নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন

আগের সংবাদ

শিক্ষার সংকট ও উত্তরণের উপায়

পরের সংবাদ

যুব বেকারত্ব নিরসনে নানামুখী পদক্ষেপ

প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২০ , ৮:০৪ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০২০ , ৮:০৫ অপরাহ্ণ

সম্প্রতি আইএলও প্রকাশিত ‘ট্যাকলিং দ্য কোভিড-১৯ ইয়ুথ এমপ্লয়মেন্ট ক্রাইসিস ইন এশিয়া এন্ড দ্য প্যাসিফিক’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- করোনার কারণে ‘লকডাউন প্রজন্ম’ তৈরি হয়েছে; যার প্রভাব দীর্ঘদিন থাকবে। করোনার তাৎক্ষণিক প্রভাবে লকডাউন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাজ হারিয়েছে বহু তরুণ। সমাজে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে থাকবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। আইএলওর আশঙ্কা, করোনার প্রভাবে বাংলাদেশে যুব বেকারত্বের হার বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হতে পারে। এ অবস্থায় সংস্থাটি এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে যুব বেকারত্ব সংকট নিরসনে এ অঞ্চলের সরকারগুলোর প্রতি জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরিতে নীতিনির্ধারক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

দেশের বেকার সমস্যা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারও উদ্বিগ্ন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বেকার সমস্যা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়; তবে সরকার ইতোমধ্যে যুব বেকারত্ব নিরসনে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এমনই একটি পদক্ষেপ হচ্ছে ‘স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেইপ)’। দারিদ্র্যবিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ‘স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’ বাস্তবায়ন করছে। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২০ সালের মধ্যে দেশে ৫ লাখ দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে। সম্পূর্ণ সরকারি খরচে আগ্রহী বেকারদের বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে এবং প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ৭০ শতাংশের চাকরির সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। দেশ-বিদেশে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদার আলোকে বেসরকারি পর্যায়ে ১২টি ইন্ডাস্ট্রি এসোসিয়েশন, সরকারি পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, শিক্ষা, শিল্প এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগ তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

‘সেইপ’-এর জনকল্যাণমুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ, এতে দ্বিমত পোষণ করার সুযোগ নেই। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের দেয়া সুযোগের সদ্ব্যবহার করে দেশের বেকার যুবসমাজ পছন্দের কোর্সে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে উপকৃত ও স্বাবলম্বী হচ্ছে। এমনই একজন উপকারভোগী হচ্ছেন টাঙ্গাইল জেলার ধরেরবাড়ি গ্রামের রুবেল মিয়া।

রিকশাচালক পিতার সন্তান ২৫ বছর বয়সি রুবেল মিয়া অষ্টম শ্রেণি পাস। রুবেলের বাবা জবান আলী সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় করতেন, তা দিয়ে তাদের ৬ জনের সংসার চলত না। ফলে ইচ্ছে থাকলেও বাধ্য হয়ে পড়ালেখায় ইতি টেনে জীবন সংগ্রামে নামতে হয় রুবেলকে। সংসারের খরচ জোগাতে বাবার পাশাপাশি ছোটখাটো বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে থাকেন রুবেল। এ সময় একদিন তিনি তার চাচার কাছে জানতে পারেনÑ টাঙ্গাইল সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) ‘সেইপ’ প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন কোর্সে সম্পূর্ণ বিনা খরচে প্রশিক্ষণ লাভের সুযোগ পাওয়া যাবে। সেইসঙ্গে মিলবে উপবৃত্তি।

২০১৮ সালে জানুয়ারি-এপ্রিল সেশনে ওয়েল্ডিং কোর্সে ভর্তির জন্য আবেদন করে মনোনীত হওয়ার পর রুবেল সফলতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণ শেষে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেয়ার পর সেখানে ঠিকমতো বেতন পাওয়া নিয়ে ঝামেলা হচ্ছিল বলে এক বন্ধুর সহযোগিতায় ঘরভাড়া নিয়ে নিজেই একটি ব্যবসায়ের গোড়াপত্তন করেন। এরপর ধীরে ধীরে তার ব্যবসায়ের প্রসার ঘটতে থাকে। বর্তমানে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তিনজন কর্মচারী রয়েছে। নিয়মিত কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ এবং অন্যান্য খরচ বাদেও এখন রুবেল প্রতি মাসে আয় করছেন কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা। রুবেল জানালেন, তিনি ও তার পরিবার এখন খুবই ভালো আছে। রুবেলের মতে, দেশের বেকার যুবসমাজ যদি তার মতো ‘সেইপ’-এর প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পায়, তাহলে তারা সংসারের হাল ধরার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি হিসেবে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভ‚মিকা রাখার সুযোগও পাবে।

জাকির হোসেন সরকার : সংবাদকর্মী

[email protected]

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়