দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনে ‘মা’ দুর্গা

আগের সংবাদ

সারাদেশে আরো নয়টি আঞ্চলিক অফিসে ই-পাসপোর্ট

পরের সংবাদ

বইছে অর্থনীতিতে সুবাতাস

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২০ , ৫:৪৯ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০২০ , ৫:৪৯ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাস ও সিরিজ বন্যায় দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেও ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা পাড়ের সাহসী জাতি। করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্বের অনেক দেশই এখনো ঘুরে দাঁড়াতে না পারলেও বাংলাদেশ এ সংকট খুব ভালোভাবেই সামাল দিতে পেরেছে বলে মনে করে এডিবি। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ খাতগুলোর উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থায় করোনা ভাইরাসজনিত ক্ষয়ক্ষতি তেমন বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। যে কারণে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের অর্থনীতি। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। রপ্তানি আয়েও সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। আমদানি ব্যয় কম হওয়ায় ও রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দেশের কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধিও সন্তোষজনক। মূল্যস্ফীতির চাপও মোটামুটি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলেও বন্যার প্রভাব কেটে গেলে শাক-সবজিসহ অন্যান্য পণ্যের মূল্য কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের আবাসন খাত আবারো পুরনো অবস্থায় ফিরছে। এ সাফল্য সম্ভব হয়েছে দেশবাসীর দৃঢ় মনোবল ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে। এগিয়ে চলার পথে যা এ জাতির পাথেয় বলে বিবেচিত।

তবে বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাদশা বাংলাদেশের ওপরও প্রভাব ফেলবে, এমন আশঙ্কা অনেক আগেই প্রকাশ করেছিল বিশ্বব্যাংক। তবে করোনা মহামারির ধাক্কা সামাল দিতে সরকার এরই মধ্যে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তা সঠিক পথেই আছে বলে মনে করছে তারা। আবার নতুন আশঙ্কার কথাও বলছে সংস্থাটি। তাদের পূর্বাভাস হচ্ছে, বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হলেও সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে আসতে পারে, সেই সঙ্গে উৎপাদন ও নির্মাণ খাতের কর্মীদের আয় কমে আসায় ভোগব্যয় বাড়ার সুযোগ থাকবে না। বিশ্বের ১৬০টি দেশে থাকা ১ কোটি প্রবাসীর মধ্যে করোনাকালে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন ৩ লাখ কর্মী। করোনা দুর্যোগে বেকার হয়ে পড়া বিপুল এই জনসম্পদের কর্মসংস্থানে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় একটি বড় প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রবাসীদের আয়ে ফিরিয়ে আনার এই প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় প্রবাসীরা চাইলে দেশের চাকরিতে প্রবেশ করতে পারবেন। উদ্যোক্তা হতে চাইলে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ ঋণসুবিধা দেয়া হবে। আবার বিদেশে যেতে চাইলে আরো দক্ষ হয়ে উঠতে খাতভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। নতুন করে বিদেশে যেতে ইচ্ছুকদেরও এই প্রকল্পের অধীন প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ‘রিকভারি এন্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট বা রেইজ’ শীর্ষক এই প্রকল্পে ১ লাখ লোকের চাকরির পাশাপাশি তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে।

মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ।
[email protected]

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়