নগরীয় কৃষির অন্তর্ভুক্তি এখন সময়ের দাবি

আগের সংবাদ

জিডিপি সাফল্য আশাব্যঞ্জক

পরের সংবাদ

যোগেশ ভট্টরাই ও অ্যান্থনি ফাউচি

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২০ , ৮:৫২ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০২০ , ৮:৫২ অপরাহ্ণ

যোগেশ ভট্টরাই তত মূর্খ নন
ব্যবসা ও ক্ষমতাপাগল অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত মন্ত্রীরা করোনা ভাইরাসকে সামান্য হাঁচি-কাশির চেয়ে বেশি কিছু নয় বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, কোন সরকার ক্ষমতায় জানামাত্রই ভাইরাস পালাবার পথ পাবে না এ ধরনের বালসুলভ কথা বলে যারা দাঁত কেলিয়ে ছবি ছাপিয়ে হাস্যস্পদ হন সম্ভবত তাদেরই একজন যোগেশ ভট্টরাই করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে কোয়ারেন্টিন বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি খুব জোর দিয়ে বিশ্বের ঘরবন্দি পর্যটকদের আহ্বান জানিয়েছিলেন, চলে আসুন নেপালে এখানে কোভিড-টোভিড নেই। বড় গলায় করোনা ঝেটিয়ে দেয়ার কথা বলে করোনামৃত্যুই বরণ করতে হয়েছে এমন মন্ত্রীর নজিরও লুপ্ত হয়ে যায়নি।
অনুমান করা হচ্ছে যোগেশ ভট্টরাই সংক্রমিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সভাতেও যোগ দিয়েছেন। তিনি অন্তত এটুকু সততার পরিচয় দিয়েছেন যে সত্যটি গোপন করেননি। তিনি তার দেশের মানুষকে যে বার্তাটি দিয়েছেন তা উপস্থাপন করা প্রাসঙ্গিক মনে করছি :
গত সোমবার (৪ অক্টোবর) যখন আমার করোনা টেস্ট করা হয় রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তারপর আমি কাঠমান্ডুর বাইরে কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি। শুক্রবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কিছুটা জ্বর নিয়ে বাড়ি ফিরি। শনিবার (৯ অক্টোবর) আবার টেস্ট করার ব্যবস্থা করা হয়। আমি এইমাত্র খবর পেয়েছি টেস্টের ফলাফল পজিটিভ।
গত ক’দিন যারা আমার সান্নিধ্যে এসেছেন, আমি তাদের সতর্ক হতে অনুরোধ করছি, যদি কোনো সমস্যা অনুভ‚ত হয় তাহলে করোনা টেস্ট করিয়ে নিশ্চিত হবেন। আমার কারণে ঘটতে পারে এমন সম্ভাব্য সমস্যার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। সতর্ক হওয়া ছাড়াও যদি অন্য কিছু করার থাকে করোনা সংক্রমণ রোধে তা করুন।
ভট্টরাই ক’মাস আগে খুবই বড় গলায় বলেছিলেন করোনা ভাইরাসের কালো ছায়া নেপালের ওপর পড়েনি। কাজেই পর্যটকরা যেন দলবেঁধে নেপালে চলে আসেন। যে শুক্রবার তিনি জ্বর নিয়ে ঘরে ফিরলেন নেপালে সেদিনের শনাক্ত নতুন রোগীর সংখ্যা সরকারি হিসাবে ২ হাজার ৫৯। ঠিক আগের দিন মন্ত্রী ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন ক্ষেত্র’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। সম্ভবত রাষ্ট্রদূতও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যারা ওঠাবসা করেন তাদের মধ্যে ভট্টরাই হচ্ছেন সংক্রমিত অষ্টম রোগী। অন্যদের মধ্যে রয়েছেন সূর্য থাপা, রাজন ভট্টরাই, ইন্দিরা ভান্ডারি ও বিষ্ণু বিমল।
