ব্ল্যাকমেইল করে নারীকে ধষর্ণের অভিযোগ!

আগের সংবাদ

শিক্ষাব্যবস্থা স্বাভাবিকীকরণের কিছু পদক্ষেপ

পরের সংবাদ

সাঁইজির ১৩০তম তিরোধান দিবসে খালিদ

সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লালনের গান হতে পারে প্রতিবাদ

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২০ , ৮:৩৪ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০২০ , ৮:৩৪ অপরাহ্ণ

সাম্প্রদায়িকতা-মৌলবাদের বিরুদ্ধে, মনুষ্যত্ব-মানবতার লাঞ্ছনার সময়ে, সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বৈরী যুগে আজ আবার নতুন করে লালনের গান হতে পারে প্রতিবাদ, শিল্প-শান্তি ও শুভবুদ্ধির প্রতীক- মানুষের প্রতি হারানো বিশ্বাসকে ফিরিয়ে আনার পরম পাথেয়।

গতকাল শুক্রবার বিকালে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে লালন সাঁইজির ১৩০তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব, আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সাধুমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‘বিশ্বমানবতার মুক্তিতে লালন দর্শন’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের নয়াদিল্লির কাউন্সিল ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের সভাপতি অধ্যাপক মুচকুন্দ দুবে। অনলাইনে আলোচনায় অংশ নেন ফ্রান্সের ইনালকো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেরিমি কড্রন ও ফ্রান্সের লালন গবেষক অধ্যাপক কার্লোস সেমিডো। ‘বাউল সংগীত সংরক্ষণ ও বিকাশ’ বিষয়ক বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মো. সোহেল ইমাম খান এবং ‘লালনের সমাজ ভাবনা ও বিশ্ব মানবতা’ বিষয়ক বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. আবুল আহসান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মো. নওসাদ হোসেন।

মন্ত্রী বলেন, লালনের মৃত্যুর পর পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ১৩০ বছর। তবু লালন আজও সমান প্রাসঙ্গিক, জনপ্রিয় ও আধুনিক। তার গান বাউল সমাজের সাধনার উপকরণ হিসেবে যেমন বিবেচিত, তেমনি সংগীত রসিকের মরমি চিত্তকেও আলোড়িত করতে সক্ষম। পাশাপাশি সমাজ ভাবনার অনুষঙ্গেও তা মূল্যবান।

তিনি বলেন, গানের মধ্য দিয়ে লালন সমাজে প্রচলিত ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, জাতপাতের বিরুদ্ধে তার মানবধর্মের মতবাদ প্রচার করেছিলেন। ধীরে ধীরে তার সেই অহিংস মতবাদ ছড়িয়ে পড়ে দেশে-বিদেশে। বিশেষ করে সমাজের সাধারণ মানুষ- হোক সে হিন্দু অথবা মুসলমান কিংবা বৌদ্ধ, খ্রিস্টান শিষ্যত্ব নেয় লালনের। লালনের মাধ্যমে শুরু হয় নতুন এক মানবধর্মের চর্চা। জাত-পাতহীন, ধর্ম-বর্ণহীন সমাজের কথাগুলো লালনের গানের মূলকথা হওয়ায় মানুষ তার গানের মাধ্যমে আজও মানবমুক্তির আশ্রয় খুঁজে পায়। অনুষ্ঠানে লালন সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট লালন সংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন, সমির বাউল, ফকির নহির শাহ ও যুক্তরাষ্ট্রের কিথ ই কান্তু ও ফ্রান্সের দেবরা জান্নাত।

সেমিনার শেষে সন্ধ্যায় বাউলকুঞ্জে বাউল গানের আসরে বাউল নূরতাজ দেওয়ান গেয়ে শোনান- ‘বাড়ির পাশে আরশীনগর, ‘পাগলা বাবুল গেয়ে শোনান ‘এমন মানবসমাজ কবে গো সৃজন হবে’, সন্ধ্যা রাণী দত্তের কণ্ঠে গীত হয় ‘সত্য বল সুপথে চল ওরে আমার মন’ শীর্ষক সঙ্গীত। রতন দেওয়ানের গাওয়া গানের শিরোনাম ছিল ‘দয়াল নাম যার হৃদে ভরা’।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়