তাড়াইলে হত্যা মামলার ৪ আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার

আগের সংবাদ

বিকাশ প্রতারণার ফাঁদে গৃহিণী, নিয়ে গেল লক্ষাধীক টাকা!

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ প্রবণতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২০ , ৫:৫৮ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৭, ২০২০ , ৬:০০ অপরাহ্ণ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বাড়ছেই। আমরা শুরু থেকেই এ বিষয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে আসছি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হলে স্বাভাবিকভাবেই সন্ত্রাসবাদের উত্থান হবে। খুন, ধর্ষণ, মাদক পাচার, শিশু পাচার, ডাকাতি, অপহরণ, পতিতাবৃত্তিসহ সব ভয়ঙ্কর অপরাধের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে রোহিঙ্গারা। ফলে কক্সবাজারের দুই উপজেলার ৩২টি ক্যাম্পে গত আড়াই বছরে রোহিঙ্গাদের হাতে রোহিঙ্গা খুন হয়েছে অর্ধশতাধিকের বেশি। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উখিয়ায় কুতুপালং ক্যাম্পে দুই সন্ত্রাসী গ্রæপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছে। এ নিয়ে গত ৩ দিনে ৭ রোহিঙ্গা নিহত হলো। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প অপরাধ জগতে পরিণত হয়েছে। এটা আমাদের জন্য উদ্বেগের খবর। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে। বিশেষ করে মাদক, অস্ত্র ও স্বর্ণ ব্যবসা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতি রাতে ক্যাম্পগুলোতে শোনা যায় গুলির শব্দ। জানা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক একাধিক সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর হাতে হাতে পৌঁছে গেছে অস্ত্র। অস্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে তারা ক্যাম্পের ভেতরে বাইরে ডাকাতি, অপহরণ, খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত করছে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অস্ত্র সরবরাহ করতে এ দেশের অস্ত্র কারবারিদের সম্পৃক্ততায় পাহাড়ের গহীন অরণ্যে স্থাপন করা হয়েছে অস্ত্র তৈরির কারখানা। গত শনিবার ভোর রাতের অভিযানে এমন একটি অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৫) সদস্যরা। অভিযানে দুজন কারিগরকে আটক করা হয়েছে। এমন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের খবর প্রায়ই গণমাধ্যমে দেখেছি। এরপরও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দমন করা যাচ্ছে না। জাতিগত নির্মূল অভিযানের ফলে গত বছরের আগস্ট থেকে মিয়ানমারের ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগেও এখানে অবস্থান করছিল ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এত বিপুলসংখ্যাক রোহিঙ্গাকে নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে রাখা কঠিন কাজ বটে। শুধু ক্যাম্পের অভ্যন্তরে নয়, ক্যাম্পের বাইরেও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গেও বিভিন্ন সময় সংঘর্ষে লেগে যায়। স্থানীয় অনেকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে অপহরণ ও হত্যার শিকার হয়েছে। নানাভাবে তারা অপরাধ প্রবণতায় জড়িত। এরা আক্রোশী মনোভাবের। সব বিবেচনা করেই প্রশাসনকে অত্যন্ত কঠোর হতে হবে। অন্যথায় আরো অপরাধ বাড়তে পারে। যা আমাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বটে। আশা করছি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সব ধরনের অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দক্ষতার পরিচয় দেবে। পাশাপাশি বাড়াতে হবে গোয়েন্দা নজরদারি। স্থায়ীভাবে পুলিশ ক্যাম্প বসাও এখন সময়ের দাবি।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়