আরো ১৫ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৬০০

আগের সংবাদ

নুর-রাশেদ অবাঞ্ছিত, ছাত্র অধিকার পরিষদে ভাঙন

পরের সংবাদ

ব্যথামুক্ত সন্তান প্রসব: কী, কেন ও কীভাবে?

ডা. মোহাম্মদ আহাদ হোসেন

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১৫, ২০২০ , ৩:৩৪ অপরাহ্ণ

প্রসব বেদনা পৃথিবীতে যত ধরনের ব্যথা আছে তার মধ্যে সন্তান প্রসবের ব্যথা নারীদের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র। তারপরও মাতৃত্বের অনন্দ সব ব্যথাকে ভুলিয়ে দেয়। তীব্র ব্যথার অনুভূতি কারো কারো ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কিছু সমস্যা এনে দিতে পারে। যেমন তীব্র ব্যথার কারণে মায়েদের মধ্যে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য একটি ভীতি কাজ করে। এটির কারণে তারা পরবর্তীতে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তান নিতে অনাগ্রহ হতে পারেন। প্রসব বেদনার তীব্রতার কারণে অনেক সময় পরবর্তীতে মায়েদের মানসিক সমস্যাও হয়। প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা স্বাভাবিক প্রসব প্রক্রিয়ার এই ব্যথা নিরাময় চলছে অবিরাম গবেষণা । আজকের আলোচনায় তারই কিছু ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং এ বিষয়ে সর্বাধুনিক পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব।

প্রসবের ব্যথা নিরাময়ের অতীতের ধারাবাহিকতা
স্বাভাবিক প্রসব ব্যথা মুক্ত করার জন্য প্রচেষ্টা অনেক আগে থেকেই চলছে। যদি আমরা ইতিহাসের দিকে তাকাই তাহলে দেখব ১৮৪৭ সালে প্রথম স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ব্যথা নিরাময়ের কাজ করা হয়। সেখানে একজন আমেরিকান কবির ওপর এই স্বাভাবিক প্রসবের ব্যথা নিরাময়ের জন্য ইথার ও ক্লোরোফরম প্রয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে রানী ভিক্টোরিয়ার প্রসব বেদনা কমানোর জন্য এই ইথার এবং ক্লোরোফরম প্রয়োগ করা হয় ১৮৫৩ সালে।প্রচলিত কিছু পদ্ধতি আগে থেকেই প্রচলিত ছিল। তার মধ্যে লামাজী পদ্ধতি জনপ্রিয়। এই পদ্ধতিতে একটি বড় শ্বাস নিয়ে বেশ কয়েকটি ছোট শ্বাস নেয়া হয়। বর্তমান সময়ে অনেক বিষয় পেরিয়ে প্রসব বেদনা নিরাময়ের জন্য অনেক বেশি অত্যাধুনিক ও সময়োপযোগী পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে সেগুলো আমরা জানতে পারব।

স্বাভাবিক প্রসবের কিছু উপকারী দিক:
১. মায়ের শরীরে কাটা ছেড়ার প্রয়োজন হয় না
২. সন্তান জন্মের পর পরই মাতৃস্তন্য পেতে পারে
৩. অপারেশনজনিত অনেক কম্প্লিকেশন এড়ানো সম্ভব
৪. স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নিয়ে সন্তানদের মধ্যে রোগ-বালাইয়ের প্রবণতা কম থাকে
৫. মেয়েদের শরীর প্রসবের পরে খুব তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে
৬. মায়েরা তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারেন
৭. এছাড়াও স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নেয়া বাচ্চাদের ভবিষ্যতে টাইপ-১ ডায়াবেটিস ও শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন ইনফেকশন কম হয়। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে সব বাচ্চা স্বাভাবিক প্রসবের রাস্তা বা যোনিপথ দিয়ে বের হয় তারা যেসব ব্যাকটেরিয়া সংস্পর্শে আসে সেগুলো থেকে তাদের পরবর্তীতে শাস্ত্রে বিভিন্ন ইনফেকশন ও তাই ডায়াবেটিস মেলাইটাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়।

