চট্টগ্রামে ‘ব্রতের ভাত’এর আয়োজন

আগের সংবাদ

ঘাটাইলে ৪৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

পরের সংবাদ

সাত মাস পর খুলেছে প্রেক্ষাগৃহ

সিনেমা হলে কাঙ্ক্ষিত দর্শক চলচ্চিত্রাঙ্গনে প্রাণের ছোঁয়া

শাকিল মাহমুদ

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১৬, ২০২০ , ১০:৪৪ অপরাহ্ণ

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের আতঙ্ক। দর্শকহীনতায় লোকসানের আশঙ্কা। প্রতিষ্ঠিত নায়ক-নায়িকার সিনেমা নেই। নেই খ্যাতিমান পরিচালক, প্রযোজক কিংবা প্রতিষ্ঠিত পরিবেশনা প্রতিষ্ঠানের নতুন কোনো সিনেমা। আরো অনেক ঝুঁকি। এরই মধ্যে উন্মুক্ত হলো রুপালি পর্দা। আর প্রথম দিনেই সিনেমা হলে কাঙ্ক্ষিত দর্শকের উপস্থিতি। এতেই নতুন স্বপ্ন দেখছেন প্রযোজক-পরিবেশকরা। তাদের ধারণা, সিনেমাপ্রেমীদের পদচারণায় প্রাণ পাবে প্রেক্ষাগৃহগুলো। প্রাণের ছোঁয়া লাগবে চলচ্চিত্রাঙ্গনে। এক্ষেত্রে সুপার হিরো-হিরোইনদের সিনেমা মুক্তি দেয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
করোনা মহামারির কারণে ৭ মাস বন্ধ থাকার পর গতকাল শুক্রবার থেকে খুলেছে প্রেক্ষাগৃহ। তবে প্রস্তুতি না থাকায় এবং মানসম্মত সিনেমার অভাবে দেশের অধিকাংশ হলের পর্দা উঠেনি। মূলধারার কয়েকটি চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় থাকলেও ঝুঁকি নেননি প্রযোজকরা। করোনার কারণে দর্শক স্বল্পতায় লোকসান গুনতে চান না তারা।

এ পরিস্থিতিতে লাভ-ক্ষতির হিসাব না করে প্রথম দিনেই গতকাল ঢাকাসহ দেশের ৩৯টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘সাহসী হিরো আলম’ ছবিটি। প্রেক্ষাগৃহ খোলার প্রথম দিনে ঢাকার তাঁতিবাজারের চিত্রামহলে দর্শক ছিল হাতে গোনা। তবে সন্তুষ্ট চিত্রামহল কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে টিকেট কাউন্টারে দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা ভোরের কাগজকে বলেন, দীর্ঘ সময় পর হল খুলেছে। ভেবেছিলাম দর্শকই হবে না। কিন্তু স্বাভাবিক সময়ের মতোই দর্শক পেয়েছি। তবে শাকিব খান বা অন্য কোনো জনপ্রিয় নায়কের ভালো মানের সিনেমা মুক্তি পেলে আরো বেশি দর্শক পাওয়া যেত।

করোনাকালে সিনেমা হলের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে চিত্রামহলের সহকারী ব্যবস্থাপক মেরাজ আহমেদ বলেন, ৭ মাস বন্ধ ছিল। আমরা গত ১৫ অক্টোবর হল খোলার নির্দেশ পেয়েছি। একদিনের মধ্যে সব কিছু পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। তবুও আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করে সব কিছু ঠিক করেছি। স্বাস্থ্যবিধি পালন করে দর্শকদের দূরত্ব রেখে আসনগুলোতে বসানোর ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্কের ব্যবস্থা রয়েছে।

এদিকে সিনেমার প্রতি ভালোবাসা থেকেই প্রেক্ষাগৃহে এসেছেন বলে জানান একাধিক দর্শক। সিনেমাটি যেমনই হোক তারা সিনেমাকে বাঁচিয়ে রাখতেই মূলত প্রথম দিনে সিনেমা হলে এসেছেন। আর স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে হল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে প্রত্যেক দর্শক সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে তাদের মতে, এ সময়ে ভালো কিছু সিনেমা মুক্তি দিলে দর্শক বাড়বে।
চিত্রামহলে দেখা মেলে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাটির অভিনেতা ও প্রযোজক হিরো আলমের। তিনি জানান, কমবেশি দর্শক সিনেমাটি দেখতে আসছেন। কোনো প্রযোজক সিনেমা মুক্তি না দিলেও নিজের প্রযোজিত ছবি প্রথম দিনেই মুক্তি দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সিনেমাকে ভালোবাসি। দীর্ঘদিন পর সিনেমা হল খোলা হয়েছে। এ সময় কাউকে না কাউকে তো সিনেমা মুক্তি দিতেই হতো। তবে বড় বড় প্রযোজকরা এ সময়ে তাদের সিনেমা মুক্তি দিলে চলচ্চিত্রাঙ্গনের সংকট কাটিয়ে ওঠা সহজ হতো।

অন্যদিকে বলাকা, সিনেওয়ার্ল্ড, জোনাকি, স্টার সিনেপ্লেক্স, মধুমিতাসহ ঢাকার বেশ কিছু প্রেক্ষাগৃহ এখনো খোলেনি। ঢাকার মতিঝিল এলাকায় অবস্থিত মধুমিতা সিনেমা হল খোলায় বিষয়ে ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ জানান, ভালো মানের সিনেমা না পেলে তারা সিনেমা হল খুলবেন না। নিউমার্কেট এলাকার বলাকা সিনেওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেহেতু এখনো দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়নি। সেহেতু তারা সিনেমা হল খোলার চিন্তা করছেন না। যেহেতু তাদের বেশির ভাগ দর্শকই শিক্ষার্থীরা, সেহেতু এমন অবস্থায় হল খুললে লোকসানের মুখে পড়তে হবে তাদের। স্টার সিনেপ্লেক্সের ৩টি সিনেমা হল ২৩ অক্টোবর থেকে খুলছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহবুব রহমান।

ডিসি