নেপালে করোনা শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১ লাখ ১২ হাজার এবং করোনা মৃত্যু ঘটেছে ৬৪৫ জনের (১২ অক্টোবর ২০২০ পর্যন্ত)। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় নেপাল সরকার রথযাত্রাসহ কিছু ধর্মীয় সমাবেশ (যেগুলো অক্টোবর-নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা) ছেঁটে দেয়ায় ধর্মগুরুরা ভীষণ চটেছেন, সরকারের বাপ-বাপান্ত করছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন, ‘ঐশ্বরিক ক্রোধ’ নেমে আসবে এবং দেশকে ছারখার করে দেবে। শত ভগবানের দেশ নেপাল, সবাইকেই কমবেশি সন্তুষ্ট করতে হয়। এতে ব্যাঘাত ঘটলে কী ভয়ঙ্কর পরিণতি ঘটতে পারে তা শর্মা ওলির সরকার এখনো বুঝতে পারেনি বলে ‘রাতো মাচিন্দ্রনাথ যাত্রা’ (শস্যের ভগবানের নামে রথযাত্রা)’র প্রধান পুরোহিত কপিল বজ্রাচার্য মন্তব্য করেছেন। ধর্ম ও ভগবান নিয়ে সরকারের হেলাফেলার খেসারত নেপালকে দিতে হবে। একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী বলছেন, সরকার মানুষের ধর্মীয় অনুভ‚তিতে আঘাত করছে, সরকারের যে কোথায় আঘাত লাগবে কে জানে।
কোনো সন্দেহ নেই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে পুরোহিতদের প্রাপ্তিযোগের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে, তাদের অধিকাংশেরই এটাই একমাত্র পেশা।
করোনা ভাইরাস নিয়ে মন্ত্রীদের হাস্যকর কথকতা ও চাটুকারবৃত্তির হিসাব যদি করতে হয় তাহলে অন্য কোনো দেশের বাংলাদেশকে ডিঙ্গিয়ে যাওয়া কঠিন হবে ধন্যবাদ পাবেন বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ। যারা উৎসবের নিষেধাজ্ঞা অনেকটাই মেনে নিয়েছেন। চলমান বিশ্বব্যাধি ও নেপালে এর প্রকোপ পুরোহিতদের অনেকের মতে তা সরকার ও কিছু মন্দলোকের কুকর্মের প্রতি ঈশ্বরের ক্রোধেরই বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু কুমারী দেবীর প্রধান সেবায়েত গৌতম স্যাক্য বললেন, ধর্ম অবাস্তব কিছু কিছু নয়। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কথা জানার পর দেবীর ঘরে তিনি তালা দিয়েছেন। কাউকে তার দর্শন পেতে আসতে দেয়া হয়নি। নেপালের সাংস্কৃতিক আইকন সত্য মোহন যোশী মনে করেন, টিকে থাকতে হলে সময়ের সঙ্গে চলতে হবে। যোগেশ ভট্টরাই নিজে করোনা ভাইরাস পজিটিভ হয়ে প্রমাণ করেছেন দলে দলে তার দেশে পর্যটক আগমনের যে আহ্বান তিনি জানিয়েছিলেন তা ঠিক করেননি। তারপরও তাকে ধন্যবাদ দিই তার আংশিক সততাকে। তিনি তার আক্রান্ত হওয়ার খবরটি চেপে যাননি এবং বলেননি প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির আমলে নেপালবাসী নিশ্চিত যে করোনা কাউকে মারতে পারবে না। তিনি তত মূর্খ নন।
অ্যান্থনি ফাউচি ট্রাম্পের ধামা ধরেননি
মার্কিন চিকিৎসক, মাইক্রোবায়োলজিস্ট এবং ইমমিউনোলোজিস্ট রিচার্ড ক্রোস ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি এন্ড ইনফেকশাস ডিজিসেস-এর পরিচালক ছিলেন। তিনিই প্রথম জোর গলায় পৃথিবীকে সতর্ক করেছেন মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব ফিরে আসছে (দ্য রিটার্ন অব দ্য মাইক্রোবস)। এইডস বিশ^ব্যাধি যখন যুক্তরাষ্ট্রকে ধাক্কা দিল, অভিযোগ ছিল রিচার্ড ক্রোসের বিরুদ্ধে তিনি সময়মতো সাড়া দেননি। দিলে অনেক মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতো।
১৯৮১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৭ লক্ষাধিক মানুষের এইডস মৃত্যু ঘটেছে। এইডস সংক্রামক প্রকৃতির নয়, যৌনতাবাহিত রোগ। এইডস মুক্ত হয়ে গেছে পৃথিবী এমন যারা ভাবেন তাদের জানা প্রয়োজন এখনো যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর কমপক্ষে ১৩ হাজার এইডস মৃত্যু ঘটে আর ২০১৯ সালে পৃথিবীতে এইডস মৃত্যু সাড়ে ৬ লাখের বেশি।
