সিংগাইরে শিশু ধর্ষণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১

আগের সংবাদ

মৎস্য খাতকে চ্যালেঞ্জিং খাত হিসেবে নিতে চাই

পরের সংবাদ

শ্যামা সুন্দরী খালকে বাঁচান

প্রকাশিত: অক্টোবর ১১, ২০২০ , ৫:৪৪ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০২০ , ৫:৪৯ অপরাহ্ণ

ঢাকার বাইরের শহরগুলোতেও এখন যথেষ্ট উন্নয়ন হচ্ছে। নিয়ম-নীতি না মেনে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠছে। ভরাট ও দখল হয়ে যাচ্ছে সেসব শহরের খাল-পুকুর। স্থানীয় পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের উদাসীন ভূমিকায় এসব শহরের বাসিন্দার ভোগান্তি আরো দীর্ঘ হচ্ছে। সম্প্রতি এক রাতের বৃষ্টিতে রংপুর শহর তলিয়ে যায়। স্মরণকালের সবচেয়ে ভারি এ বর্ষণে নগরীর শতাধিক পাড়া-মহল্লার প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। নগরীর কোনো কোনো জায়গা কোমর পর্যন্ত ডুবে যায়। মাত্র এক রাতের বৃষ্টিতে পুরো নগরী এভাবে ডুবে যাবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য এক সময় যে খাল খনন করা হয়েছিল সেই শ্যামা সুন্দরী খাল পর্যন্ত এই বৃষ্টিতে উপচে পড়ে। এ খালকে এর আগে কেউ এভাবে উপচে পড়তে দেখেনি। দখল-দূষণ আর ভরাট হয়ে এ খালের এমনই অবস্থা যে এটি এখন রংপুর নগরবাসীর দুঃখে পরিণত হয়েছে। রংপুর নগরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী এ খালটি এখন মৃতপ্রায়।

আজ থেকে ১৩০ বছর আগে ১৮৯০ সালে মা ‘শ্যামা সুন্দরী’র নামে খালটি খনন করেছিলেন তৎকালীন জমিদার ও রংপুরের প্রথম পৌর চেয়ারম্যান জানকী বল্লভ সেন। খালটি রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে ১৫ দশমিক ৮০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। এলাকাভেদে এর প্রস্থ ২৩ থেকে ৯০ ফুট। এ খালটি উত্তর-পশ্চিমে কেল্লাবন্দ ঘাঘট নদী থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকার বুকচিরে মাহিগঞ্জ সাতমাথা রেলগেট এলাকায় কেডি ক্যানেল স্পর্শ করে মিশেছে খোকসা ঘাঘট নদীতে। রংপুর নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষার জন্য জানকী বল্লভ সেন এ খালটি খনন করেছিলেন। এর সুফলও পেয়ে আসছিলেন নগরবাসী। জলাবদ্ধতার হাত থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করে আসছিল এ খালটি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে দখল-দূষণ আর অনেক জায়গায় ভরাট হয়ে এ খালের অস্তিত্বই এখন সেভাবে চোখে পড়ে না।

পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার পূর্বশর্ত হচ্ছে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। একটি শহরের সৌন্দর্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অনেকাংশে নির্ভর করে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর। আমাদের দেশের শহরগুলোর ময়লা-আবর্জনা অপসারণ গতানুগতিক পদ্ধতির এবং এটিকে কখনই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি। যার ফলে শহরবাসী যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে বাধ্য হচ্ছে। এতে করে খাল ও জলাশয়গুলো ভরাট হয়ে মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। জানা যায়, শ্যামা সুন্দরী খালটি খনন, সংস্কার, পাড় নির্মাণ ও এটির ওপর তিনটি সেতু নির্মাণ বাবদ ২০১২ সালে ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। এরও আগে ২০০৮-০৯ সালে খালটি সংস্কারে আরো ১২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। কিন্তু তারপরও এ খালটি ভরাট হওয়া থেকে রক্ষা পায়নি। অর্থাৎ আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকার কারণে কর্তৃপক্ষের এসব সংস্কারমূলক কর্মকাÐও কোনো কাজে আসছে না। উপরন্তু জনগণের অর্থই শুধু অপচয় হচ্ছে। কাজেই নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে তথা জলাশয়গুলোকে ভরাট হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে নগর কর্তৃপক্ষের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। আর একটি বিষয় হচ্ছেÑ শ্যামা সুন্দরী খালের অনেক জায়গা দখল হয়ে যাওয়া। কোনো কোনো স্থানে খাল দখল করে ঘরবাড়ি তৈরি করেছেন অনেকে। কেউবা আবার করছেন চাষাবাদও।

সিটি করপোরেশন ও রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, খালের হাল জরিপে ১৭০ জন অবৈধ দখলদারকে চিহ্নিত করা হয়। চলতি বছরের ৫ মার্চ উচ্ছেদের আনুষ্ঠানিকতাও শুরু হয়। কিন্তু অবৈধ দখলে রাখা ১১ জন সিটি করপোরেশনের কাছে আপত্তি দেয়ায় আটকে আছে শ্যামার সংস্কার ও পুনঃখননের কাজ। এছাড়া শ্যামা সুন্দরী সংস্কারে একজন কনসালট্যান্ট নিয়োগ করার কথা থাকলেও আজ অবধি সিটি করপোরেশন সেই কনসালট্যান্ট নিয়োগ দিতে পারেনি। এ রকম দীর্ঘসূত্রতা নগরবাসীকে আরো দুর্ভোগে ফেলছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে এক রাতের সেই বৃষ্টির মতো রেকর্ডভাঙা বৃষ্টি ভবিষ্যতেও হবে। কিন্তু রংপুর নগরবাসীকে রক্ষার পদক্ষেপ যদি এখনই নেয়া না হয় তাহলে সামনে হয়তো এটি একটি পরিত্যক্ত নগরীতে পরিণত হবে। কাজেই রংপুর শহরকে বাঁচাতে হলে শ্যামা সুন্দরী খালকে বাঁচাতে হবে। আর এক্ষেত্রে একটি মহাপরিকল্পনা নিয়ে এখনই কাজ শুরু করা দরকার।

লেখক : সাংবাদিক, রংপুর।

[email protected]

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়