চার কোটি বাঙালি মানুষ একজন

আগের সংবাদ

সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ কবি

পরের সংবাদ

সামাজিক অপরাধ ও প্রতিকার

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১, ২০২০ , ৯:২২ অপরাহ্ণ

দেশে রাজনৈতিক কারণে খুনাখুনির ঘটনা কমেছে। তবে সামাজিক অস্থিরতার কারণে খুনের ঘটনা বাড়ছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, ইদানীং দেশে সামাজিক অপরাধের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এখনই যদি এ অবস্থা প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া না হয় তবে তা মহামারির রূপ নেবে। পত্রপত্রিকার পাতা খুললেই এখন দেখা যায় ধর্ষণ, খুন যেন সাধারণ বিষয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্তানের হাতে বাবা খুন, বাবা কিংবা মায়ের হাতে সন্তান, স্বামীর হাতে স্ত্রী, স্ত্রীর হাতে স্বামী অথবা ভাইয়ের হাতে ভাই। এমন সংবাদ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে সচেতন নাগরিক এমনকি জনসাধারণের মাঝে। করোনা সংকটকালীনও প্রতিদিনই ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় সমালোচনা ঝড় উঠেছে দেশজুড়ে। এছাড়া সাভারে নীলা রায় নামে ছাত্রী বখাটের হাতে খুন হওয়ার ঘটনা সামাজিক অবক্ষয়ের ভয়াবহতার কথা জানান দিচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলো বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। এমন ঘটনা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়াবে, সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। শিশু হত্যা, শিশু ধর্ষণ, গণধর্ষণ, পারিবারিক ও সামাজিক কোন্দলে আহত ও নিহত, নারী নির্যাতন, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা প্রায় দেখছি আমরা। পারিবারিক দ্বন্দ্ব, প্রেমে ব্যর্থতা, অভিমান, রাগ ও যৌন হয়রানি, পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল, এমনকি পছন্দের পোশাক কিনতে না পারার কারণেও আত্মহত্যার ঘটনাও কম নয়। সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতিটি পরিবারেরই ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা থাকে। আর অনেক কারণ একত্রিত হয়ে এ ধরনের পারিবারিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। তবে এর পেছনে উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে হতাশা, পরকীয়া, আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যাওয়া, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ইত্যাদি। নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের অভাবে পরিবারিক বন্ধন ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি সহনশীলতার মাত্রা কমে যাচ্ছে, সামাজিক অস্থিরতার কারণে জীবনে বাড়ছে হতাশা, মানসিক বিষণ্ণতা, আর্থিক দৈন্য। ফলে সমাজে বেড়ে চলেছে অপরাধও। এই অপরাধ এখন পরিবারে ঢুকে পড়েছে। অন্যদিকে সমাজে ভোগবাদী প্রবণতা বাড়াও এর একটি কারণ। সমাজের একাংশ এতটাই ভোগবিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, এই সমাজে পারিবারিক কাঠামো থাকলেও তা নামমাত্র। কোনো ধরনের স্বাভাবিক বোঝাপড়া তাদের মধ্যে নেই। ফলে বাবা-মা-সন্তানের মধ্যেও স্নেহের বন্ধন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া চলচ্চিত্র এবং সমাজ বাস্তবতা থেকেও অপরাধের পাঠ নিচ্ছে কিশোর-তরুণরা। অনুকরণের মাধ্যমেও অনেক অপরাধ ঘটছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারিবারিক বন্ধন জোরদার করতে হবে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে হবে। চাহিদা এবং প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান কমাতে হবে। ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে নৈতিক শিক্ষা এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হবে। ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক তৎপরতা বাড়াতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। সমাজে বিদগ্ধজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

ডিসি