সারাদেশে আরো নয়টি আঞ্চলিক অফিসে ই-পাসপোর্ট

আগের সংবাদ

কেমন আছেন অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা

পরের সংবাদ

ধর্ষণের কারণ নিয়ে কিছু কথা

জুবায়ের আহমেদ

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১৪, ২০২০ , ৫:৫৫ অপরাহ্ণ

মানুষ নামের পশুদের হিংস্র তাণ্ডব চলছে শিশু থেকে বৃদ্ধা, সব বয়সি নারীর ওপর। করোনাকে ছাপিয়ে এখন সবচেয়ে বড় মহামারির নাম ধর্ষণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট এমসি কলেজ, নোয়াখালীর ঘটনাগুলো সবচেয়ে আলোচিত হলেও দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা শহরেই নিয়মিত ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, যেগুলো মিডিয়াতে আসছে, সেগুলোই আলোচিত হচ্ছে, বিপরীতে অনেক ঘটনাই আড়ালে থাকছে, যেখানে ভিকটিমকে চাপে রেখে ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়া হয়, মামলা পর্যন্ত করার সাহস পায় না ভিকটিম। সম্প্রতি নোয়াখালীতে গৃহবধূকে অমানসিক নির্যাতনের ঘটনাও ধামাচাপা দেয়ার দীর্ঘ ১ মাস পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে প্রকাশ হয়েছে মধ্যযুগীয় বর্বর নির্যাতনের চিত্র। দেশব্যাপী সব শ্রেণির মানুষ ধর্ষণবিরোধী সভা, সমাবেশের মাধ্যমে প্রতিবাদমুখর। এ সময়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে ধর্ষণের কারণ নিয়ে। একেকজন একেক মতামত প্রদান করছে ধর্ষণের বিষয়ে। প্রকৃতপক্ষে কেন ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, তা নিয়েই আলোচনা করব সংক্ষিপ্ত আকারে।
ধর্ষকের মানসিকতাই বড় কারণ : বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক প্রত্যেকটি ধর্মমতেই নিষিদ্ধ ও কঠিন শাস্তিযোগ্য কাজ। বাংলাদেশে বিদ্যমান আইনেও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে সমর্থন করে না। পাশাপাশি ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে ধর্ষকের জন্য মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত শাস্তির বিধান রয়েছে। এই অবস্থায় একজন ধর্ষক ধর্মীয় কিংবা রাষ্ট্রীয় আইনের তোয়াক্কা না করে নিজের যৌন কামনা চরিতার্থ করার কুমানসে শিশু থেকে বৃদ্ধা, সব বয়সি নারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ধর্ষকের মানসিকতাই ধর্ষণ কাণ্ডের বড় কারণ।

ক্ষমতার দাপটে তাদের নারী লোভী মানসিকতা জেগে উঠে এবং নারীর ওপর বর্বর নির্যাতন চালায়। সাম্প্রতিকসহ সব সময়েই এ ধরনের ঘটনা দেখা যায়। ধর্ষক ক্ষমতাবান বিধায় পার
পেয়ে যায় সুষ্ঠু বিচার ছাড়াই।

পর্নোগ্রাফির প্রভাব : আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে বিজাতীয় নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফিতে মত্ত তরুণ সমাজ। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সব পর্নোসাইড বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হলেও তরুণরা এখনো মজে আছে নীল ফ্লিমের দুনিয়ায়। পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত থাকার কারণে সর্বক্ষণ যৌন চিন্তায় বিভোর থাকা ব্যক্তিরা নিজের যৌন কামনা চরিতার্থ করার কুমানসে শিশু থেকে বৃদ্ধা, সব বয়সি নারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ধর্ষণের পেছনে পর্নোগ্রাফিরও বেশ দায়ও আছে বেশ।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া : আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা নেই বাংলাদেশে। অপরাধী যদি ক্ষমতাবান কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলীয় নেতাকর্মী হয়, তাহলে অপরাধীও শনাক্ত করা সম্ভব হয় না, অপরাধী শনাক্ত করা হলেও তারা পার পেয়ে যায়। ফলে এসব ব্যক্তি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ক্ষমতার প্রভাবে যা ইচ্ছে তাই করে। ক্ষমতার দাপটে তাদের নারী লোভী মানসিকতা জেগে উঠে এবং নারীর ওপর বর্বর নির্যাতন চালায়। সাম্প্রতিকসহ সব সময়েই এ ধরনের ঘটনা দেখা যায়। ধর্ষক ক্ষমতাবান বিধায় পার পেয়ে যায় সুষ্ঠু বিচার ছাড়াই।

মাদকের প্রভাব : মাদক মানুষকে জ্ঞানশূন্য করে ফেলে। মাদকাসক্ত ব্যক্তির দ্বারা যে কোনো কাজই সম্ভব। হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে মাদকাসক্ত ব্যক্তি মানুষ খুন করে, ধর্ষণ করে, চুরি ডাকাতিসহ সব কাজ করে। আমাদের সমাজে এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে। খুন ও ধর্ষণের মতো বর্বরোচিত কাজ করা ব্যক্তিদের অধিকাংশই মাদকাসক্ত। মাদক ব্যবসায়ী-সেবীদের রুখে দেয়ার মাধ্যমে দেশ থেকে অধিকাংশ অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব।
সবদিক বিবেচনায় ধর্ষণের জন্য ধর্ষকের মানসিকতাই দায়ী। আর এই মানসিকতা তৈরির পেছনে বড় ভূমিকা রাখে পর্নোগ্রাফি, মাদক এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না থাকা এবং ধর্মীয় অনুশাসন না মেনে চলা। কাজেই পর্নো দেখা নিষিদ্ধ করাসহ শাস্তির আওতায় আনা, মাদক নির্মূল করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ক্রমে অপরাধীদের শাস্তি দেয়া এবং স্ব-স্ব ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমেই সবাই মিলে ধর্ষণসহ নারীর প্রতিসহ সহিংসতা রুখে দিতে হবে।

শিক্ষার্থী, বিজেম, ঢাকা।
[email protected]

এমআই