রিচার্ড ক্রোস বিদায় নিলেন এবং ১৯৮৪-তেই এই ইনস্টিটিউটের দায়িত্ব নিলেন অ্যান্থনি ফাউচি। কোনো সন্দেহ নেই যোগ্যতার কারণে তখন থেকে ২০২০-তেও ইনস্টিটিউটের পরিচালক তিনিই। এটা বিস্মিত হওয়ার মতো ব্যাপার যে তিনি টানা ৩৬ বছর ধরে মোট ছয়জন আমেরিকান প্রেসিডেন্টের আমলে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে কাজ করে গেছেন। ছয়জন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন : রোনাল্ড রেগান, জর্জ এইচ ডবিøউ বুশ, বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা এবং ডোনান্ড ট্রাম্প। গণমাধ্যমে এত আলোচিত দ্বিতীয় কোনো চিকিৎসক বা চিকিৎসা প্রশাসক নেই। গত ৩৬ বছরে প্যানডেমিক, এপিডেমিক ও ছোঁয়াচে রোগ নিয়ে তার মতো গণমাধ্যমে এত গালও কেউ খাননি। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিলম্বিত সাড়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। ফেব্রæয়ারি ২০২০ থেকে ১২ অক্টোবর ২০২০ পর্যন্ত তারই আমলে ৮ মাসে সেন্টার ফর ডিজিসেস কট্রোলের (সিডিসি) হিসাবে মোট করোনা মৃত্যু ২ লাখ ১৪ হাজার ১০৮। প্রায় প্রতিদিনই ভ্যাকসিন আসার খবর প্রচারিত হলেও বাস্তবের কার্যকরী ভ্যাকসিন কবে আসবে তা এখনো অনিশ্চিত। হোয়াইট হাউসের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধক টাস্ক ফোর্সের তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। জার্মান গণমাধ্যম ডের স্পিগেলে ২১ আগস্ট ২০২০ তারিখে প্রকাশিত তার সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ তুলে ধরছি : তিনি ২০১৭ সালেই মহামারি ঠেকাতে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিতে হোয়াইট হাউসকে বলেছেন। হোয়াইট হাউস কর্ণপাত করেনি। তিনি কি সত্যিই কোনো প্যানডেমিকের পদধ্বনি শুনেছেন?
তার জবাব : সংক্রামক একটি রোগের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা তিনি অনুমান করেছেন এবং বলেছেন, ‘গত ৩৬ বছর ধরে ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে আমি এইচআইভি দেখেছি, বিশ^ব্যাধি ফ্লু দেখেছি, ইবোলা দেখেছি, জিকো দেখেছি। আমি সবসময়ই জেনে এসেছি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাবের অনিবার্য লাগাতার চ্যালেঞ্জ আমাদের মোকাবিলা করেই যেতে হবে।’
সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় পাণ্ডিত্যে ও অভিজ্ঞতায় মুরব্বি স্থানীয় হয়ে তিনি তো প্রতিদিনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ব্রিফ করতেন। তারপরও ট্রাম্পের এই কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ করার কারণ কী? তিনি কি বিজ্ঞানের সত্য অনুধাবন করার ক্ষমতা রাখেন না, নাকি এটা অ্যান্থনি ফাউচির ব্যর্থতা যে তিনি প্রেসিডেন্টকে বোঝাতে পারেননি।
এ প্রশ্নের জবাবে তিনি ট্রাম্পকে বিজ্ঞান বুঝতে অক্ষম এমন একজন প্রেসিডেন্ট বলতে নারাজ বরং তিনি প্রেসিডেন্টকে বরং বুদ্ধিমানের কিংবা ধূর্তের কাতারেই ফেলেছেন। যদিও দেশজুড়ে প্রেসিডেন্টকে বলা হয়েছে, সত্য বলুন এবং বিজ্ঞানে বিশ্বাস করুন।
মার্চ-এপ্রিল-মে এই তিন মাসে ট্রাম্প বহুবার অ্যান্থনি ফাউচিকে ব্যর্থ হিসেবে গাল দিয়েছে, আতঙ্ক সৃষ্টিকারী বলেছেন এবং প্রকারান্তরে উহান ষড়যন্ত্রকারীদের একজন বলতেও পিছপা হননি। কিন্তু তিনি কীভাবে সাড়া দিয়েছেন?
তার চাকরি যায়নি। তিনি এ কথাই বলেছেন, হ্যাঁ কিংবা না বলে রাজনৈতিক ফায়দার দিকে চোখ রেখে কাজ করলে সংকট বাড়বে। রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাজনৈতিক কোনো সমাধান খোঁজার দরকার নেই। সমাধান বিজ্ঞানে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্ভট আচরণ কি সচেতন পাগলামি না পরিস্থিতি বোঝার জ্ঞানের অভাব তা বলা মুশকিল। তবে তারও করোনা পজিটিভ হওয়ার ব্যাপারটি যদি নাটক না হয়ে থাকে তাহলে তার কিছু হলেও শিক্ষা পাওয়ার কথা।
