ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে বাধা দিলে অনুকম্পা দেখানো হবে না

আগের সংবাদ

নতুন গান গাইলেন নুসরাত ফারিয়া

পরের সংবাদ

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে ওয়েবিনার

পাঠ্যপুস্তকে ‘হ-তে হাত ধোয়া’ অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৫, ২০২০ , ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০২০ , ৩:১৩ অপরাহ্ণ

ছোটবেলায় শিশুরা যা শেখে তা জীবনব্যাপী তাদের কাজে দেয়। তাই শরীরের রোগব্যাধী মোকাবিলায় শৈশব থেকেই হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাটা খুবই জরুরি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, এ কারণে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবভিত্তিক করা হচ্ছে। এদিকে বর্তমান করোনা মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে এবং দীর্ঘমেয়াদে অত্যাবশ্যকীয় সচেতনতা গড়ে তোলার অংশ হিসেবে শিশুদের মধ্যে হাত ধোয়ার অভ্যাস জোরদার করতে পাঠ্যক্রমে ‘হ-তে হাত ধোয়া’, ‘এইচ ফর হ্যান্ডওয়াশিং’ অন্তর্ভুক্তির পরামর্শ দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা।

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসকে সামনে রেখে গতকাল বুধবার ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের আয়োজনে, ‘হ-তে হাত ধোয়া, সুরক্ষিত হাতে সুরক্ষিত দেশ’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে গুরুত্বপূর্ণ এসব অভিমত দেন আলোচকরা। ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এছাড়া ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেদার লেলে, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ওয়াটার, স্যানিটেশন এন্ড হাইজিন (ওয়াস) বিভাগের প্রধান ডারা জনস্টন, সেভ দ্য চিলড্রেনের ডিরেক্টর অব প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট এবং কোয়ালিটি রিফাত বিন সাত্তার, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ওরলা মারফি, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ এবং ওয়াটার এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান ওয়েবিনারে অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ছোটবেলায় শিশুরা যা শেখে তা জীবনব্যাপী তাদের কাজে দেয়। তাই শরীরের রোগব্যাধী মোকাবিলায় শৈশব থেকেই হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাটা খুবই জরুরি। জরিপের তথ্যানুযায়ী, আমাদের দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ এখনো সঠিকভাবে হাত ধোয়ার বিষয়টি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন নন। বাংলাদেশ বিশ্বের মাঝে নানামুখী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সমাদৃত। যেমন খাবার স্যালাইন আবিষ্কারের মাধ্যমে ডায়রিয়া রোধে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই সারাবিশ্বে অনন্য এক উদাহরণ তৈরি করেছে। মহামারির কারণে হাত ধোয়ার গুরুত্বটাও সবাই এখন উপলব্ধি করতে পারছি। তবে শুধু ডায়রিয়া বা করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে নয় বরং পুষ্টিহীনতা এবং কৃমির মতো শিশুদের স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে রক্ষা পেতেও হাত ধোয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