প্রসূতি মা

সিজারিয়ান অপারেশনের কিছু খারাপ দিক:
১. বাচ্চা প্রসবের অপারেশনজনিত মাধ্যমের একটি অন্যতম হচ্ছে সিজারিয়ান সেকশন। যদিও এই সিজারিয়ান সেকশনের অনেকগুলো কারণ থাকে যে কারণে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব করা জরুরি হয়ে পড়ে। তারপরও সিজারিয়ান সেকশনের কিছু খারাপ দিক রয়েছে ।
২. তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। এই রক্তক্ষরণ সাধারণত অপারেশনের সময় এবং অপারেশনের পরবর্তী সময় হতে পারে। এটি সিজারিয়ান অপারেশনের একটি মারাত্মক ঝুঁকি।
৩. পাশাপাশি অপারেশনের মাধ্যমে শারীরিক কিছু পরিবর্তন ঘটে বা হরমোন এর কিছু পরিবর্তন ঘটে। যেগুলো মায়ের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে।
৪. এছাড়াও অপারেশনের কারণে মায়েদের স্বাভাবিক চলাফেরা করতে সময় লাগে
৫. বাচ্চাদের দুধ পান করাতে সময় লাগতে পারে
৬. অপারেশনজনিত যে কোনো প্রক্রিয়ার কিছু মারাত্মক ঝুঁকি থাকে। সিজারিয়ান অপারেশনের ক্ষেত্রেও এই সমস্যাগুলো হতে পারে। তাই একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বা দক্ষ প্রসূতি ও গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া সিজারিয়ানের সিদ্ধান্ত নেয়া সঠিক নয় ।
৭. গবেষণার মাধ্যমে দেখা গিয়েছে যে সব বাচ্চা সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেন তারা সাধারণত মায়েদের ত্বকে যে সব ব্যাকটেরিয়া থাকে তাদের সংস্পর্শে আসে এবং এতে তাদের বাচ্চাদের যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় তাতে ভবিষ্যতে এলার্জি অ্যাজমা ও শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশনের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারে না।

প্রসব বেদনার কিছু খারাপ দিক:
স্বাভাবিক প্রসবের অনেক উপকারিতা রয়েছে। তারপরও প্রচণ্ড ও তীব্র প্রসব বেদনার বেশ কিছু খারাপ প্রভাব রয়েছে শরীরের ওপর। তারমধ্যে প্রথমেই যেটি বলা যায়, সেটি হচ্ছে প্রসব বেদনার কারণে মায়েরা শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বাড়িয়ে দেয়। যে কারণে তাদের শরীরে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কমে যায় যেটাকে বলা হয় হাইপারভেন্টিলেশন। এই কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে মায়েদের শরীরে রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয় যে কারণে মায়ের জরায়ুতে যে বাচ্চা থাকে সেই বাচ্চার রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। এর প্রভাবে মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন বাচ্চার শরীরে যাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। তীব্র ব্যথার কারণে মায়েদের প্রেসার প্রচণ্ড রকম বেড়ে যেতে পারে যে কারণে তাদের একলামশিয়া বা খিঁচুনির মতো সমস্যা হতে পারে।

যে সব মায়ের হার্টের সমস্যা বা হার্টের ভাল্বের সমস্যা থাকে সে সব মায়েদের তীব্র ব্যথার কারণে অনেক সময় হাটের সংকোচন-প্রসারণ বেড়ে যায়। অত্যাধিক রকমের সংকোচন প্রসারণের ফলে হার্ট ফেইলর নামক সমস্যা হতে পারে। যে সকল মায়েদের হার্টের সমস্যা থাকে তাদের হার্ট অ্যাটাকের মতো সমস্যা হতে পারে।  যে সব মেয়েরা আজমা বা শ্বাসকষ্টের ভুগে থাকেন। তীব্র ব্যথার কারণে তাদের অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে এবং স্বাভাবিক প্রসব বাধাগ্রস্ত হতে পারে। প্রসব বেদনার কারণে পরবর্তীতে মায়েদের সন্তান নেয়ার ব্যাপারে একটি ভীতি তৈরি হয় যে কারণে তারা পরবর্তীতে সন্তান নিতে অনাগ্রহতা প্রকাশ করতে পারেন।

প্রসব বেদনা কমানোর পদ্ধতি সমূহ:
প্রসব বেদনা কমানোর বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম ঔষধ ছাড়া পদ্ধতি। ওষুধ ছাড়ার পদ্ধতিগুলোর মধ্যে প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত পদ্ধতি হচ্ছে নামাজের পদ্ধতি এই পদ্ধতিতে হচ্ছে একটি গভীর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে তারপরে অনেকগুলো ছোট ছোট শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে বলা হয়। এখনো গ্রামে গঞ্জে এই পদ্ধতি জেনে না জেনে প্রচলিত আছে।

