ্যাক্টরি। প্রতিবছর স্থানীয় বাজারেই বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার সিরামিক পণ্য। গত বছর রপ্তানিও হয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার সিরামিক পণ্য। ধীরে ধীরে ভালো অবস্থানের দিকে এগুচ্ছে সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ। এ ইন্ডাস্ট্রির বেশ কয়েকটি সাব-সেক্টর রয়েছে। এগুলো হলোÑ বিল্ডিং ম্যাটারিয়ালসের সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি (টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার), টেবিলওয়্যারের সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি, অ্যাডভান্স সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি ইত্যাদি। বিল্ডিং ম্যাটারিয়ালস বলতে ফ্লোর বা ওয়াল টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যার। টেবিলওয়্যার সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি বলতে থালা-বাসন, কাপ-পিরিচ, ডাইনিংয়ে ব্যবহারযোগ্য সিরামিক পণ্য রয়েছে।

অ্যাডভান্স সিরামিকের মধ্যে রয়েছে টেলিভিশনের পার্টস থেকে কৃত্রিম দাঁতসহ স্পেস ক্রাফটের মতো কিছু স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশ। সিরামিক ইন্ডাস্ট্রির মার্কেট সাইজ সারা বিশ্বের হিসাবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ মাত্র ১ শতাংশ। তাই এই শিল্প নিয়ে প্রচুর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। সিরামিকের বিশ্বের সবচেয়ে বড় মার্কেট শেয়ার রয়েছে চীনের। যা বিশ্ব চাহিদার মোট ৭০ শতাংশ। চীনের পরে সিরামিক খাতে পরের অবস্থানে রয়েছে ইতালি।

যদিও টাইলসের আদি উৎপাদনকারী দেশ ইতালি। এখনো বিশ্বে উন্নত মানের টাইলস তৈরিতে সুনাম রয়েছে ইতালির। দেশের বাজারে সিরামিকস খাতে আমদানিনির্ভর হচ্ছে টেবিলওয়্যার-১.১৪ শতাংশ, টাইলস-১৯.৭৫ শতাংশ, স্যানিটারিওয়্যার-৭.৯১ শতাংশ। দুই বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ১৫ শতাংশ। প্রস্তুতি থাকলেও ৬-৭টি ইন্ডাস্ট্রি কোভিডজনিত কারণে চালু হতে পারিনি। তবে এ শিল্প খাতে যুক্ত হতে পারে শিগগির।

দেশের সিরামিক খাত নিয়ে কথা হয় পা-ওয়াং সিরামিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুব আলমের সঙ্গে। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, শখের বশে মানুষ সিরামিক পণ্য ব্যবহার করতেন। গত এক দশকে দেশে সিরামিক পণ্যের বাজারে বড় পরিবর্তন এসেছে। এ দেশেই গড়ে উঠেছে প্রায় ৭০টি ফ্যাক্টরি। প্রতিবছর স্থানীয় বাজারেই বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার সিরামিক পণ্য।

তাই সরকার প্রতিনিয়ত চাচ্ছে আমরা যেন উন্নত পণ্য উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দেই। কারণ শিল্পে স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা পরিহার করতে পারি। এই শিল্প উদ্যেক্তা আরো বলেন, দেশের সিরামিক খাতে বিশেষ করে বেকারত্ব দূর, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, আমদানি নির্ভরতা কমানো তথা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক  ভূমিকা রাখছে পা-ওয়াংয়ের রোমা টাইলস দেশের বাজারে এখন বেশ জনপ্রিয় ব্র্যান্ড।

ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ডের এ টাইলস সৃষ্টিশীলতা, আধুনিকতা এবং রুচি ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। বগুড়ার বনানীতে প্রতিষ্ঠিত সর্বাধুনিক স্বয়ংক্রিয় মেশিনে প্রস্তুত হচ্ছে রোমা টাইলস। সারাদেশে ক্রেতা চাহিদা পূরণ করছে এ ব্র্যান্ড। হাঁটি হাঁটি করে ৬ বছরে পা দিল কোম্পানিটি। এরই মধ্যে সব ধরনের ক্রেতার মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে পা-ওয়াংয়ের পণ্য রোমা টাইলস।

টাইলসের আদিভ‚মি ইতালি। বিশ্বজুড়ে এ সেক্টরে দেশটির রয়েছে অগাধ সুনাম। সেই মান, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে এগিয়ে চলেছি আমরা।
আমাদের প্রতিটি পণ্য ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ডে তৈরি। উৎপাদিত পণ্যমানের বিষয়ে তিনি বলেন, সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি ভালো অবস্থানের দিকে এগোচ্ছে। আমাদের এখন মূল পণ্য ফ্লোর টাইলস। শিগগিরই বাজারে আসবে উন্নতমানের ওয়াল টাইলস বলেও জানান এই উদ্যোক্তা।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়