বর্তমান মহামারির প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে একটি ক্যাম্পেইন আরো গতি পেতে পারে। কোভিড-১৯ এই ধরনের একটি সুযোগ নিয়ে এসেছে। কোভিডের কারণে মাস্ক পরাসহ নাকে-মুখে অযথা হাত না দেয়া এবং সঠিকভাবে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে। এগুলোর মধ্যে কেবল হাত ধোয়ার মাধ্যমেই আমাদের শরীরে রোগব্যাধীর হার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। আমাদের সব পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনায় ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেদার লেলে বলেন, লৈঙ্গিক সমতা, টেকসই উন্নয়নসহ সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ইউনিলিভার বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের জন্য যেটা ভালো, সেটি ইউনিলিভারের জন্যও ভালো। এই বিশ্বাস থেকেই বাংলাদেশে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হাত ধোয়া সংক্রান্ত শিক্ষা ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালিয়ে আসছে লাইফবয়। তিনি আরো বলেন, শৈশবের শিক্ষা মানুষের বাকি জীবনকেও প্রভাবিত করে। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। বিশেষত, মহামারির এই সময়ে মানুষ হাত ধোয়ার গুরুত্ব আগের চেয়ে বেশি উপলব্ধি করছে। জীবাণুমুক্ত থাকার জন্য হাত ধোয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই গত ১২৫ বছর ধরে বিশ্বব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে লাইফবয়। এই প্রচেষ্টা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের ওয়াটার, স্যানিটেশন এন্ড হাইজিন (ওয়াস) বিভাগের প্রধান ডারা জনস্টন বলেন, ২০১৯ সালের করোনা ভাইরাস আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে হাত ধোয়া এবং জীবাণুমুক্ত থাকাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। করোনা ভাইরাস যে খুব শিগগিরই বিদায় নিচ্ছে না, সেটিও স্পষ্ট। এক্ষেত্রে আগামী দিনগুলোতেও আমাদের জীবাণুুমুক্ত রাখতে হাত ধোয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি জানান, ২০১৯ সালের জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৭৫ শতাংশ বাড়িতে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সাবান ব্যবহার এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়টি সন্তোষজনক নয়। তবে এই কোভিডের সময়ে আগের তুলনায় ১৬ শতাংশ মানুষের মধ্যে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার বিষয়ে সচেতনতা বেড়েছে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের ডিরেক্টর অব প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট এবং কোয়ালিটি রিফাত বিন সাত্তার বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জীবাণুমক্ত থাকার শিক্ষাটি শুধু শিশুকেই নয়, তার পরিবারকেও সচেতন করে তুলবে। আসন্ন সময়ে যখন শিশুদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চালু হবে, তখন শিশুরা যেন জীবাণুমুক্তভাবে স্কুলে আসতে পারে এবং স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরতে পারে সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে শিশুদের হাত ধোয়ার মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সবার। মানুষ যে সাবান কিনতে পারে, সেই আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ওরলা মারফি বলেন, একটি টেকসই ভবিষ্যতের জন্য আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুুমুক্ত থাকার বিষয়টি অতিব গুরুত্বপূর্ণ। প্রচলিত পাঠের মাধ্যমে যদি শিশুদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে একটি সুস্থ প্রজন্ম পাব আমরা। এই শিশুরা যখন কৈশোর বা তারুণ্যে পা রাখবেন, তখনো তারা এই তথ্যটি বহন করে নিয়ে যাবেন আরেকটি প্রজন্মের কাছে। বাংলাদেশে হাত ধোয়ার বিষয়ে সচেতনতা কম ছিল। এখানে স্যানিটেশনের একটি ঘাটতি রয়েছে। তবে কোভিডের কারণে হাত ধোয়া অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। মানুষ এখন পূর্বের তুলনায় সচেতন হয়েছে। হাত ধোয়াটা শুধু শিশুদের জন্য নয়, তাদের অভিভাবকদের জন্যও প্রয়োজন। পাঠ্যপুস্তকে এবং খেলাচ্ছলে শিশুরা শিক্ষাগ্রহণ করতে মনযোগী হয়। বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় শিশুকে হাত ধোয়ার এই শিক্ষা প্রদান করতে হবে।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ তার বক্তব্যে ভবিষ্যতে সুস্থ থাকতে হলে হাতকে জীবাণুুমুক্ত রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, শিশুকাল থেকেই হাত ধোয়াসহ স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করা সম্ভব হলে সার্বিকভাবে জাতীয় স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত থাকতে হবে এবং হাত ধুতে হবে। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে এই জীবাণুমুক্ত থাকার গুরুত্ব অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। যেন একজন শিশু এই তথ্যটি তার প্রতিটি জীবনাচরণে মনে রাখতে পারে।

ওয়াটার এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, শিশুদের কারিকুলামে হাত ধোয়ার বিষয়টি যেন উঠে আসে। শুধু ‘হ’ তে হাত ধোয়া বা এইচ ফর হ্যান্ডওয়াস নয়, জীবন ঘনিষ্ঠ বিষয়গুলো যেন পাঠ্যপুস্তকে থাকে। যেমন ‘প’ তে পানি, ‘নিরাপদ পানি নিরাপদ জীবন’।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।