রেলের উন্নয়নে সংস্কার জরুরি

আগের সংবাদ

ছয় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অপেক্ষায়!

পরের সংবাদ

২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন

১২৮ কিলোমিটার নেটওয়ার্ক গড়ার পরিকল্পনা মেট্রোরেলে

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২০ , ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০২০ , ১:৩৪ অপরাহ্ণ

রাজধানীর সঙ্গে আশেপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজ করতে মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য বাড়ানো হচ্ছে। মেট্রোরেলের মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে পূর্বাচল সিটি, গাজীপুর, সাভারের আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জের মধ্যে ‘দ্রুততম সময়ে যোগাযোগ’ স্থাপনের লক্ষ্যে সরকার একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য বেড়ে ১২৮ কিলোমিটারে দাঁড়াবে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের টার্গেট নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার। এই প্রকল্পগুলো হবে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প। রাজধানী ও আশেপাশের এলাকাগুলোর যানজট নিরসনে ৬টি মেট্রোরেলের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গঠনের উদ্দেশেই এই কর্মপরিকল্পনা করেছে সরকার।

সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, সারাদেশে সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে বেশ কিছু অগ্রাধিকারভিত্তিক মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান পূর্বশর্তই হচ্ছে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও এক্সেপ্রেসওয়ে নির্মাণ এরই অংশ। এসব মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ হলে রাজধানীসহ সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। রাজধানীর সঙ্গে পাশর্^বর্তী জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজ করা জরুরি। এজন্যই আরো কয়েকটি মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করছে। সম্ভাব্যতা যাচাই, অর্থায়ন, ভূমি অধিগ্রহণ, কারিগরি সহায়তাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের টার্গেট নিয়েছে।

সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার আরো উন্নতির জন্য বিভিন্ন ধরনের কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে মেট্রোরেল প্রকল্পও রয়েছে। মেট্রোরেল সহজে বেশি মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ভ‚মিকা রাখে। এজন্যই মেট্রোরেল প্রকল্পকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

সড়ক বিভাগের এক কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর মেট্রোরেল প্রকল্পসহ সরকার মোট ৬টি মেট্রোরেল প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এরমধ্যে রাজধানীর মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ প্রায় অর্ধেক এগিয়েছে। করোনার কারণে মেট্রোরেলের কাজ পিছিয়ে যাওয়ার পরেও আগামী বছরের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ করার জোর চেষ্টা চলছে।

এছাড়া ঢাকা থেকে আশুলিয়া, ঢাকা থেকে গাজীপুর, ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকা থেকে পূর্বাচল সিটির সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজতর করতে মেট্রোরেলের কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা থেকে এইসব রুটে মেট্রোরেলের মাধ্যমেই লোকজন সহজে যাতায়াত করতে পারবে। এখন এসব প্রকল্পের সমীক্ষা চলছে। এরপর ভ‚মি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হবে। মেট্রোরেলের পাশাপাশি উড়াল সড়ক ও পাতালরেলও নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই রুটগুলোর দৈর্ঘ্য হবে ১২৮ কিলোমিটার।

সংশ্লিষ্টরা জানান, উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণ কাজের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। এই রুটের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত করার আলোচনা চলছে। সেক্ষেত্রে কমলাপুর থেকেই নারায়ণগঞ্জের মেট্রোরেল প্রকল্প নির্মাণ করা হতে পারে। তা না হলে মতিঝিল থেকেও নির্মাণ হতে পারে। অপরদিকে উত্তরা থেকেই গাজীপুর, পূর্বাচল ও আশুলিয়ায় যাতায়াতের জন্য মেট্রোরেল আরো বর্ধিত করা হবে। এজন্য আলাদা প্রকল্প নেয়া হয়েছে। আশুলিয়া, গাজীপুর, পূর্বাচল ও নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে মেট্রোরেলের সংযোগ ঘটলে এসব এলাকার মানুষ সহজেই ঢাকায় আসা-যাওয়া করতে পারবে। রাজধানীর ওপর চাপ কমবে।

এদিকে, করোনার কারণে রাজধানীর মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। লকডাউন ও করোনায় অসুস্থতার কারণে কাজ সোয়া দুই মাস বন্ধ ছিল। এখন কাজ শুরু হলেও নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক জানান, উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রথম অংশের কাজ গত জুন মাসে শেষ হয়ে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে তা সম্ভব না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এই প্রকল্পে কর্মরত সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে উত্তরার পঞ্চবটি কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ১৪ শয্যাবিশিষ্ট এবং গাবতলীর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ১০ শয্যার আলাদা দুটি ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি উদযাপন বর্ষ ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়