হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ খেলা হা-ডু-ডু

আগের সংবাদ

কালাইয়ে পৌর উপ-নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর ভোটবর্জন

পরের সংবাদ

তজুমদ্দিনে পানের বাম্পার ফলন

প্রকাশিত: অক্টোবর ১০, ২০২০ , ২:১৮ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০২০ , ৪:২৬ অপরাহ্ণ

ভোলার তজুমদ্দিনে চলতি মৌসুমে পানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় পানের অধিক উৎপাদন ও দাম ভালো পাওয়ায় খুশি চাষিরা।

একাধিক কৃষকের সাথে আলাপকালে জানা যায়, সারা বছর ধরে পানের ফলন হলেও বর্ষা মৌসুমে পানের বেশি ফলন হয়। অল্প পুঁজি, নিয়মিত শ্রম ও পরিচর্যার ফলে পান চাষ বেশ লাভজনক হওয়ায় অনেক চাষিরা নিজের জমি না থাকলেও অন্যের জমি লিজ কিংবা নগদ রেখে পান চাষ করছেন। এ কাজে পুরুষদের পাশাপাশি থেমে নেই ঘরের মহিলারাও। পানের বরজ করতে বাজালি, ছন, বাঁশ, পাঠকাঠি, খড়সহ যেসব উপকরণের প্রয়োজন হয় তা সহজেই এলাকায় পাওয়া যায়। ফলে এসব উপকরণ সংগ্রহ করতে তাদের ঝামেলা পোহাতে হয় না। বাঁশ ও খড়ের মূল্য বেশি হওয়ায় চাষিরা বিকল্প হিসেবে বাঁশের পরিবর্তে পাঠকাঠি ও খড়ের পরিবর্তে সুপারি পাতা ব্যবহার করছে। সরকারি বেসরকারি সহযোগিতা ফেলে এ অঞ্চলে পান চাষ আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠতো।

গোলকপুর গ্রামের পান চাষি নিমাই চন্দ্র দাস জানায়, বর্তমানে তার ২শ বরজ (২শ লাইন) রয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর পানের বম্পার ফলন হয়েছে। তার উৎপাদিত পান নিয়মিত কুঞ্জের হাট ও মঙ্গলসিকদার পাইকারি বাজারে বিক্রি করেন। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বছর পান থেকে লক্ষাধিক টাকা আয় হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পান বিক্রি করে এবছরও বেশ লাভবান হওয়া যাবে। প্রতি মাসে তার বরজে ২৫-৩০ জন শ্রমিক কাজ করে। ফলে পান চাষ করে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি বহু লোকের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়।

পান চাষি শারীরিক প্রতিবন্ধী লক্ষণ চন্দ্র দাস বলেন, আমি প্রায় ১৫ বছর ধরে পান চাষ করি। আমার পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস্য হলো পান চাষ। পান চাষ করে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা আয় করি। সরকারিভাবে পরামর্শ কিংবা সহযোগিতা পেলে পান চাষ আরও বাড়ানো যেত।

পান ব্যবসায়ী মনোহর চন্দ্র দাস বলেন, তিনি প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পানের পাইকারি ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। এ অঞ্চলের পান সুস্বাদু হওয়ায় ঢাকা, বরিশাল, হাতিয়া, মনপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানি হয়। অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর পানের বেশ চাহিদা রয়েছে এবং দামও ভালো পাচ্ছে চাষিরা। বড় সাইজের প্রতি পাই ৮শ, মাঝারো সাইজের প্রতি পাই ৬শ, ছোট সাইজের প্রতি পাই ২শ থেকে ৩শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আবুল হোসেন মিয়া বলেন, এ অঞ্চলে প্রায় ২৫০ জন চাষি ৮৬ একর জমিতে পান চাষ করে। পান একটি অর্থকারী ফসল। এ অঞ্চলে পান চাষ বৃদ্ধি করার জন্য কৃষকদের আরো উৎসাহ ও মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হবে। যাতে পান করে কৃষকেরা স্বাবলম্ভী হতে পারে।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়