অ্যামফিটামিন পাচারের পেছনে ভারতীয় চক্র

আগের সংবাদ

হাত ধুলে নিয়মিত থাকব সবাই করোনামুক্ত

পরের সংবাদ

নির্বিকার সমাজ ও আমাদের দুঃস্বপ্ন

অনজন কুমার রায়

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১৪, ২০২০ , ৬:১৭ অপরাহ্ণ

জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। অসমতার এই পৃথিবীতে অর্ধেক আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলে আলোকিত জগৎ অপ্রকাশিতই থেকে যাবে। বুঝেই নিতে হয়, অবক্ষয়ে নিমজ্জিত মানুষগুলো আসলে এই স্বার্থপর নিষ্ঠুর সমাজেরই উৎপাদন। তাই সেই নিষ্ঠুর মানুষগুলো থেকে শিষ্টাচারসম্মত আচরণ সবসময় সমাজ নাও পেতে পারে। নির্মম পরিহাসে সমাজের এসব মানুষ রং বদলায়। সভ্য সমাজের মাঝে দুয়েকজন নিষ্ঠুরতার ডাক দিতেই পারে। তারপরও আমাদের একটা ইচ্ছা থাকে, সে ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে চাই ইতিবাচক ঘটনার মধ্য দিয়ে। সমাজ, আমাদের উত্তরণের পথ দেখায়। কখনো পিছপা হওয়ার বিমুখতা শেখায় না। মনের মাঝে জেগে থাকা ইপ্সিত স্বপ্নগুলোকে জলাঞ্জলি দিয়ে কেউ যদি শিহরণ জাগানো সমাজব্যবস্থার মাঝে নির্ভরতার জায়গাটুকু হারিয়ে ফেলে বুঝতেই হবে সেখানে নেতিবাচক কিছু ঘটতে যাচ্ছে। এমনকি নির্যাতনের ভয়াবহতাও চরম পর্যায়ে চলে আসে। ফলে বীভৎস সমাজব্যবস্থা জানান দেয়। স্তম্ভিত হয়ে আসে সামগ্রিক জীবনের গতিধারা। সেখানে বিরাজ করে বীভৎসতার শত রূপ, শত আঙিনা!

বীভৎসতা যখন ধেয়ে আসে সমাজ তখন স্তম্ভিত হয়ে আসে। স্তব্ধতা তাদের পিছু টানে, আষ্টেপৃষ্ঠে বিরাজ করে নির্মমতা। আমরা আমাদের আদিম সমাজকে নষ্ট সমাজের সঙ্গে তুলনা করি। বর্বরতার চরম মুহূর্তে বর্তমান এই সমাজটাও আদিম সমাজের ভাবাবেগে নিয়ে আসে। সেখানে বিবেকের আত্মতুষ্টি বলতে কিছু থাকে না। আত্মশ্লাঘা এসব লোক সমাজটাকে এভাবেই বিষিয়ে তুলে। যখন সামাজিক সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্কের মাঝেও একটি শিশু নির্যাতিত হয় কিংবা পিতা তার কন্যাকে নিয়ে দায়গ্রস্ত হিসেবে সময় পার করেন, সে সমাজে নিষ্ঠুরতার গ্লানি মনে বিঁধে। পরিবারের মাঝেই বেড়ে ওঠা কন্যাটি সামাজিকভাবে এখনো ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যের পথটি বেছে নিতে পারে না। সদা ভয়ার্ত হৃদয়ে পথচলা শুরুর রাস্তাটিও শেষ করতে হয় শঙ্কিত চিত্তে। মানবিকতার দ্বার সেখানে রুদ্ধ থাকে। হঠাৎ করে মাথা ছাড়া দিয়ে উঠে নষ্ট সমাজের ছত্রছায়া। দুয়েকটি নেতিবাচক ঘটনা শঙ্কিত করে তুলে। সমাজে দেখা দেয় ছন্দপতন। ফলে কেউ বা অহায়ত্বের গ্লানিতে ভুগে, কেউ নিজের সম্ভ্রম দিতে বাধ্য হয়। সেখানে পুরুষ এবং নারীর মাঝে দেয়াল তৈরি করলে আরো শঙ্কিত হয়ে উঠে সমাজব্যবস্থা। ফলে অসহায়ত্বের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পেতে কেউবা হাত বাড়িয়ে অপেক্ষায় থাকে।

ইদানীং আমাদের সমাজে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের মতো নেতিবাচক ঘটনা আমাদের আরো শঙ্কিত করে তুলে। ফলে সমাজে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। নারীদের অবস্থান সুদৃঢ় হওয়ার বদলে সীমাবদ্ধতায় কড়া নাড়ে। তাই এ দেশের সরকারকে নারী নির্যাতন রোধে বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে হয়। অবশ্যই সরকারি এসব উদ্যোগ প্রশংসনীয় বটে। কিন্তু আমাদের সমাজের সদিচ্ছা যতদিন না স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে উঠবে ততদিন এ ধরনের বিরূপ বা নেতিবাচক অবস্থান থেকে আমাদের উত্তরণ সম্ভব নয়। বিষণ্ন মনে শঙ্কিত হয়ে ভাবিয়ে তুলে বর্তমান সমাজের গতিপ্রকৃতি। কখনো ভাবি, এ সমাজটাই আমাদের আগলে রাখে, আবার এ সমাজেরই দুয়েকজন নিকৃষ্ট কাজে সায় দিয়ে আতঙ্কিত করে তুলে। আমাদের সমাজটাকে আমরা এখনো নষ্ট বলতে পারি না। এই সমাজে এখনো ভালো মানুষ আছে যাদের আমরা সবাই সুন্দর মনের অভিসারী বলে মনে করি। তারাই হয়তো এ সমাজটাকে পিছুটান থেকে রক্ষা করবে। আশার কথা এই যে, বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা এসব অনৈতিক কিংবা নেতিবাচক কাজ মানতে নারাজ। তারা স্তব্ধ সমাজে খুঁজে ফিরে প্রাণের পরশ। তাই বলি, আগামীতে শ্বাপদ সঙ্কুলমুক্ত এক সুন্দর সমাজের চিত্রিত রূপের স্বপ্ন কি আমরা দেখতে পারি না?

ব্যাংক কর্মকর্তা ও লেখক।
[email protected]

এমআই