বাবলি

আগের সংবাদ

পেঁয়াজ নিয়ে হৈ-হুল্লোড় কবে শেষ হবে?

পরের সংবাদ

এই মর্মব্যথা কোথায় রাখি

সুকান্ত দাস

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১, ২০২০ , ৯:১১ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নারীর প্রতি সহিংসতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দুদিনের ব্যবধানে দেশের চার জায়গায় চারজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনই গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। খাগড়াছড়িতে বলপাইয়া আদামে ডাকাতি করার পর এক প্রতিবন্ধী মেয়েকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। নরপশুর দল হাত-পা বেঁধে টানা দুই ঘণ্টা ধরে ৯ বার ধর্ষণ করে মেয়েটিকে। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করা হয়েছে। এ সময় তার মাকে মারধর করে আটকে রাখা হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে নিজ গাড়িতে বসে গল্প করছিলেন স্বামী-স্ত্রী। এ সময় পাঁচ জন তরুণ তাদের আটক করে। দুজন স্বামীকে গাড়িতে আটকে রাখে এবং তিনজন স্ত্রীকে জোর করে ৭নং বøকের সামনে নিয়ে যায়। মেয়েটিকে গণধর্ষণ করা হয়। ধর্ষকরা ওই কলেজের সাবেক এবং বর্তমান ছাত্র ও ছাত্রলীগের নেতা বলে জানা যায়। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফরিদপুর থেকে একটি মেয়েকে ডেকে এনে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। পরে মেয়েটি পালিয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ করে। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার এক গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন তার দুই ভাসুরের নামে। দিনের পর দিন তাকে ধর্ষণ করে এই দুজন।

এটা এমন একটা দেশের দুদিনের ঘটনা যে দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধী দলের নেত্রী নারী, মহান জাতীয় সংসদের স্পিকার নারী, শিক্ষামন্ত্রীসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নারীরা রয়েছেন। বাংলাদেশে ৩০ বছর ধরে নারীরা প্রধানমন্ত্রী আছেন। এতদিন ধরে সরকার কাঠামোতে নারী প্রাধান্য থাকায় ধর্ষণের মতো এমন একটা জঘন্য কাজকে প্রতিহত করার মতো আজো পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না দেখে আমরা আমাদের মা-বোনদের জন্য বিচলিত না হয়ে পারছি না। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা ছিল। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩ লাখ মা-বোন তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন। অনেক মেয়ে পুরুষের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। একটা স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে স্বাধীনতার ৫০ বছর পর প্রতিনিয়ত ধর্ষণ হওয়া কোনোভাবেই মানা যায় না। ধর্ষিতা বোনের বুকের ওপর দিয়ে উন্নয়নের গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। এভাবে চলতে থাকলে দেশের উন্নয়ন থমকে দাঁড়াবে।
করোনা পরিস্থিতিতে সমগ্র বিশ্ব আজ পর্যুদস্ত। এই দুর্দিনে মানুষ মানুষের পাশে থাকবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু এমন ক্রান্তিলগ্নে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সরকারের উচিত অতিসত্বর নতুন আইন প্রণয়ন করা। ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে হবে। প্রচলিত আইনে ধর্ষণের বিচার হতে অনেক সময় লাগে। দ্রুত সময়ে বিচার কাজ সমাপ্ত করে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকার শৃঙ্খলা রক্ষা দক্ষ হাতে করতে হবে। ধর্ষণ প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ধর্ষিতা আমাদেরই কারোর মা কারোর বোন। সবাইকে সচেতন হতে হবে। তা না হলে এই সামাজিক ব্যাধির হাত থেকে আমাদের মা-বোনেরা মুক্তি পাবে না।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
[email protected]

ডিসি