ইন্টারনেট ও ডিস ধর্মঘট প্রত্যাহার

আগের সংবাদ

শিশু হত্যা ও পাশবিকতা রোধে খেলাঘরের আহ্বান

পরের সংবাদ

৯ বিকাশ প্রতারক দুদিনের রিমান্ডে

চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রতারণা করছিল চক্রটি

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১৭, ২০২০ , ৭:৫১ অপরাহ্ণ

চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে বিকাশ প্রতারণার কাজ করে আসছিল এ চক্রটি। সাধারণ মানুষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজিবীরাও বাদ যায়নি তাদের হাত থেকে। এভাবে কোটি টাকার মতো হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। প্রতারণার কাজে চক্রটি কিং বার্ড ও ভিপিএন সফটওয়্যার ব্যবহার করছিল।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) তাদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে তোলা হলে দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। বিকাশ প্রতারক চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ভোরের কাগজকে এসব তথ্য জানান ডিএমপি গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার মনির। তারা হলেন- মো. সাইফুল ইসলাম (২২), মো. লিটন হোসেন (২৩), মো. জুবায়ের শেখ (২২), মো. গোলাম কিবরিয়া মণ্ডল (১৯), মো. ইমরান মোল্লা (২৩), মো. শাওন হোসাইন মণ্ডল (১৮), মিনজারুল ইসলাম মোল্লা (২৫), মো. আশরাফ মোল্লা (২৬) ও সাগর আহম্মেদ (২৫)। রাজধানীসহ ঢাকা ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় গত শুক্রবার অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্বদানকারী সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার মনির বলেন, সুপ্রিমকোর্টের একজন আইনজিবী ৯০ হাজার টাকা বিকাশ প্রতারণার শিকার হয়ে রামপুরা থানায় মামলা করেন। ওই মামলাই তদন্ত করতে গিয়ে প্রতারক চক্রের এ সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিকাশ প্রতারক চক্রের প্রথম গ্রুপ মাঠ পর্যায়ে অবস্থান করে বিভিন্ন বিকাশের দোকানে টাকা বিকাশ করার কথা বলে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে পূর্বে লেনদেনকৃত বিকাশ খাতার ছবি তুলে নেয় তারা। পরবর্তী সময়ে উক্ত ছবি হোয়াটসঅ্যাপ-এ দ্বিতীয় গ্রুপের কাছে স্থান উল্লেখ করে পাঠিয়ে দেয়। দ্বিতীয় গ্রুপ তার কাছে পাঠানো বিকাশ খাতা থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন নম্বরে বিকাশ দোকানদার পরিচয়ে ফোন করে ও জানতে চায় যে, তাদের কাছে পাঠানো টাকা তারা পেয়েছেন কিনা এবং ক্যাশ আউট করেছেন কিনা। যদি তারা জানায় পেয়েছে কিন্তু টাকা তুলেনি বা ক্যাশ আউট করেনি তখন প্রতারকরা তাদের প্রতারণার বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার শুরু করে।

প্রতারণার ছলে বলতে থাকে যে, আমার দোকান থেকেই একই সময়ে কয়েকটি নাম্বারে পাঠানো টাকা নিয়ে অভিযোগ আসায় তাদের নাম্বার লক করতে গিয়ে আপনার নাম্বারও লক হয়ে গেছে। আপনাকে বিকাশ আফিস থেকে ফোন করে আনলক করে দেবে। তিনি আরো বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে তৃতীয় গ্রুপ বিকাশ কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস অফিসার পরিচয় দিয়ে, অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে বিকাশ অফিসের নাম্বার ক্লোনিং করে ফোন দেয়। ফোন করে বিভিন্ন কথার ছলে ওটিপি ও বিকাশ পিনকোড নিয়ে নেয়। পরবর্তী সময়ে গ্রাহকের বিকাশ এ্যাকাউন্ট হ্যাক করে প্রতারক চক্র এ্যাকাউন্ট আনলক করার কথা বলে ভিকটিমের বিকাশ এ্যাকাউন্ট এবং প্রতারক চক্রের বিকাশ এ্যাকাউন্টে বিভিন্ন পরিমাণ টাকা দিতে বলে। এই ভাবে হাতিয়ে নেয়া টাকা মাঠ পর্যায়ে থাকা সর্বশেষ অর্থাৎ চতুর্থ গ্রুপ এর কাছে পাঠানো হয়। যারা বিভিন্ন হাত বদল করে ক্যাশ আউট করে, ফলে প্রতারকদের অবস্থান সনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এসএইচ