প্রসূতি মা

ঔষধের মাধ্যমে প্রসব ব্যথা কমানোর পদ্ধতি:
ওষুধের মাধ্যমে প্রসব ব্যথা কমানো সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকায় এবং ঔষধ একবার প্রয়োগ করার পরে পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না থাকায় এই পদ্ধতিটি জনপ্রিয় নয়।

প্রসব ব্যথা কমানোর সর্বাধুনিক পদ্ধতি:
প্রসব ব্যথা কমানোর সর্বাধুনিক পদ্ধতির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইপিডুরাল অ্যানালজেসিয়া। এই পদ্ধতিতে প্রসব ব্যথা শুরু হওয়ার সময় মায়ের পেছনে শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ডের একটি অংশে (যেটিকে বলে ইপিডুরাল স্পেস) সেই জায়াগায় একটি ক্যাথেটার প্রয়োগ করা হয়। তারের মাধ্যমে পরবর্তীতে ব্যথা নিরাময়ের ঔষধ প্রয়োগ করা হয়। ক্যাথেটার স্থাপন করার পরে মায়েরা স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারেন এবং তাদের ব্যথা কমে যায় ধীরে ধীরে যখন আবার ব্যথা হয় তখন আবার কিছু ঔষধ প্রয়োগ করা হয় এবং তাদের ব্যথা কমে যায় কিভাবে পুরো প্রসবের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এই কাজের মাধ্যমে ঔষধ প্রয়োগ করা হয় এবং ব্যথা নিরাময় করা হয়। এই পদ্ধতিতে প্রসবের ব্যথা কমানোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি।

ইপিডুরাল অ্যানালজেসিয়ার বিস্তারিত:
ইপিডুরাল অ্যানালজেসিয়া পদ্ধতি প্রয়োগের জন্য যে বিষয়টি প্রথমেই দরকার তা হচ্ছে একজন দক্ষ এনেস্থেসিয়া ও পেইন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, দক্ষ প্রসূতি ও গাইনিকোলজিস্ট সার্জন, একটি লেবার পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ড, কিছু দক্ষ প্রসব স্বাস্থ্য সহকারি সেবিকা এবং কিছু মনিটরিং যন্ত্রপাতি। এগুলো সাধারণত অনেক হসপিটালে থাকে। তবে একটু গুছিয়ে নিলেই একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব।

এই পদ্ধতিতে একজন দক্ষ অ্যানাস্থেসিয়া ও পেইন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার সাথে সাথে মায়ের সাথে স্বাক্ষাৎ করে তাকে পুরো বিষয়টি বুঝিয়ে দেন ও তার অনুমতি নিয়ে শিরদাঁড়া বরাবর ইপিডুরাল স্পেস এ একটি ক্যাথেটার প্রয়োগ করেন। পরবর্তীতে এই ক্যথেটারটি সন্তান প্রসবের সময় পর্যন্ত এবং তারপর আরো কিছু সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ সংরক্ষিত থাকে। পরবর্তীতে এই ক্যাথেটারের মাধ্যমে ব্যথানাশক ঔষধ প্রয়োগ করা হয় সময়ে সময়ে।

তবে এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে এই ইপিডুরাল স্থাপনের বিষয়টি যাদের প্রশিক্ষণ নেই তারা করতে গেলে কিছু সমস্যা হতে পারে। যদি থাকে যাতে পরবর্তীতে আয়োজন সমস্যা হতে পারে পুরো প্রক্রিয়াটি শুরু করার আগে মা ও তার অভিভাবকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা করে নেয়া জরুরি যাতে করে তারা বিষয়টি বুঝতে পারে এবং তাদের সহযোগিতায় এখানে একান্ত কাম্য এছাড়াও প্রসূতি ও গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মায়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন তার সাথে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

