খোরপোশ না দেয়ায় বন্ধের উপক্রম মেয়েদের লেখাপড়া

আগের সংবাদ

চলে গেলেন ভারতের প্রথম অস্কারজয়ী

পরের সংবাদ

সিনেমা হল খুলছে আজ থেকে

লোকসানের শঙ্কায় হলের মালিক ও প্রযোজকরা

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২০ , ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০২০ , ১:০৬ অপরাহ্ণ

রাজধানীর হল মালিকরা সিদ্ধান্ত নেবেন দেখেশুনে

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে দীর্ঘ সাত মাস বন্ধ থাকার পর ফের খুলছে সিনেমা হল। আজ শুক্রবার থেকেই বড় পর্দায় শুরু হবে সিনেমা প্রদর্শন। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পালন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে সিনেমা হলের আসন সংখ্যার কমপক্ষে অর্ধেক খালি রাখা সাপেক্ষে এ অনুমতি দিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। গত ১৪ অক্টোবর জারি করা এক অফিস স্মারকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হলে ১৮ মার্চ থেকে সব সিনেমা হল বন্ধ করে দেয়া হয়। শুরুতে ২ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা আসে। এরপর দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকলে গত সাত মাসে হলে আর কোনো সিনেমা প্রদর্শন করা যায়নি। অবশেষে ঠিক সাত মাসের মাথায় এসে আলো ফিরছে বড় পর্দায়।

তবে অনুমতি মিললেও খুলছে না রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সব হল। রাজধানীতে আপাতত খুলছে না মধুমিতা, বলাকা, শ্যামলি, সনি ও স্টার সিনেপ্লেক্স। যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার সিনেমাসের ৬টি স্ক্রিনের একটি আজ থেকে চালু হলেও স্টার সিনেপ্লেক্স তাদের হল খুলবে ২৩ অক্টোবর থেকে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন হলটির সিনিয়র ম্যানেজার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেন দর্শক ও কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়, তার জন্যই এ ব্যবস্থা বলে জানান তিনি। মেজবাহ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে আমাদের কর্মীরা অনেকে ঢাকার বাইরে আছেন। দুই/একদিনের মধ্যে ঢাকায় ফিরলেও তাদের করোনা টেস্ট করা এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে কোয়ারেন্টাইনে রাখাসহ স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য দুই সপ্তাহ সময় লাগছে।

এদিকে সেন্সর বোর্ডের সনদ পাওয়া প্রায় ২২টি নতুন সিনেমা রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। কিন্তু দর্শক খরার আশঙ্কায় নতুন সিনেমা এখনই মুক্তি দিতে চান না সিনেমার প্রযোজকরা। অন্যদিকে নতুন সিনেমা না পেলে হল খুলতে নারাজ বেশির ভাগ সিনেমা হলের মালিক। তাদের মতে, করোনায় দীর্ঘদিন হল বন্ধ থাকার পর নতুন সিনেমা না পেলে সিনেমা হলে দর্শক ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। আর প্রযোজকরা ভাবছেন, এই পরিস্থিতিতে বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি দিলে লোকসান গুনতে হবে। প্রযোজক সেলিম খান বলেন, আমার একেকটি সিনেমার বাজেট প্রায় তিন কোটি টাকা। এই সময়ে মুক্তি দিলে লাভ তো উঠবেই না; বরং সিনেমার অর্ধেক বিনিয়োগও ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সিনেমা মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।

মধুমিতা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, আমরা আাবারো আগের জায়গায় ফিরে যেতে চাই না। আগের অবস্থা মানে, দর্শকহীন সিনেমা হল দেখতে চাই না। শাকিব খানের নতুন কোনো ভালো চলচ্চিত্র দিয়ে সিনেমা হল খোলা উচিত ছিল। কিন্তু প্রথমে যে ধরনের সিনেমা মুক্তি পেল তাতে দর্শকদের হলমুখী করাটা কষ্টকর হবে। মার্চ মাসে হল বন্ধের ঠিক আগে প্রতিদিন আমাদের টিকেট বিক্রি হতো তিন থেকে চার হাজার টাকা। নতুন সিনেমা না পেলে পুরনো সিনেমা চালিয়ে এরকম আর লোকসান বাড়াতে চাই না। ভালো সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় আছি।
তবে প্রদর্শক সমিতির সহসভাপতি মিয়া আলাউদ্দিন এ ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে বলেন, আজ থেকেই নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের ‘সাথী’ সিনেমা হল খুলে দিয়েছি। নতুন কিংবা পুরনো সিনেমা দিয়ে লাভ কিংবা লোকসান যাই হোক, হল খুলে দিলে আস্তে আস্তে দর্শক হলমুখী হতে শুরু করবে।

অন্যদিকে ঢাকার বলাকা সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক শাহিন হোসেন বলেন, ‘বলাকা’ হল খোলার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমাদের হলের বেশির ভাগ দর্শক শিক্ষার্থী। যেহেতু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি, তাই আমরাও আপাতত বন্ধ রেখেছি। পুরনো সিনেমা চালিয়ে হলের খরচ উঠিয়ে আনা মুশকিল।

উল্লেখ্য, প্রযোজক পরিবেশক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ‘বিশ্ব সুন্দরী’, ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২’, ‘বিদ্রোহী’, ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’, ‘নারী শক্তি’সহ প্রায় ২২টি ছবি সেন্সর বোর্ডের সনদ নিয়ে এখন মুক্তির অপেক্ষায়। কিন্তু হল খুলে দেয়ার প্রথম সপ্তাহে এগুলোর কোনোটিই মুক্তি না পেয়ে মুক্তি পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আলোচিত মুখ হিরো আলম প্রযোজিত ও অভিনীত সিনেমা ‘সাহসী হিরো আলম’। সারাদেশে চল্লিশটির বেশি হলে সিনেমাটি দেখা যাবে। সিনেমাটিতে অনেক সাহস দেখিয়েছেন দাবি করে দর্শককে হলে যাওয়ার আহ্বান জানান হিরো আলম।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়