বিবস্ত্র করে নির্যাতন: সোহাগ-রাসেলের স্বীকারোক্তি

আগের সংবাদ

স্পেনের ১০ শহরে জরুরি অবস্থা জারি

পরের সংবাদ

বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ

নিয়োগ বাণিজ্যে মাদ্রাসা সুপার, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২০ , ৯:৪১ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০২০ , ৯:৪১ অপরাহ্ণ

আয়া আর নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে ৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ

রৌমারী উপজেলার নুরপুর রহমানিয়া দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. রিয়াজুল হকের বিরুদ্ধে দুটি পদে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসায় আয়া ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের জন্য প্রায় ৮ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন ওই মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা রিয়াজুল হক মাদ্রাসায় যোগ দেয়ার পর থেকেই নানা দুর্নীতি আর অনিয়ম করে আসছেন। তার কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের। শুধু তাই নয়, শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে সুপার দুর্ব্যবহার করেন।

ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মু. আব্দুর রাজ্জাকের সময় রাতে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে আয়া ও নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে দুটি পদের জন্য গেল ১ জুন দৈনিক ইনকিলাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিন আবেদন করার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মাদ্রাসার জনৈক শিক্ষকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নুর নাহারের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা আর কাঠালবাড়ির জনৈক ইউনুস আলীর ছেলে হানিফ নামে অপর প্রার্থীর কাছ থেকে ৫ লাখ ঘুষ নেন।

তবে হঠাৎ করেই গেল ১৫ জুন সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যু হলে কয়েকদিনের মধ্যেই তড়িঘড়ি করে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের পৃথকভাবে রেজুলেশনে স্বাক্ষর নিয়ে সাইফুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক সদস্যকে নিয়ম বহির্ভুতভাবে সভাপতি নিযুক্ত করা হয়।

পরবর্তিতে সাইফুল ইসলাম ও সুপারের যোগসাজসে ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্যদের কিছু বুঝে ওঠার আগেই রেজুলেশনের সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করেন। প্রায় ৮ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে কৌশলে রেজুলেশনও করেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সভাপতি ও সুপার মিলে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিজ বাসভবন গাইবান্ধায় যান। সেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ঢাকায় মাদ্রাসা বোর্ডে যান।

এদিকে, পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়টি গোপন রাখায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। অন্যদিকে, সুপারের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার পুকুরের বালু, লিচু বাগান নিলাম, মাদ্রাসার জমির ধান ও কয়েকটি গাছ বিক্রির প্রায় তিন লাখ টাকা আত্মসাত করারও অভিযোগ তুলেছেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।

তাছাড়া মাদ্রাসায় গোপন নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগও দায়ের করেছেন। মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য আফতারুল বলেন, আয়া ও নিরাপত্তাকর্মী পদে প্রায় ৮ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমরা ওই নিয়োগ বাতিলের দাবি করছি।

মাদ্রাসার সুপারকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে উল্লেখ করে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ফজলুল হক বলেন, তিনি মাদ্রাসার অর্থের কোনো হিসাব দেন না। মোটা অংকের অর্থ নিয়ে অবৈধভাবে দুটি পদে নিয়োগ দিচ্ছেন।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত সুপার মাওলানা রিয়াজুল হক সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।

রৌমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবিএম নকিবুল হাসান কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনএম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়