স্বাভাবিক যে সকল কারণে একটি স্বাভাবিক প্রসবের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় বা পরবর্তীতে সিজারিয়ান অপারেশন জরুরি হয় ইপিডুরাল অ্যানালজেসিয়া করার পরেও এ বিষয়গুলো একই রকম থাকবে। সুতরাং ইপিডুরাল অ্যানালজেসিয়া প্রয়োগ মানে এটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না যে তার স্বাভাবিক প্রসব হবে। যেকোনো প্রসবের প্রক্রিয়া শুরুর পরেও এটা কখনোই বলা সম্ভব না এটা স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব হবে। এই বিষয়গুলো রোগী প্রসূতি ও গাইনি বিশেষজ্ঞ সার্জন এবং যিনি ইপিডুরাল অ্যানালজেসিয়া প্রয়োগ করবেন তাদের পুরোপুরি ভাবে বোঝা প্রয়োজন রয়েছে।

মা ও সন্তান

ইপিডুরাল অ্যানালজেসিয়ার ভালো দিক:
১. মায়ের প্রসব ব্যথা কমে যায়
২. স্বাভাবিক প্রসবের সম্ভাবনা বেড়ে যায়
৩. মা স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারে
৪. প্রসবের পরে খুব দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে
৫. স্বাভাবিক প্রসবের পরে বাচ্চার যে সুবিধাসমূহ থাকে সেগুলো অব্যাহত থাকে
৬. মায়ের মানসিক প্রশান্তি থাকে
৭. পরবর্তীতে বাচ্চা নেয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়
৮. সিজারিয়ান অপারেশনের কম্প্লিকেশন এড়ানো সম্ভব হয়
৯. বাচ্চা দ্রুত মায়ের দুধ পান করতে পারে
১০. ইপিডুরাল অ্যানালজেসিয়া এর একটি খুবই ভালো দিক হচ্ছে যদি কোনো কারণে সিজারিয়ান অপারেশনের দরকার হয় তাহলে অতিরিক্ত কোনো এনেস্থিসিয়ার পদ্ধতি অবলম্বন করার দরকার হয় না । এই ক্যাথেটারের মাধ্যমেই ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে এনেসথেসিয়া দেয়া সম্ভব যাতে সিজারিয়ান সেকশন করা সম্ভব।

মা ও সন্তান

এপিডুরাল অ্যানালজেসিয়া এর খারাপ দিক:
সব প্রক্রিয়ার কিছু ভালো এবং খারাপ দিক থাকে। এক্ষেত্রে এপিডুরাল অ্যানালজেসিয়া ব্যতিক্রম নয়। খুব বেশি খারাপ দিক নেই। খারাপ দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইপিডুরাল ক্যাথেটার স্থাপন করতে না পারা, ভুলভাবে ইপিডুরাল ক্যাথেটার স্থাপন করা, কোনো কোনো সময় ইপিডুরাল ক্যাথেটার স্থাপন করার সময় ইনজুরি হতে পারে, পদ্ধতিটি ব্যর্থ হওয়া। বেশ কিছু বিষয় আছে যেগুলো থাকলে ইপিডুরাল ক্যাথেটার প্রয়োগ করা যায় না সে বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়েই এপিডুরাল ক্যাথেটার স্থাপন করতে হবে। তবে দক্ষ এনেস্থেসিয়া ও পেইন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করলে এই ঝুঁকি কমে যায়।

শেষ কথা:
মায়েরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্মদাতা। তাদের প্রতি খেয়াল রাখা আমাদের দায়িত্ব। একটি সুখি সমৃদ্ধ পরিবার গঠনে মায়েদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই তাদের এই সংকটকালীন তার পাশে থাকা আমাদের অবশ্য কর্তব্য। মায়েদের প্রসবকালীন ব্যথা নিরাময়ের যেখানে সুযোগ আছে সেখানে এটি ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রে যদিও প্রসূতি ও গাইনি বিশেষজ্ঞের আগ্রহ ও সময় দান জরুরি। তবে আমরা সচেতন হলে ও সবাই এই বিষয়টি চাইলে শুরু করা সম্ভব। খুব অল্প কিছু প্রতিষ্ঠানে এটি শুরু হলেও সম্পূর্ণ নয়। আজকের লেখায় সবাইকে জানানোর চেষ্টা করলাম। আশা করি বিষয়টি প্রচলিত হবে ও মায়েরা প্রসব বেদনা মুক্ত সন্তান প্রসব করতে পারবেন এই আশায় আজ শেষ করছি। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

লেখক: কনসালটেন্ট ও পেইন ফিজিশিয়ান, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা।

এনএম