সরগরম আন্তর্জাতিক রাজনীতি

আগের সংবাদ

শাহজালালে ১০ বিমান বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

পরের সংবাদ

রাজস্বে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি!

আলী ইব্রাহিম

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১৫, ২০২০ , ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ

৩ মাসে ঘাটতি সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা
ভ্যাটে প্রবৃদ্ধি মাইনাস ২.৪১ শতাংশ
অনলাইনে কর আদায় বন্ধ

করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) নেতিবাচক প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত ৩ মাস কার্যক্রম পুরোপুরি চলমান থাকলেও কাক্সিক্ষত রাজস্ব আদায় করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। ফলে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের শুরু থেকে রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আহরণের প্রধান খাত ভ্যালু এডেড ট্যাক্সে (ভ্যাট) প্রবৃদ্ধি মাইনাস ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ। নতুন অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সরকার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৩ মাস অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৩ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। এই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৮ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩ মাসে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের গড় প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ। রাজস্বের প্রধান খাত ভ্যাটে আদায়ের প্রবৃদ্ধি মাইনাস ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ১৬ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩ মাসে ভ্যাট আদায়ে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। আয় করে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ হাজার ৭১০ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ১৫ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ আয় করে রাজস্ব ঘাটতি ২ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। তবে তুলনামূলক একটু ভালো কাস্টমসে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে কাস্টমসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ১৫ হাজার ৯০১ কোটি টাকা।

এনবিআরের তথ্য পর্যালোচনায় জানা গেছে, গত ৫ বছর এনবিআরের রাজস্ব আহরণের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ শতাংশ। করোনার কারণে রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধিতে ধস নেমেছে। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে রাজস্ব আহরণের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে গড় প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসের রাজস্ব আদায়ে কাস্টমসের প্রবৃদ্ধি ছিল মাইনাস ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ, চলতি অর্থবছরে কাস্টমসে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে আয়কর ও ভ্যাট আদায়ের প্রবৃদ্ধিতে ধস নেমেছে। গত অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে আয় করে প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের প্রথম ৩ মাস শেষে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। আর ভ্যাটে গত অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৭ দশমিক ৭০ শতাংশে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অনলাইনে করদাতাদের উৎসাহিত করতে কর ছাড়ের ঘোষণা দেন। যারা প্রথমবারের মতো অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিবেন তারা ২ হাজার টাকা কর ছাড় পাবেন। কিন্তু সার্ভার জটিলতায় এবার অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন না করদাতারা। এতে আয়কর আহরণে বিরূপ প্রভাব পড়বে। করোনাকালীন ভিড় এড়াতে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করায় আগ্রহী ছিলেন অনেক করদাতা।

এসব বিষয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মজিদ ভোরের কাগজকে বলেন, অনলাইনে কর দিতে না পারায় আমারও অভিযোগ রয়েছে। এনবিআরের এই বিষয়ে আরো সচেষ্ট হওয়া উচিত। আসলে এনবিআরকে আমরা পরামর্শ দিলে তো হবে না। তারা তাদের পলিসি অনুযায়ী কাজ করছে।

সূত্র জানায়, ভিয়েতনামের এফপিটি ইনফরমেশন সিস্টেম করপোরেশন নামের একটি সফটওয়্যার কোম্পানি এনবিআরের সফটওয়্যার তৈরি করেছিল। গত ৩ বছর সচলও ছিল এনবিআরের অনলাইন রিটার্ন জমা দেয়ার কার্যক্রম। ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এনবিআরের অনলাইনে রিটার্ন জমার এ সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে ৫১ কোটি টাকা খরচ করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।

এসব বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ভোরের কাগজকে বলেন, করোনাকালীন সরকারের রাজস্ব আহরণের একটা সংকট রয়েছে। এই সময়ে সার্ভারের কারণে অনলাইনে রিটার্ন সাবমিশনের জন্য সরকার যে প্রণোদনা ঘোষণা দিয়েছে, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন করদাতারা। অনলাইনে রিটার্ন জমা দেয়ার এই লিঙ্কের বিষয়টি এনবিআরের হাতে থাকার কথা ছিল। কিন্তু কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় তা এখন এনবিআরের কাছে নেই। এছাড়া ভ্যাট আদায় বাড়াতে যে লক্ষ্য নিয়ে ইএফডি কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, তা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে এনবিআর। এটা এনবিআরের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা। এর থেকে এনবিআরকে বেরিয়ে আসতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলোÑ এমনিতেই করোনাকালে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ওইভাবে শুরু না হওয়ায় রাজস্ব আদায় কম হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে রাজস্ব আহরণের সুযোগ এনবিআরের হাতছাড়া করা উচিত হয়নি।

এমআই