প্রগতিশীল চিকিৎসক গোষ্ঠীর একটি অংশ মনে করছেন গত তিন যুগে ফার্মাসিউটিক্যাল মাফিয়াদের সৃষ্টির অন্যতম জনক অ্যান্থনি ফাউচি। তার পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় রোগের জীবাণু ও ওষুধ দুই সৃষ্টি হচ্ছে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো এই প্রক্রিয়ায় পার্টনার হয়ে বিশ^ব্যাপী লুটের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা মনে করেন ফার্মাসিউটিক্যাল মাফিয়া গ্রæপের পছন্দ বলে তাদের চাপে অ্যান্থনি ফাউচিকে বছরের পর বছর ধরে একই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে রাখা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট চাইলেও তাকে সরাতে পারবেন না।
রিপাবলিকানদের একটি নির্বাচনী ভিডিও ক্লিপ দেখানো হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনা ভাইরাসকে তুচ্ছ করে সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং ওয়াল্টার রিড মিলিটারি মেডিকেল সেন্টার থেকে বের হচ্ছেন, এর পরপরই অ্যান্থনি ফাউচির একটি উদ্ধৃতি এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে যেন তিনি ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন। এমন ক্ষমতাসীন ক্ষমতাধরের ভিডিও ক্লিপে স্থান পাওয়ার পর বাংলাদেশিদের সংস্কৃতি অনুযায়ী আনন্দে গদগদ না হয়ে তিনি ভীষণ বিরক্ত হয়েছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার অনুমতি না নিয়ে তার ছবি সংযোজন করার নিন্দা করে বলেছেন, ‘আমার পাঁচ দশকের সরকারি চাকরি জীবনে আমি কখনো কোনো রাজনৈতিক প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করিনি।’ সোজা কথা নির্বাচন ক্লিপে তাকে ব্যবহার একটি মিথ্যাচার, বেআইনি কাজ। ফাউচির বিরুদ্ধে করোনাবিধ্বস্ত অনেকেরই ক্ষোভ ছিল, এমনকি তিনি ও তার স্ত্রী মৃত্যুর হুমকিও পেয়েছেন। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রোপাগান্ডায় তিনি যে অংশী নন, অন্যায়ভাবে তার বক্তব্য ব্যবহার করা হয়েছে জোর গলায় এটা জানানোর পর তাকে যারা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তারা আবার ফিরতে শুরু করেছেন।
তিনি যে ট্রাম্পের চামচা হয়ে উঠেননি, প্রশংসা পাচ্ছেন সেজন্য। কেউ এ প্রশ্নও তুলছেন তিনি এত শক্তি ও সাহস কোথায় পাচ্ছেন পেছনে এবারও ফার্মাসিউটিক্যাল মাফিয়ারা নেই তো?
ফাউচিকে পছন্দ হোক বা না হোক কোভিড-১৯ নিয়ে লোকরজনবাদী উক্তি তিনি কখনো করেননি যতটা সম্ভব সত্যটাই যে তিনি তুলে ধরেছেন তাতে তেমন সন্দেহ থাকার কারণ নেই। উহান যদি হয় করোনা ভাইরাসের এপিসেন্টার তাহলে অব্যবস্থাপনার এপিসেন্টার যে হোয়াইট হাউস তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।
২০২০-এর আগস্ট মাসেও করোনা ভাইরাসের প্রকৃতি নিয়ে তিনি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বিশ^জুড়ে ল্যাবরেটরিতে যথেষ্ট গবেষণা হলেও এই ঘাতক ভাইরাসটি সম্পর্কে আমাদের যথেষ্ট জানা হয়নি। অন্যদিকে আমাদের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জেনে গেছেন, ওটা মারাত্মক কিছু নয়, সর্দিজ্বরের মতো! ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিজ্ঞান শিক্ষায় আমরা কতটা পশ্চাৎপদ তা বোঝাতে এমন একটি উক্তিই যথেষ্ট। অ্যান্থনি ফাউচি বোঝেননি, আমরা বুঝেছি!

ড. এম এ মোমেন : সাবেক সরকারি চাকুরে, নন-ফিকশন ও কলাম লেখক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়