৮ টি সাংগঠনিক টিম নিয়ে যা বললেন কাদের

আগের সংবাদ

সহসভাপতি পদে তাবিথ-মহির টাই

পরের সংবাদ

বিত্তবানদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা স্বামীর

সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারাল স্ত্রী, জীবন সংকটাপন্ন

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২০ , ৯:১০ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০২০ , ১০:৪১ অপরাহ্ণ

পঙ্গুত্বকেই এখন ভাগ্য হিসেবে মেনে নিতে হচ্ছে অসহায় নারী মুক্তাকে। ইতোমধ্যেই চিকিৎসকরা তার ডান পা কেটে ফেলে দিয়েছে। ৭২ ঘন্টার মধ্যে যদি বাম পায়ে রক্ত সঞ্চালন না হয় তাও কেটে ফেলতে হবে। এমনটি বলছেন, চিকিৎসকরা। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে হিমশিম খাচ্ছে তার দিনমজুর স্বামী।

দিনমজুর উবাদুল্লাহ স্ত্রী মুক্তা আক্তার। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের দরুইন গ্রামে। তিন শিশু সন্তানের জননী তিনি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কসবা-আখাউড়া সড়কের দরুইন নামক এলাকায় রান্নার জন্য লাকড়ি কুড়িয়ে বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার দুই পা কয়েক টুকরো হয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করে তার একটি পা হাঁটু পর্যন্ত কেটে ফেলে দেয়। অপর পায়েও রক্ত সঞ্চালন না হলে কেটে ফেলা হবে।

মুক্তার স্বামী উবাদুল্লাহ জানায়, স্থানীয় ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তার স্ত্রীর প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়েছেন। সেখানে প্রতিদিন চিকিৎসা বাবদ ৪/৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বাড়ি থেকে ধার-দেনা করেও কিছু টাকা ঢাকায় পাঠিয়েছেন। বর্তমানে এই ব্যয় বহুল চিকিৎসার খরচ চালিয়ে যাওয়ার মতো হাতে আর কোনো টাকা নেই।

ডাক্তার বলছেন, তাঁর স্ত্রীকে সুস্থ করে তুলতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ হবে। দিনমজুর উবাদুল্লাহ এখন নিরুপায় পড়েছেন। স্ত্রীকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের কাছে তিনি সাহায্য প্রার্থনা করছেন।

প্রতিবেশী রতন পারভেজ জানায়, মুক্তার স্বামী উবাদুল্লাহ পেশায় একজন মাটি কাটার শ্রমিক। তার স্ত্রীর জীবন এখন সংকটাপন্ন। ইতোমধ্যেই তার স্ত্রী এক পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। মারা গেলে তিনটি শিশুই এতিম হয়ে যাবে। সবাই একটু করে সাহায্য করলে একটি জীবন বেঁচে যাবে। অন্তত তিনটি শিশু এতিম হবে না।

উল্লেখ্য, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ) সন্ধ্যায় আখাউড়া- কসবা সড়কের দরুইন নামক এলাকায় একটি বেপরোয়া মাইক্রোবাস চাপা দিলে মুক্তা আক্তারের দুটি পা ভেঙে যায়। এ সময় মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পড়ে থাকা একটি গাছে আটকা পড়ে। জনতার উপস্থিতি টের পেয়ে চালক মাইক্রোবাস ফেলে পালিয়ে যায়।

আখাউড়া থানা অফিসার ইনচার্জ রসুল আহমেদ নিজামী বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। জনতার সাহায্যে আমরা মাইক্রোবাসটি জব্দ করেছি। দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়া হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়