শরতে শিউলি শেফালি নেই

আগের সংবাদ

বৈতরণী হাওয়া

পরের সংবাদ

চরফ্যাশনের ওসির বিরুদ্ধে চাঁদাদাবির অভিযোগ

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৫, ২০২০ , ৭:৪৫ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০২০ , ৭:৫০ অপরাহ্ণ

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন মিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ভোলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার আমিনাবাদ ইউনিয়নের কুলছুমবাগ গ্রামের ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম। অভিযোগের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগে ফাতেমা বেগম উল্লেখ করেন, তার মেয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন দাখিল করেন। ওই পিটিশনের আসামি আরব আলী গংরা গেল ১২ সেপ্টেম্বর রাতে তার মেয়ের কাছে চাঁদা দাবি করে তাকে অপহরণের চেষ্টা করে ও মারপিট করে জোর করে কাগজে স্বাক্ষর নেয়। রাতেই তিনি মেয়েকে আহত অবস্থায় চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ঘটনার দুদিন পর ১৪ সেপ্টেম্বর চরফ্যাশন থানায় এ ব্যাপারে এজাহার দাখিল করলে ওসি মনির হোসেন মিয়া এজাহারটি আমলে না নিয়ে উল্টো আসামি পক্ষের থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে ফাতেমা বেগম ও তার স্বাসীসহ সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা নেন। এরপর থানার এসআই কেরামতকে ফামেতার বাড়িতে পাঠিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

ফাতেমা বেগম বলেন, দাবি করা ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ৫ হাজার টাকা দিয়া তার অক্ষমতার কথা প্রকাশ করলে তার স্বামীসহ সবাইকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানোর হুমকি দেন। বিষয়টি নিয়ে ওসি মনিরের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন তিনি ফাতেমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। ভয়-ভীতি দেখিয়ে তিনি দাবি করা টাকা না দিলে সবাইকে জেলে পাঠিয়ে ধুঁকে ধুঁকে মারার হুমকি দেন। এমনকি ওসির দাবি করা টাকা না দেয়ায় রাতেই তার স্বামী ও চাচা শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন এক সংবাদকর্মীকে সঙ্গে করে থানায় গেলে তখনও আগের দাবি করা চাঁদা পরিশোধ করার কথা বলেন ওসি। আবার দাবি করা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ওসি মনির ফাতেমার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেন।

নিরূপায় হয়ে ওসি মনির হোসেন মিয়ার ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদা দাবির বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম গেল ৮ অক্টোবর রেজিস্ট্রি ডাক যোগে (৪৮১নং) ভোলার এসপির কাছে এজাহার দাখিল করেন। যার অনুলিপি স্বরাষ্ট্র সচিব, আইপিজি, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠান।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই কেরামত আলী বলেন, মামলা রুজু করার দায়িত্ব ওসির। মামলা হওয়ার পর ওসির নির্দেশে আসামি গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য না।

যোগাযাগ করা হলে ওসি মনির হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, ফাতেমা বেগম তো নিজেই আসামি। আর আসামিরা কত কথাই না বলে। এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এ ব্যাপারে ভোলার এসপি সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, অভিযোগের কপি নজরে আসেনি। কপি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের কপি
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের কপি
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের কপি

স্থানীয়রা জানায়, চরফ্যাশন থানা যোগদানের পর থেকেই ওসি মনির বিতর্কিত ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে প্রকৃত ঘটনার মামলা না নেয়া এবং মিথ্যা মামলা নেয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া থানা এলাকায় খুন, ধর্ষণ নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছেও। যেসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে ওসি ব্যর্থ হয়েছেন।

এদিকে, ধর্ষণ ও আইন শৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদে গেল শুক্রবার চরফ্যাশন সদরে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

এনএম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়